ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিবাহবার্ষিকীতে খোলা চিঠি: তুমি আমার জীবনের প্রথম ও শেষ প্রেরণাময়ী নারী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ১১ বার

Oplus_16908288

প্রিয়তমা হৃদয়ের রানি,

জীবনের এতগুলো বছর একসঙ্গে পথ চলার পরও তোমাকে নিয়ে আমার মুগ্ধতা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার যেন কোনো শেষ নেই। বরং সময় যত গড়িয়েছে, তোমাকে তত নতুন করে আবিষ্কার করেছি।

তোমার হৃদয়ের গভীরতা, ভালোবাসার বিশালতা, অসাধারণ উদারতা, মানবিকতা ও পরোপকারী সত্তার কাছে বারবার নতুন করে মুগ্ধ হয়েছি। উপলব্ধি করেছি, একজন মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য সময়ের সঙ্গে বদলে গেলেও হৃদয়ের সৌন্দর্য কখনো ম্লান হয় না; বরং ভালোবাসা, মমতা ও মহত্ত্বের স্পর্শে তা আরও দীপ্তিমান হয়ে ওঠে।

আজ আমাদের বিবাহবার্ষিকীতে হৃদয়ের কিছু অব্যক্ত কথা লিখে রাখতে চাই। চাই, এই চিঠি শুধু আজকের ভালোবাসার প্রকাশ হয়ে না থাকুক; বরং আমাদের জীবনের আগামী দিনগুলোতেও ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও কৃতজ্ঞতার এক অমূল্য স্মারক হয়ে বেঁচে থাকুক।
তোমাকে নিয়ে আমার অনুভূতির কিছু কথা কবিতার কয়েকটি পঙ্‌ক্তিতে বলতে চাই—

তুমি মমতার সমুদ্র, ভালোবাসার আলো,
তোমার হাসিতে আমার পৃথিবী লাগে ভালো।
তুমি উদার হৃদয়, মানবতার প্রতিচ্ছবি,
পরের সুখে খুঁজে পাও আনন্দের ছবি।
তুমি সাহসের প্রদীপ, স্বপ্নজয়ের গান,
তোমার বিশ্বাসে জাগে আমার আত্মপ্রত্যয়ী প্রাণ।
তুমি প্রশান্তির নীড়, হৃদয়ের ঠিকানা,
তুমি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি, চিরন্তন প্রেরণা।

হৃদয়েশ্বরী,
২০০২ সালের ৪ নভেম্বর—আমাদের জীবনের সেই অবিস্মরণীয় দিনটির কথা আজও গভীর আবেগে মনে পড়ে। সেদিন পবিত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দুটি হৃদয় শুরু করেছিল একই পথে চলার এক অনন্ত যাত্রা। দুটি ভিন্ন জীবনের স্বপ্ন, প্রত্যাশা, অনুভূতি ও ভালো লাগা একাকার হয়ে গড়ে উঠেছিল আমাদের ভালোবাসার সংসার।

দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ২৪টি বছর। সময়ের স্রোতে জমেছে অসংখ্য স্মৃতি, ভালোবাসা, মায়া, আনন্দ আর টক-ঝাল-মিষ্টি খুনসুটি। কখনো অভিমান, কখনো মান-অভিমান ভাঙানোর মিষ্টি মুহূর্ত; কখনো হাসি-আনন্দে ভরা দিন, আবার কখনো জীবনের কঠিন বাস্তবতায় একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে থাকার নির্ভরতা। সব মিলিয়ে আমাদের দাম্পত্যজীবন যেন সুখ-দুঃখ, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, হাসি-কান্না ও অগণিত অনুভূতির সমন্বয়ে লেখা এক জীবন্ত ভালোবাসার মহাকাব্য।

এই দীর্ঘ পথচলায় বুঝেছি, প্রকৃত ভালোবাসা শুধু পাশাপাশি বসবাসের নাম নয়; ভালোবাসা হলো একে অপরের নীরবতাও বুঝতে পারা, না বলা কথার ভাষা অনুভব করা, চোখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কষ্টটুকু চিনে নেওয়া। ভালোবাসা মানে কখনো নিজের ইচ্ছাকে সংযত করে প্রিয় মানুষের ইচ্ছাকে সম্মান জানানো, কখনো নিজের অভিমান ভুলে তার মুখে হাসি ফোটানো, আবার কখনো কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশা ছাড়াই তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা।

দাম্পত্যজীবনের সৌন্দর্য এখানেই—এখানে দুজন মানুষ শুধু একে অপরের সুখের অংশীদার হন না; বরং দুঃখের ভারও ভাগ করে নেন। একজন যখন দুর্বল হয়ে পড়েন, অন্যজন তখন শক্তি হয়ে দাঁড়ান। একজনের স্বপ্ন যখন পথ হারায়, অন্যজন তখন আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে দেন। এভাবেই ভালোবাসা একসময় আবেগের গণ্ডি পেরিয়ে দায়িত্ব, বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও আত্মিক বন্ধনে পরিণত হয়।

