ঢাকা ০৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
“ছোট ভাইয়ের জন্মদিনে বড় ভাইয়ের হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতিচারণ—প্রবাসে থেকেও অটুট আত্মার বন্ধন” মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ: রাজনীতি ও শিল্পে সফলতার অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্তে ডিএমপির কড়াকড়ি, না সরালে আইনি ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন পে-স্কেল নিয়ে যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা গুমের সঙ্গে জড়িত কেউ আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না: আইনমন্ত্রী পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন অভিযান পুরোপুরি ব্যর্থ: ইরান স্পিকারের সহধর্মিণীর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে সংবিধানের সমালোচনাকারীরা স্ব-বিরোধিতায় ভুগছেন সংসদে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে আবেগঘন পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী বাধ্যতামূলক অবসর-চাকরিচ্যুতির বিধান রেখে সরকারি চাকরি সংশোধন বিল পাস

“ছোট ভাইয়ের জন্মদিনে বড় ভাইয়ের হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতিচারণ—প্রবাসে থেকেও অটুট আত্মার বন্ধন”

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৮:০২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ০ বার

প্রবাসে থাকা ছোট ভাই শাকিলুর রহমান নিশুর জন্মদিনকে ঘিরে এক আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন তার বড় ভাই। ব্যক্তিগত এই লেখায় উঠে এসেছে পারিবারিক ভালোবাসা, শৈশবের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা, হারিয়ে ফেলা সময়ের বেদনা এবং নাড়ির টানে ফিরে পাওয়ার আকুলতা।

লেখায় তিনি উল্লেখ করেন, নিশুর চেহারায় তিনি যেন বারবার তার প্রয়াত বাবার প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান। মুখের গড়ন, চোখ, নাক—সবকিছুতেই রয়েছে এক অদ্ভুত মিল। সেই কারণেই কখনো কখনো ছোট ভাইকে দেখলে তার মনে হয়, তিনি যেন বাবাকেই ফিরে পেয়েছেন।

জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে নিশু তার পরিবারসহ কানাডায় পাড়ি জমান। সময়ের ব্যবধানে দূরত্ব বাড়লেও কমেনি পারিবারিক টান। বরং প্রিয়জনদের অনুপস্থিতি তাকে প্রতিনিয়ত নাড়া দেয়। নিশুর স্ত্রী সালমা ও সন্তানদের প্রতিও তার গভীর আবেগ ও স্নেহের প্রকাশ ঘটেছে লেখাটিতে।

স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কিছু অনন্য উদাহরণ। একসময় যখন তার সন্তানরা ঢাকার বাইরে অবস্থান করতো, তখন নিশু ও তার স্ত্রী নিয়মিত তার জন্য সপ্তাহজুড়ে রান্না করে দিতেন। এমনকি কিশোরগঞ্জে ফিরে যাওয়ার আগেও তারা খাবার প্রস্তুত করে রেখে যেতেন। লেখকের ভাষায়, “এই ছোট ছোট ভালোবাসাগুলোই আসলে জীবনকে পূর্ণ করে।”

বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর যে শূন্যতা পরিবারে তৈরি হয়েছিল, নিশুর প্রবাসজীবন সেই নিঃসঙ্গতাকে আরও গভীর করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে তার সন্তানদের জীবনে ‘ছোট বাবা’ ও ‘ছোট মা’-এর অনুপস্থিতি তাকে ব্যথিত করে।

লেখায় উঠে আসে এক হৃদয়বিদারক শৈশব স্মৃতিও। মিঠামইনের এক প্রমত্ত নালায় স্রোতের পানিতে ভেসে যাওয়ার সময় ছোট ভাইকে বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে দু’জনই তলিয়ে যেতে থাকলেও শেষ মুহূর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তির সাহসী উদ্যোগে তারা প্রাণে রক্ষা পান। সেই ঘটনার পর থেকে দুই ভাইয়ের সম্পর্ক যেন আরও গভীর ও অবিচ্ছেদ্য হয়ে ওঠে।

জীবনের বিভিন্ন সময়ে দুই ভাইয়ের পথ আলাদা হয়েছে—ময়মনসিংহ, ঢাকা, লন্ডন, সুইজারল্যান্ড—তবুও তাদের মধ্যে অদৃশ্য এক বন্ধন সবসময় অটুট থেকেছে। এমনকি বিবাহসূত্রেও তারা একই পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তায় আবদ্ধ হয়ে সেই বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছেন।

মায়ের একটি স্মৃতিও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মা বিশ্বাস করতেন, দুই ভাইয়ের ভাগ্য যেন এক সুতোয় গাঁথা—তারা সবসময় একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। সময়ের পরিক্রমায় সেই বিশ্বাসের গভীরতা তিনি আজ আরও স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেন।

