ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মহাসড়কের বুক চিরে প্রকৃতির রঙিন সৌন্দর্য বিদ্যালয়ে ভর্তিতে লটারি বাতিলের দাবি মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের দাবিতে ভিকারুননিসা অ্যালামনাইয়ের ব্যাখ্যা যে ৭ সবজি অতিরিক্ত খেলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে যে পাঁচটি সিনেমা ভ্রমণপিপাসুদের অবশ্যই দেখা উচিত সৌদিতে মিসাইল হামলায় দগ্ধ প্রবাসী মামুনের মৃত্যু ঈদের ছুটিতে প্রায় ফাঁকা রাজধানী দেশে প্রথমবারের মতো চালু পেট অ্যাম্বুলেন্স, নেটিজেনদের প্রশংসা নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা প্রধান লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা ইরানের অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে নুতন এআই টুল আনছে মেটা

চাঁই বিক্রি করে এখন আর জীবন চলে না কারিগরদের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮
  • ২৮১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ চাঁই বিক্রি করে এখন আর জীবন চলে না কারিগরদের। চাঁইয়ের বুননে বুননে মিশে রয়েছে তাদের কষ্টগাঁথা জীবন। শত কষ্টের মাঝে ধারদেনায় পুঁজি খাঁটিয়ে বাপ-দাদার পেশাটি আঁকড়ে ধরে আছেন চাঁই কারিগররা। গ্রামের নাম বীর হাতিজা। গ্রামটির মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে জামালপুরের মেলান্দহ-ইসলামপুর উপজেলার সীমান্ত রেখা। এখানে বাস করে ২৫০টি পরিবারে সাত শতাধিক মানুষ।

এ গ্রামের অধিকাংশই বংশ পরম্পরা ক্ষুদ্র কুটির শিল্প মাছধরার চাঁই তৈরির পেশার সাথে জড়িত। গ্রামটি চাঁই গ্রাম নামে পরিচিতি পেয়েছে। গ্রামের প্রত্যেকটা বাড়ি যেন চাঁই তৈরির ক্ষুদ্র কুটির শিল্প কারখানা। পরিবারের শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সারাদিন চাঁই তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটে তাদের। বাশেঁর তৈরি এ পণ্যটি কোথাও বলে চাঁই, কোথাও বাইর, আবার কোন স্থানে দারকি। একেক এলাকায় মাছ ধরার চাঁই একেক নামে পরিচিত।

ক্ষুদ্র এই কুটির শিল্পটি গার্মেন্টস শিল্পের মতো। চাঁই তৈরির নারী কারিগর মনোয়ারা বেগম বলেন, পুরো চাঁই একজনে তৈরি করে না। একেকজন একেক অংশ তৈরি করে। প্রথমে বাঁশ কেটে কাঠি তৈরি, তারপর শলা, পা দিয়ে ডলা, গুনন, বুনন, গাঁথুনী, ফিটিং সবশেষে কর্নার বেঁধে চাঁইয়ের পূর্ণরূপ দেয় কারিগররা।

প্রতিটি চাঁই তৈরিতে খরচ হয় ১২০ টাকা, তা বাজারে বিক্রি করি দুইশ টাকায়। অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ ও ফাল্গুন মাসে মাছ ধরার মৌসুমে পণ্যটির ব্যাপক চাহিদা। এখানকার তৈরি চাঁই ঢাকার বিক্রমপুর, কলিগঞ্জ, টঙ্গি ও জয়দেবপুর, সিলেটসহ দেশের বিভিন্নস্থানে বিক্রি হয়ে থাকে।

৬৫ বছর বয়সী ময়নাল হোসেন বলেন, প্রত্যেক পরিবারের প্রতিটি সদস্য চাঁই কারিগর। জন্মের পর থেকে মা-বাবার চাঁই তৈরি দেখে চার-পাঁচ বছর বয়সে চাঁই কারিগর হয়ে উঠে এখানকার শিশুরা। পাঁচ বছর বয়সে বাবা মা’র কাছে চাঁই বানানো শিখেছে সে। ৬০ বছর ধরে চাঁই তৈরি করে আসছেন। খরচ বাদ দিয়ে যে কয়টাকা লাভ হয় তা দিয়ে সংসার চলে না। শত অভাবের পরও বাপ-দাদার পেশাটি আঁকড়ে ধরে আছেন এই বৃদ্ধ।

কথা হয়, বাচ্চু শেখ নামে এক চাঁই কারিগরের সাথে। তিনি বলেন, চার মাস আগে বন্যা হওয়ার কথা ছিল। সুদে ঋণ নিয়ে পুঁজি খাটিয়ে নিজে ও কারিগর দিয়ে চাঁই তৈরি করেছি। বন্যার পানি খাল বিলে না আসায় চাঁই বিক্রি হয়নি। বিক্রি না হওয়া তৈরি চাঁই ঘরে স্তূপ আকারে পড়ে আছে। বিক্রি করে লাভের মুখ না দেখলেও সুদের টাকা গুণতে হচ্ছে।

ছমিরন বেগম বলেন, ঘরে প্রচুর চাঁই মজুদ রয়েছে। দাদন ব্যবসায়ীর সুদের টাকা পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। বাঁশজাত এ শিল্পটি পুজিঁর অভাবে ঋণের ফাঁদে পড়ে লাভের অংশ দাদনের সুদ গুনতে হয়। মাস শেষে কানাকড়িও হাতে থাকে না।

