ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক বগুড়াকে আধুনিক শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী আগামী বৈশাখ থেকে প্রতি জেলায় হবে গ্রামীণ খেলাধুলা : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জুন মাসের মধ্যে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর স্বৈরাচারের ভূত আছর করেছে : প্রধানমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই শুরু হবে বিশেষ অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশাখী সাজে শোবিজ তারকারা জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বিএনপি বাস্তবায়ন করবে: প্রধানমন্ত্রী হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ‘লাল কাপড়ের মোড়ানো খাতা’ কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী

হাওর মন্ত্রণালয়সহ ৭ দফা দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:৪৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৩ বার

দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভরসা হাওরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্বতন্ত্র ‘হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনসহ ৭ দফা দাবি জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন হাওরবাসীর প্রতিনিধিরা।

চিঠিতে হাওরাঞ্চলকে বাংলাদেশের ‘অন্নভাণ্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, এই অঞ্চলের বিস্তীর্ণ জলরাশি ও উর্বর জমিতে উৎপাদিত ধান দেশের খাদ্য চাহিদার বড় অংশ পূরণ করে। পাশাপাশি মিঠাপানির মাছ জাতীয় আমিষের একটি উল্লেখযোগ্য জোগান দেয়। তবুও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই জনপদ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, অনিশ্চয়তা ও দুর্যোগের চক্রে বন্দি হয়ে রয়েছে।

প্রতিবছর পাহাড়ি ঢল ও অকাল বন্যার আঘাতে হাওরের ফসল তলিয়ে যায়। কৃষকের বছরের একমাত্র সম্বল মুহূর্তেই বিনষ্ট হয়ে পড়লেও টেকসই ও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থার অভাবে সংকটের স্থায়ী সমাধান মিলছে না। চিঠিতে বলা হয়, বিচ্ছিন্ন ও প্রকল্পভিত্তিক উদ্যোগ নয়, বরং সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমেই হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

এ প্রেক্ষাপটে পার্বত্য এলাকার মতো হাওরাঞ্চলের জন্য পৃথক একটি মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানানো হয়। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসবে এবং হাওরাঞ্চলের সমস্যা ও সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
খোলা চিঠিতে উত্থাপিত ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
স্বতন্ত্র হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, নদী-নালা ও খাল-বিল পুনঃখনন এবং দখলমুক্তকরণ, বাজিতপুর-লাখাই সড়ককে ঢাকা-ময়মনসিংহ-সিলেট সংযোগকারী আধুনিক বাইপাস মহাসড়কে উন্নীতকরণ, হাওরাঞ্চলে বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু, কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক শিল্পাঞ্চল ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং হাওরভিত্তিক পর্যটন শিল্পের বিকাশ।

এছাড়া চিঠিতে হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে অভিজ্ঞ ও জনসম্পৃক্ত নেতৃত্ব হিসেবে জননেতা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠির শেষাংশে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগই পারে এই অবহেলিত জনপদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে। হাওরবাসী বিশ্বাস করে, দৃঢ় নেতৃত্ব ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এ অঞ্চল আবারও তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।

খোলা চিঠিটি দিয়েছেন অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফায়াজ হাসান বাবু, যিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক

হাওর মন্ত্রণালয়সহ ৭ দফা দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি

আপডেট টাইম : ০১:৪৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভরসা হাওরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্বতন্ত্র ‘হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনসহ ৭ দফা দাবি জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন হাওরবাসীর প্রতিনিধিরা।

চিঠিতে হাওরাঞ্চলকে বাংলাদেশের ‘অন্নভাণ্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, এই অঞ্চলের বিস্তীর্ণ জলরাশি ও উর্বর জমিতে উৎপাদিত ধান দেশের খাদ্য চাহিদার বড় অংশ পূরণ করে। পাশাপাশি মিঠাপানির মাছ জাতীয় আমিষের একটি উল্লেখযোগ্য জোগান দেয়। তবুও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই জনপদ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, অনিশ্চয়তা ও দুর্যোগের চক্রে বন্দি হয়ে রয়েছে।

প্রতিবছর পাহাড়ি ঢল ও অকাল বন্যার আঘাতে হাওরের ফসল তলিয়ে যায়। কৃষকের বছরের একমাত্র সম্বল মুহূর্তেই বিনষ্ট হয়ে পড়লেও টেকসই ও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থার অভাবে সংকটের স্থায়ী সমাধান মিলছে না। চিঠিতে বলা হয়, বিচ্ছিন্ন ও প্রকল্পভিত্তিক উদ্যোগ নয়, বরং সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমেই হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

এ প্রেক্ষাপটে পার্বত্য এলাকার মতো হাওরাঞ্চলের জন্য পৃথক একটি মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানানো হয়। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসবে এবং হাওরাঞ্চলের সমস্যা ও সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
খোলা চিঠিতে উত্থাপিত ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
স্বতন্ত্র হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, নদী-নালা ও খাল-বিল পুনঃখনন এবং দখলমুক্তকরণ, বাজিতপুর-লাখাই সড়ককে ঢাকা-ময়মনসিংহ-সিলেট সংযোগকারী আধুনিক বাইপাস মহাসড়কে উন্নীতকরণ, হাওরাঞ্চলে বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু, কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক শিল্পাঞ্চল ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং হাওরভিত্তিক পর্যটন শিল্পের বিকাশ।

এছাড়া চিঠিতে হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে অভিজ্ঞ ও জনসম্পৃক্ত নেতৃত্ব হিসেবে জননেতা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠির শেষাংশে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগই পারে এই অবহেলিত জনপদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে। হাওরবাসী বিশ্বাস করে, দৃঢ় নেতৃত্ব ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এ অঞ্চল আবারও তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।

খোলা চিঠিটি দিয়েছেন অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফায়াজ হাসান বাবু, যিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।