নিজাম তালুকদার (নেত্রকোনা): নেত্রকোনার মদন উপজেলায় হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ শেষ হলেও বিলের টাকা না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা। ব্যক্তিগত অর্থ ও ঋণ নিয়ে কাজ শেষ করলেও দীর্ঘসূত্রতায় অর্থ ছাড় না হওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সরেজমিনে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় মদন উপজেলায় ২১ দশমিক ২৪৮ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ সংস্কারের জন্য ১৯টি পিআইসি গঠন করা হয়। এ জন্য স্থানীয়ভাবে ৬ কোটি ১০ লাখ টাকার চাহিদা জানানো হলেও বোর্ড কর্তৃপক্ষ বরাদ্দ নির্ধারণ করে ৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে মাত্র ৬৩ লাখ টাকা ছাড় করা হয়।
নিয়ম অনুযায়ী কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে চার কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত পিআইসিগুলো পেয়েছে মাত্র ৩৬ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের তুলনায় অত্যন্ত কম। কাজ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় মাস পার হলেও বাকি কিস্তির অর্থ ছাড় না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বিল পরিশোধ না হওয়ায় শ্রমিকদের পাওনা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন পিআইসি সদস্যরা। অনেকেই ঋণ নিয়ে কাজ সম্পন্ন করায় আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।
খালিয়াজুরী এফসিডি প্রকল্পের পোল্ডার-৪ (মদন উপজেলার মাঘান অংশ) এর একটি পিআইসি’র সদস্য সচিব রহিম মিয়া বলেন, “আমাদের প্রকল্পে ২৬ লাখ ২২ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও এখন পর্যন্ত পেয়েছি মাত্র ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। শ্রমিকদের টাকা দিতে না পেরে চরম বিপাকে আছি, এমনকি পালিয়ে থাকতে হচ্ছে।”
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার শফি জানান, “বেড়িবাঁধের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু বিল না পাওয়ায় শ্রমিকদের টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না পিআইসি সদস্যরা। অনেকেই ঋণ করে শ্রমিকদের টাকা দিয়েছেন। দ্রুত বিল ছাড়ের জন্য ইউএনও মহোদয়ের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বেড়িবাঁধ স্কিম কমিটির সভাপতি বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, “পিআইসি সভাপতি ও সদস্য সচিবদের সঙ্গে সভা হয়েছে। খুব দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, সময়মতো বিল পরিশোধ না হলে ভবিষ্যতে এমন গুরুত্বপূর্ণ ফসল রক্ষা প্রকল্পে আগ্রহ হারাতে পারেন সংশ্লিষ্টরা, যা হাওর অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
Reporter Name 
