আমাদের সম্পর্কেও সেই ভালোবাসারই প্রতিফলন দেখতে পাই। জীবনের কত ঋতু বদলেছে, কত প্রতিকূলতা এসেছে, কত আনন্দ-বেদনার মুহূর্ত পেরিয়ে গেছি; কিন্তু তোমাকে পাশে পাওয়ার অনুভূতিটি আমার কাছে আজও প্রথম দিনের মতোই অমূল্য।

তোমার হৃদয়ের বিশালতা আমার কাছে এক বিস্ময়।
তোমার বিশাল হৃদয়, নির্মল মন, অসাধারণ উদারতা ও পরোপকারী স্বভাব আমাকে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে। তুমি এমন একজন মানুষ, যিনি অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে নিজের আনন্দ খুঁজে পান। কারও বিপদে নিঃস্বার্থভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া, মানুষের দুঃখে ব্যথিত হওয়া, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অন্যের ভালো থাকাকে নিজের ভালো থাকার অংশ করে নেওয়ার যে বিরল মানসিকতা তোমার মধ্যে রয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

তোমার হৃদয়ে যেন মমতার এক অফুরন্ত নদী বয়ে চলে। সেখানে আপন-পরের বিভাজনের চেয়ে মানুষের প্রতি ভালোবাসার স্থান অনেক বড়। কারও সামান্য উপকার করতে পারলেও তোমার চোখেমুখে যে তৃপ্তির আভা ফুটে ওঠে, তা আমাকে বারবার মনে করিয়ে দেয়—মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার সম্পদে, পরিচয়ে কিংবা বাহ্যিক আভিজাত্যে নয়; বরং তার হৃদয়ের উদারতায়, মানবিকতায় এবং অন্যের জন্য কিছু করার আন্তরিকতায়।

তোমার এই পরোপকারী সত্তা আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। তুমি শুধু আমার জীবনসঙ্গিনী নও; তুমি আমার কাছে মানবিক সৌন্দর্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তোমার মধ্যে আমি এমন একজন মানুষকে দেখি, যিনি নিজের ভালোবাসার পরিধি শুধু পরিবারে সীমাবদ্ধ রাখেন না; বরং চারপাশের মানুষের প্রতিও মমতার দুয়ার খুলে রাখেন।

সত্যি বলতে, তোমার এই হৃদয়ের বিশালতার কাছে আমার অনেক শব্দই যেন ছোট হয়ে যায়। তোমার সৌন্দর্যের প্রশংসা করতে গিয়ে আমি বারবার তোমার মনের সৌন্দর্যের কাছে ফিরে আসি। কারণ রূপ মানুষকে মুগ্ধ করে কিছু সময়ের জন্য, কিন্তু হৃদয়ের মহত্ত্ব মানুষকে ভালোবাসতে শেখায় আজীবন।

তোমার বিশ্বাস আমার জীবনের শক্তি

তোমার অগাধ বিশ্বাস, নিঃশর্ত আস্থা ও নির্ভরতা আমার জীবনের অন্যতম বড় প্রেরণা। তোমার বিশ্বাস আমাকে সাহসী করেছে, আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে, স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে।

জীবনের নানা বাঁকে যখন সংশয় এসেছে, তুমি তখন আমার আত্মবিশ্বাসের আশ্রয় হয়েছ। যখন পথ কঠিন মনে হয়েছে, তোমার নির্ভরতা আমাকে নতুন করে পথ চলার সাহস দিয়েছে। আমার সামর্থ্যের ওপর তোমার বিশ্বাস আমাকে নিজের অজানা সম্ভাবনাগুলো চিনতে সাহায্য করেছে। তোমার ভালোবাসা শুধু আমাকে আগলে রাখেনি; আমার ভেতরের সুপ্ত শক্তিকেও জাগিয়ে তুলেছে।

তুমি এমন একজন জীবনসঙ্গিনী, যাঁর কাছে নিজের দুর্বলতাগুলোও নির্দ্বিধায় প্রকাশ করা যায়। যাঁর কাছে ব্যর্থতার গল্প বলতে লজ্জা হয় না, স্বপ্নের কথা বলতে দ্বিধা জাগে না। কারণ জানি, তোমার কাছে আমার পরিচয় শুধু সাফল্যের সঙ্গে জড়িত নয়; আমার অসম্পূর্ণতা, সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতাগুলোরও সমান স্বীকৃতি রয়েছে।

আমার কাছে দাম্পত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি হলো—এমন একজন মানুষকে পাশে পাওয়া, যিনি শুধু ভালো সময়ে ভালোবাসেন না; বরং কঠিন সময়েও বিশ্বাসের হাতটি সরিয়ে নেন না। তুমি আমার জীবনে সেই নির্ভরতার নাম।
তুমিও সাহসী, আত্মপ্রত্যয়ী ও দৃঢ়চেতা একজন নারী। ভালোবাসা, ধৈর্য, দায়িত্ববোধ, প্রজ্ঞা, উদারতা ও আত্মনিবেদনের অপূর্ব সমন্বয় তুমি। তোমার ব্যক্তিত্বে যেমন কোমলতা রয়েছে, তেমনি রয়েছে সিদ্ধান্তে দৃঢ়তা। তোমার ভালোবাসায় যেমন মমতা আছে, তেমনি রয়েছে জীবনের বাস্তবতা মোকাবিলার অসাধারণ শক্তি।

