ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অসুস্থতায় আদালতে অনুপস্থিত পরীমনি, বাদীপক্ষ বলল- ‘ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ’

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার

আলোচিত বোটক্লাব ভাঙচুর, ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় অভিনেত্রী পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আসামিপক্ষের দাবি, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে পরীমনি আদালতে অনুপস্থিত। কিন্তু বাদীপক্ষ বিরোধিতা করে বলেছেন, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান শুনানি শেষে আসামির জামিন নামঞ্জুর করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এদিন মামলাটি সাক্ষীর জন্য ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে হাজির না হয়ে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন।

আইনজীবী আবেদনে উল্লেখ করেন, অ্যালার্জিজনিত কারণে আসামি পরীমনি অসুস্থ। এ কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। তবে আসামির আবেদনে আপত্তি জানিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করে বলেন, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে না এসে সময়ের আবেদন দাখিল করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। পরে আদালত সময়ের আবেদনটি নাকচ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্যের জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

এরআগে ২০২২ সালের ৬ জুলাই আদালতে নাসির উদ্দিন এ মামলা করেন। মামলায় পরীমনি ছাড়াও তার দুই সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটিতে ২০২৫ সালের ২৬ জুন অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওইদিন পরীমনি আদালতে হাজির না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরদিন পরীমণি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পরীমনি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহলসেবী। ২০২১ সালের ৮ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন। এরপর নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্ট করাসহ মদের বোতল বিনামূল্যে নিয়ে যেতে চান। কিন্তু না দিতে চাইলে ক্লাব ভাঙচুর করেন পরীমনি।

এরপর রাত সোয়া ১টার দিকে বাদী নাসির ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে ডাক দেন। একপর্যায়ে পরীমনি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেয়ার জন্য চাপ দেন।

বাদী এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি গালমন্দ করেন। তাদের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমনি বাদীর দিকে একটি সারভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনটিও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথায় এবং বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৪ জুন ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে পরীমনি ঢাকার সাভার থানায় মামলা করেন। পরীমনির বিরুদ্ধেও মাদক মামলা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

অসুস্থতায় আদালতে অনুপস্থিত পরীমনি, বাদীপক্ষ বলল- ‘ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ’

আপডেট টাইম : ১১:০৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

আলোচিত বোটক্লাব ভাঙচুর, ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় অভিনেত্রী পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আসামিপক্ষের দাবি, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে পরীমনি আদালতে অনুপস্থিত। কিন্তু বাদীপক্ষ বিরোধিতা করে বলেছেন, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান শুনানি শেষে আসামির জামিন নামঞ্জুর করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এদিন মামলাটি সাক্ষীর জন্য ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে হাজির না হয়ে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন।

আইনজীবী আবেদনে উল্লেখ করেন, অ্যালার্জিজনিত কারণে আসামি পরীমনি অসুস্থ। এ কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। তবে আসামির আবেদনে আপত্তি জানিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করে বলেন, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে না এসে সময়ের আবেদন দাখিল করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। পরে আদালত সময়ের আবেদনটি নাকচ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্যের জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

এরআগে ২০২২ সালের ৬ জুলাই আদালতে নাসির উদ্দিন এ মামলা করেন। মামলায় পরীমনি ছাড়াও তার দুই সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটিতে ২০২৫ সালের ২৬ জুন অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওইদিন পরীমনি আদালতে হাজির না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরদিন পরীমণি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পরীমনি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহলসেবী। ২০২১ সালের ৮ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন। এরপর নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্ট করাসহ মদের বোতল বিনামূল্যে নিয়ে যেতে চান। কিন্তু না দিতে চাইলে ক্লাব ভাঙচুর করেন পরীমনি।

এরপর রাত সোয়া ১টার দিকে বাদী নাসির ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে ডাক দেন। একপর্যায়ে পরীমনি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেয়ার জন্য চাপ দেন।

বাদী এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি গালমন্দ করেন। তাদের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমনি বাদীর দিকে একটি সারভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনটিও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথায় এবং বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৪ জুন ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে পরীমনি ঢাকার সাভার থানায় মামলা করেন। পরীমনির বিরুদ্ধেও মাদক মামলা হয়।