ঢাকা ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গরম আর লোডশেডিংয়ে নাকাল জনজীবন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫২:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ১ বার

‘সারারাত ঘুমাতে পারি না। রাতে তিন-চারবার বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রতিবার এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে আসে না। একটু ঘুমের মতো এলে আবার বিদ্যুৎ যায়। এভাবে হাঁসফাঁস করতে করতে রাত কাটে। ঘুম না হওয়ায় সারা দিন এলোমেলো লাগে। পরিবারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করি। তাদেরও ঘুম না হওয়ায় মেজাজ খিটখিটে হয়ে গেছে। গাড়ি চালাই ভয়ে ভয়ে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।’ গতকাল শুক্রবার এভাবে বিদ্যুৎ না থাকায় নিজের সমস্যার কথা বলছিলেন সিএনজি অটোরিকশাচালক সিরাজুল ইসলাম। ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীর বাবুবাজার এলাকার পরিবারসহ ভাড়া বাসায় তিনি বসবাস করেন।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, দেশের বেশির ভাগ এলাকায় তীব্র গরমের সঙ্গে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ে জনজীবনে হাঁসফাঁস। রাজধানীসহ শহর এলাকায় লোডশেডিং কিছুটা কম হলেও গ্রামের আট থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎহীন তীব্র গরমে মানুষের যেমন নির্ঘুম রাত কাটছে, স্বাভাবিক কার্যক্রমও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চলতি এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলের আগ্রাসনের পাল্টা জবাবের পর দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে। গত এক সপ্তাহে তাপদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। অপরদিকে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ইউনিটে কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে। ফলে গ্রামের পাশাপাশি সারাদেশেই লোডশেডিং বেড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে চাহিদা বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি থাকায় গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং দিতে হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গরমে অতিষ্ঠ হয়ে রাত জেগে কাটানো এখন গ্রামীণ মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যে নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, তাপদাহের মধ্যে ঘুমের অভাব মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুম কম হলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, খিটখিটে মেজাজ, উদ্বেগ এবং হতাশা বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও গুরুতর হতে পারে।

ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার চুনাঘাটার নাসিমা বেগম বলেন, ‘হরের ভেতরেই বাসা। তারপরও দিনে রাতে সাত-আটবার বিদ্যুৎ চলে যায়। গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় খুব কষ্ট হচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়েকে সারারাত হাত পাখা দিয়ে বাতাস করে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করি। কিন্তু এভাবে আর কতদিন। পরিবারের সবাই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছি।’

এদিকে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শুধু ঘুমের সমস্যা নয়, ব্যাহত হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতিও। ছোট ব্যবসা, কৃষিকাজ, মুরগি ও মাছের খামারসহ সব ক্ষেত্রেই বিদ্যুতের ঘাটতি প্রভাব ফেলছে। গবাদির পশু ও উৎপাদিত দুধ নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন খামারিরা। সেচের কাজে সমস্যা হওয়ায় কৃষকরাও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে গরম বাড়ছে। দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলে মাঝারি তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু জ¦ালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। ফলে দিন দিন বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ছে। গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। সেটা জ¦ালানি সংকটের কারণে এখন সরকারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এখন তাপপ্রবাহ কমে বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে আবহাওয়া অনুকূলে আসলে প্রাকৃতিকভাবে এই সংকট কিছুটা কমতে পারে।

বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৬৪৭ মেগাওয়াট। যার বিপরীতে ওই দিন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ পরিমাণ ১৪ হাজার ৪৬৭ মেগাওয়াট। ঘাটতি প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি। বৃহস্পতিবার সেই ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট। যার মধ্যে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। কিন্তু এখন পর্যন্ত দেশে একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মূলত গ্যাস ও কয়লা নির্ভর। মধ্যপাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটে বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অনেক থাকলেও জ্বালানি সরবরাহ না হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

জ¦ালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানির চিন্তা না করে বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এটা পরিকল্পনাহীতার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জনের লাভ-লোভের ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টে একটি ইউনিটে সমস্যা হওয়ায় এখন তারা অর্ধেক দিতে পারছে। বাঁশখালির এসএস পাওয়ারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তবে আশা করছি সপ্তাহ খানেকের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে আদানি পাওয়ার এবং ২৮ এপ্রিল থেকে বাঁশখালীর এসএস পাওয়ারের আইপিপি প্ল্যান্ট থেকে ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যাতে সংকট কিছুটা কমে আসবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গরম আর লোডশেডিংয়ে নাকাল জনজীবন