সরকারি পৃষ্টপোষকতার অভাবে অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে ক্ষুদ্র কুটির শিল্পটি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) জামালপুরের ভারপ্রাপ্ত সহকারী ব্যবস্থাপক সম্রাট আকবর জানান, পুঁজির অভাবে সংকটের মুখে ক্ষুদ্র কুটির শিল্প দারকি তৈরির কারিগরদের সহজ শর্তে ঋণ প্রকল্পের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। ঋণ প্রস্তাবনা পাস হলে ক্ষুদ্র কুটির শিল্পটি আরো সমৃদ্ধ হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মহাসড়কের বুক চিরে প্রকৃতির রঙিন সৌন্দর্য

চাঁই বিক্রি করে এখন আর জীবন চলে না কারিগরদের

আপডেট টাইম : ১১:৪৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ চাঁই বিক্রি করে এখন আর জীবন চলে না কারিগরদের। চাঁইয়ের বুননে বুননে মিশে রয়েছে তাদের কষ্টগাঁথা জীবন। শত কষ্টের মাঝে ধারদেনায় পুঁজি খাঁটিয়ে বাপ-দাদার পেশাটি আঁকড়ে ধরে আছেন চাঁই কারিগররা। গ্রামের নাম বীর হাতিজা। গ্রামটির মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে জামালপুরের মেলান্দহ-ইসলামপুর উপজেলার সীমান্ত রেখা। এখানে বাস করে ২৫০টি পরিবারে সাত শতাধিক মানুষ।

এ গ্রামের অধিকাংশই বংশ পরম্পরা ক্ষুদ্র কুটির শিল্প মাছধরার চাঁই তৈরির পেশার সাথে জড়িত। গ্রামটি চাঁই গ্রাম নামে পরিচিতি পেয়েছে। গ্রামের প্রত্যেকটা বাড়ি যেন চাঁই তৈরির ক্ষুদ্র কুটির শিল্প কারখানা। পরিবারের শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সারাদিন চাঁই তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটে তাদের। বাশেঁর তৈরি এ পণ্যটি কোথাও বলে চাঁই, কোথাও বাইর, আবার কোন স্থানে দারকি। একেক এলাকায় মাছ ধরার চাঁই একেক নামে পরিচিত।

ক্ষুদ্র এই কুটির শিল্পটি গার্মেন্টস শিল্পের মতো। চাঁই তৈরির নারী কারিগর মনোয়ারা বেগম বলেন, পুরো চাঁই একজনে তৈরি করে না। একেকজন একেক অংশ তৈরি করে। প্রথমে বাঁশ কেটে কাঠি তৈরি, তারপর শলা, পা দিয়ে ডলা, গুনন, বুনন, গাঁথুনী, ফিটিং সবশেষে কর্নার বেঁধে চাঁইয়ের পূর্ণরূপ দেয় কারিগররা।

প্রতিটি চাঁই তৈরিতে খরচ হয় ১২০ টাকা, তা বাজারে বিক্রি করি দুইশ টাকায়। অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ ও ফাল্গুন মাসে মাছ ধরার মৌসুমে পণ্যটির ব্যাপক চাহিদা। এখানকার তৈরি চাঁই ঢাকার বিক্রমপুর, কলিগঞ্জ, টঙ্গি ও জয়দেবপুর, সিলেটসহ দেশের বিভিন্নস্থানে বিক্রি হয়ে থাকে।

৬৫ বছর বয়সী ময়নাল হোসেন বলেন, প্রত্যেক পরিবারের প্রতিটি সদস্য চাঁই কারিগর। জন্মের পর থেকে মা-বাবার চাঁই তৈরি দেখে চার-পাঁচ বছর বয়সে চাঁই কারিগর হয়ে উঠে এখানকার শিশুরা। পাঁচ বছর বয়সে বাবা মা’র কাছে চাঁই বানানো শিখেছে সে। ৬০ বছর ধরে চাঁই তৈরি করে আসছেন। খরচ বাদ দিয়ে যে কয়টাকা লাভ হয় তা দিয়ে সংসার চলে না। শত অভাবের পরও বাপ-দাদার পেশাটি আঁকড়ে ধরে আছেন এই বৃদ্ধ।

কথা হয়, বাচ্চু শেখ নামে এক চাঁই কারিগরের সাথে। তিনি বলেন, চার মাস আগে বন্যা হওয়ার কথা ছিল। সুদে ঋণ নিয়ে পুঁজি খাটিয়ে নিজে ও কারিগর দিয়ে চাঁই তৈরি করেছি। বন্যার পানি খাল বিলে না আসায় চাঁই বিক্রি হয়নি। বিক্রি না হওয়া তৈরি চাঁই ঘরে স্তূপ আকারে পড়ে আছে। বিক্রি করে লাভের মুখ না দেখলেও সুদের টাকা গুণতে হচ্ছে।

ছমিরন বেগম বলেন, ঘরে প্রচুর চাঁই মজুদ রয়েছে। দাদন ব্যবসায়ীর সুদের টাকা পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। বাঁশজাত এ শিল্পটি পুজিঁর অভাবে ঋণের ফাঁদে পড়ে লাভের অংশ দাদনের সুদ গুনতে হয়। মাস শেষে কানাকড়িও হাতে থাকে না।

সরকারি পৃষ্টপোষকতার অভাবে অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে ক্ষুদ্র কুটির শিল্পটি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) জামালপুরের ভারপ্রাপ্ত সহকারী ব্যবস্থাপক সম্রাট আকবর জানান, পুঁজির অভাবে সংকটের মুখে ক্ষুদ্র কুটির শিল্প দারকি তৈরির কারিগরদের সহজ শর্তে ঋণ প্রকল্পের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। ঋণ প্রস্তাবনা পাস হলে ক্ষুদ্র কুটির শিল্পটি আরো সমৃদ্ধ হবে।