সবশেষে, ছোট ভাইয়ের উদ্দেশে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি তার সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও সুখ কামনা করেন। একই সঙ্গে অন্তরের গভীর আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন—প্রবাসজীবন শেষে একদিন যেন ভাই ফিরে আসে আপন ঠিকানায়, পরিবারের সবার কাছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

“ছোট ভাইয়ের জন্মদিনে বড় ভাইয়ের হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতিচারণ—প্রবাসে থেকেও অটুট আত্মার বন্ধন”

“ছোট ভাইয়ের জন্মদিনে বড় ভাইয়ের হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতিচারণ—প্রবাসে থেকেও অটুট আত্মার বন্ধন”

আপডেট টাইম : ০৮:০২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রবাসে থাকা ছোট ভাই শাকিলুর রহমান নিশুর জন্মদিনকে ঘিরে এক আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন তার বড় ভাই। ব্যক্তিগত এই লেখায় উঠে এসেছে পারিবারিক ভালোবাসা, শৈশবের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা, হারিয়ে ফেলা সময়ের বেদনা এবং নাড়ির টানে ফিরে পাওয়ার আকুলতা।

লেখায় তিনি উল্লেখ করেন, নিশুর চেহারায় তিনি যেন বারবার তার প্রয়াত বাবার প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান। মুখের গড়ন, চোখ, নাক—সবকিছুতেই রয়েছে এক অদ্ভুত মিল। সেই কারণেই কখনো কখনো ছোট ভাইকে দেখলে তার মনে হয়, তিনি যেন বাবাকেই ফিরে পেয়েছেন।

জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে নিশু তার পরিবারসহ কানাডায় পাড়ি জমান। সময়ের ব্যবধানে দূরত্ব বাড়লেও কমেনি পারিবারিক টান। বরং প্রিয়জনদের অনুপস্থিতি তাকে প্রতিনিয়ত নাড়া দেয়। নিশুর স্ত্রী সালমা ও সন্তানদের প্রতিও তার গভীর আবেগ ও স্নেহের প্রকাশ ঘটেছে লেখাটিতে।

স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কিছু অনন্য উদাহরণ। একসময় যখন তার সন্তানরা ঢাকার বাইরে অবস্থান করতো, তখন নিশু ও তার স্ত্রী নিয়মিত তার জন্য সপ্তাহজুড়ে রান্না করে দিতেন। এমনকি কিশোরগঞ্জে ফিরে যাওয়ার আগেও তারা খাবার প্রস্তুত করে রেখে যেতেন। লেখকের ভাষায়, “এই ছোট ছোট ভালোবাসাগুলোই আসলে জীবনকে পূর্ণ করে।”

বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর যে শূন্যতা পরিবারে তৈরি হয়েছিল, নিশুর প্রবাসজীবন সেই নিঃসঙ্গতাকে আরও গভীর করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে তার সন্তানদের জীবনে ‘ছোট বাবা’ ও ‘ছোট মা’-এর অনুপস্থিতি তাকে ব্যথিত করে।

লেখায় উঠে আসে এক হৃদয়বিদারক শৈশব স্মৃতিও। মিঠামইনের এক প্রমত্ত নালায় স্রোতের পানিতে ভেসে যাওয়ার সময় ছোট ভাইকে বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে দু’জনই তলিয়ে যেতে থাকলেও শেষ মুহূর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তির সাহসী উদ্যোগে তারা প্রাণে রক্ষা পান। সেই ঘটনার পর থেকে দুই ভাইয়ের সম্পর্ক যেন আরও গভীর ও অবিচ্ছেদ্য হয়ে ওঠে।

জীবনের বিভিন্ন সময়ে দুই ভাইয়ের পথ আলাদা হয়েছে—ময়মনসিংহ, ঢাকা, লন্ডন, সুইজারল্যান্ড—তবুও তাদের মধ্যে অদৃশ্য এক বন্ধন সবসময় অটুট থেকেছে। এমনকি বিবাহসূত্রেও তারা একই পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তায় আবদ্ধ হয়ে সেই বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছেন।

মায়ের একটি স্মৃতিও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মা বিশ্বাস করতেন, দুই ভাইয়ের ভাগ্য যেন এক সুতোয় গাঁথা—তারা সবসময় একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। সময়ের পরিক্রমায় সেই বিশ্বাসের গভীরতা তিনি আজ আরও স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেন।

সবশেষে, ছোট ভাইয়ের উদ্দেশে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি তার সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও সুখ কামনা করেন। একই সঙ্গে অন্তরের গভীর আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন—প্রবাসজীবন শেষে একদিন যেন ভাই ফিরে আসে আপন ঠিকানায়, পরিবারের সবার কাছে।