হাওর বার্তা ডেস্কঃ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহনের মুছার খালের গোড়ার উপর দীর্ঘদিন যাবত ভাঙ্গা ব্রিজ রয়েছে। এতে প্রায় শত ফুট লম্বা ওই ভাঙ্গা ব্রিজের ওপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয় প্রায় ৪টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করছে।
গত ৩১ বছর যাবত সাধারণ মানুষ এর কারণে অবনর্ণীয় দুর্ভোগ পোহালেও ব্রিজটি নির্মাণের উদ্দ্যােগের বিষয়টি দেখার যেন কেউই নেই। চররমনী মোহনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মূছার খালের ভবানীগঞ্জ, কালির চর, মতির হাটসহ ৩/৪ টি গ্রামের মানুষ এই ভাঙা ব্রীজের বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন পার হতে হচ্ছে।
মুছার খালে আশে-পাশের ভোগান্তির শিকার মানুষরা জানান, সিরাজুল হক হাওলাদার বাড়ির রহমত খালি খালের সংযোগে মূছার খালের গোড়া এই ব্রিজটি ৮৫ দশকে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের বাস্তবায়ন ও অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়। ব্রিজটি নির্মাণের ৪/৫ বছরের মধ্যে জোয়ার ভাটার পানির ঢেউয়ের কারণে ব্রীজের মাঝখানের দুটি পিলার দেবে যায়। এরপরই উপরে দেখা যায় ফাঁটল। এক পর্যায়ে ব্রীজটি ক্রমেই ভেঙ্গে খালে পড়ে যায়।
কিন্তু র্দীঘ ৩১ বছর অতিবাহিত হলেও নতুন করে ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়নি। নির্মাণে জন্য বিভিন্ন জায়গায় বহু দফতরে আবেদন নিবেদন করা হলেও এলাকাবাসীর সে আবেদনের কোন সুফল আজো কারও গভীর হৃদয়ে পৌঁছেনি।
স্থানীয়রা জানান, লক্ষ্মীপুর সদর ও কমলনগরসহ এই দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াতের জন্য এই ব্রীজটি খুবই গুরত্বপূর্ণ। দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের স্কুল, মাদ্রাসার, কলেজের শিক্ষার্থী, কামার-কুমার, জেলে, তাতি, কৃষক, শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রায় কয়েক হাজার মানুষ বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। কৃষকের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারে আনতে ও পশু পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। যাতায়াতের চরম অসবিধার কারণে এতে তারা প্রায় সময় ন্যায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত বলে জানান অনেকেই।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নজরুল ইসলাম সুন্নু জানান, এ অঞ্চলের মানুষ কৃষি কাজের ওপর নির্ভরশীল। কৃষি উৎপাদন ছাড়া এ এলাকার মানুষের জীবনযাপন ও চলা খুবই মুশকিল। তাই উৎপাদিত ফসল, শাকসবজি, ধান, গম লক্ষ্মীপুর জেলা শহরে নিয়ে যেতে হলে এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। প্রতি বছর এই এলাকার লোকজনের স্বেচ্ছাশ্রম ও সহযোগিতায় বছরে ২ বার ব্রিজের ওপর বাশেঁর সাঁকো তৈরি করা হয়।
তার দাবী, গ্রামের নিরীহ মানুষ ও জনস্বার্থে অতি দ্রুত এখানে নতুন করে ব্রিজ নির্মাণ করা হলে লোকজনের যাতায়াতের একটি নতুন দিগন্ত সৃষ্টি হবে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রত সহযোগিতা ও পদক্ষেপ কামনা করার আশা ব্যক্ত করেন এই ইউপি সদস্য।
Reporter Name 
