আপডেট টাইম : ১০:৫২:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

‘সারারাত ঘুমাতে পারি না। রাতে তিন-চারবার বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রতিবার এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে আসে না। একটু ঘুমের মতো এলে আবার বিদ্যুৎ যায়। এভাবে হাঁসফাঁস করতে করতে রাত কাটে। ঘুম না হওয়ায় সারা দিন এলোমেলো লাগে। পরিবারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করি। তাদেরও ঘুম না হওয়ায় মেজাজ খিটখিটে হয়ে গেছে। গাড়ি চালাই ভয়ে ভয়ে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।’ গতকাল শুক্রবার এভাবে বিদ্যুৎ না থাকায় নিজের সমস্যার কথা বলছিলেন সিএনজি অটোরিকশাচালক সিরাজুল ইসলাম। ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীর বাবুবাজার এলাকার পরিবারসহ ভাড়া বাসায় তিনি বসবাস করেন।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, দেশের বেশির ভাগ এলাকায় তীব্র গরমের সঙ্গে দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ে জনজীবনে হাঁসফাঁস। রাজধানীসহ শহর এলাকায় লোডশেডিং কিছুটা কম হলেও গ্রামের আট থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎহীন তীব্র গরমে মানুষের যেমন নির্ঘুম রাত কাটছে, স্বাভাবিক কার্যক্রমও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চলতি এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলের আগ্রাসনের পাল্টা জবাবের পর দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে। গত এক সপ্তাহে তাপদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। অপরদিকে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ইউনিটে কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে। ফলে গ্রামের পাশাপাশি সারাদেশেই লোডশেডিং বেড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে চাহিদা বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি থাকায় গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং দিতে হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গরমে অতিষ্ঠ হয়ে রাত জেগে কাটানো এখন গ্রামীণ মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যে নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, তাপদাহের মধ্যে ঘুমের অভাব মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুম কম হলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, খিটখিটে মেজাজ, উদ্বেগ এবং হতাশা বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও গুরুতর হতে পারে।

ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার চুনাঘাটার নাসিমা বেগম বলেন, ‘হরের ভেতরেই বাসা। তারপরও দিনে রাতে সাত-আটবার বিদ্যুৎ চলে যায়। গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় খুব কষ্ট হচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়েকে সারারাত হাত পাখা দিয়ে বাতাস করে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করি। কিন্তু এভাবে আর কতদিন। পরিবারের সবাই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছি।’

এদিকে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শুধু ঘুমের সমস্যা নয়, ব্যাহত হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতিও। ছোট ব্যবসা, কৃষিকাজ, মুরগি ও মাছের খামারসহ সব ক্ষেত্রেই বিদ্যুতের ঘাটতি প্রভাব ফেলছে। গবাদির পশু ও উৎপাদিত দুধ নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন খামারিরা। সেচের কাজে সমস্যা হওয়ায় কৃষকরাও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে গরম বাড়ছে। দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলে মাঝারি তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু জ¦ালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। ফলে দিন দিন বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ছে। গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। সেটা জ¦ালানি সংকটের কারণে এখন সরকারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এখন তাপপ্রবাহ কমে বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে আবহাওয়া অনুকূলে আসলে প্রাকৃতিকভাবে এই সংকট কিছুটা কমতে পারে।

বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৬৪৭ মেগাওয়াট। যার বিপরীতে ওই দিন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ পরিমাণ ১৪ হাজার ৪৬৭ মেগাওয়াট। ঘাটতি প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি। বৃহস্পতিবার সেই ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট। যার মধ্যে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। কিন্তু এখন পর্যন্ত দেশে একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মূলত গ্যাস ও কয়লা নির্ভর। মধ্যপাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটে বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অনেক থাকলেও জ্বালানি সরবরাহ না হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

জ¦ালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানির চিন্তা না করে বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এটা পরিকল্পনাহীতার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জনের লাভ-লোভের ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টে একটি ইউনিটে সমস্যা হওয়ায় এখন তারা অর্ধেক দিতে পারছে। বাঁশখালির এসএস পাওয়ারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তবে আশা করছি সপ্তাহ খানেকের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে আদানি পাওয়ার এবং ২৮ এপ্রিল থেকে বাঁশখালীর এসএস পাওয়ারের আইপিপি প্ল্যান্ট থেকে ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যাতে সংকট কিছুটা কমে আসবে।