তোমার সাফল্য আমারও গর্ব

ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে সহকারী শিক্ষক পদে তোমার চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার সাফল্য আজও আমার গর্বের স্মৃতি। তোমার মেধা, যোগ্যতা, অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রমের সেই অর্জন শুধু তোমার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; আমাদের যৌথ জীবনের আনন্দ ও গৌরবের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

তোমার অর্জনে আমি আনন্দিত হয়েছি, তোমার সাফল্যে গর্ব অনুভব করেছি। কারণ তোমার স্বপ্নপূরণকে কখনো তোমার একার বিষয় বলে মনে করিনি; বরং আমাদের দুজনের পথচলার আনন্দ হিসেবেই দেখেছি। আমি বিশ্বাস করি, প্রকৃত দাম্পত্যে একজনের সাফল্য অন্যজনের গর্ব হয়ে ওঠে, একজনের স্বপ্ন অন্যজনের প্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়।

আমি চাই, জীবনের প্রতিটি অর্জনে তুমি আরও এগিয়ে যাও। তোমার মেধা, যোগ্যতা ও আত্মপ্রত্যয়ের আলো আরও অনেক মানুষের জীবন আলোকিত করুক।

আমাদের ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর দুই ফুল—আমাদের সন্তান

হৃদয়ের রানি, আমাদের ভালোবাসার সংসার পূর্ণতা পেয়েছে এক কন্যা ও এক পুত্রসন্তানের আগমনে। তাদের জন্ম, বেড়ে ওঠা, হাসি, ছোট ছোট আবদার, দুষ্টুমি, অভিমান আর অসংখ্য আনন্দঘন মুহূর্ত আমাদের দাম্পত্যজীবনে এনে দিয়েছে এক অনন্য পূর্ণতা।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যাসন্তানের প্রতি অপরিসীম স্নেহ, ভালোবাসা ও মর্যাদার শিক্ষা আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তাই মহান রবের কাছে আমার প্রথম প্রার্থনাই ছিল—তিনি যেন আমাকে প্রথমে একটি কন্যাসন্তানের বাবা হওয়ার সৌভাগ্য দান করেন।

আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহ আমার সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছেন। পরবর্তী সময়ে পুত্রসন্তানও তাঁরই দেওয়া আরেক অমূল্য নিয়ামত। আমাদের এই দুই সন্তান যেন মহান রবের পক্ষ থেকে পাওয়া ভালোবাসার দুটি প্রস্ফুটিত ফুল, আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর প্রাপ্তি।

তোমাকে পাশে নিয়ে তাদের বেড়ে ওঠা দেখা, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন বোনা, তাদের ছোট ছোট সাফল্যে আনন্দিত হওয়া এবং তাদের জন্য একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করা আমার জীবনের পরম আনন্দের বিষয়।

সন্তানদের লালন-পালনের এই দীর্ঘ যাত্রায় তোমার মমতা, ধৈর্য, দায়িত্ববোধ ও আত্মনিবেদন আমাকে বারবার মুগ্ধ করেছে। একজন মা হিসেবে তোমার ভালোবাসার গভীরতা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সন্তানের সামান্য অসুস্থতায় তোমার উদ্বেগ, তাদের সাফল্যে তোমার আনন্দ, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তোমার নিরন্তর ভাবনা—সবকিছুতেই আমি একজন মায়ের হৃদয়ের অসীম গভীরতা অনুভব করি।

আমাদের সন্তানরা যেন শুধু আমাদের ভালোবাসার উত্তরাধিকারী না হয়; তারা যেন আমাদের মানবিকতা, উদারতা, সততা, পরোপকারিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধেরও উত্তরাধিকারী হয়ে ওঠে। তারা যেন জীবনে বড় হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষাও ধারণ করে।

আমাদের ভালোবাসার বন্ধনে স্রষ্টার রহমত বর্ষিত হোক।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে পরস্পরের প্রশান্তি, ভালোবাসা ও রহমতের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন (সুরা আর-রুম, আয়াত ২১)। এই আয়াতের মর্মার্থ আমার কাছে দাম্পত্যজীবনের এক অনন্য দর্শন।

আমি চাই, আমাদের সম্পর্কেও সেই প্রশান্তি, ভালোবাসা ও রহমতের প্রতিফলন ঘটুক। আমরা যেন একে অপরের কাছে শুধু দায়িত্ব পালনের মানুষ না হয়ে মানসিক প্রশান্তির আশ্রয় হয়ে থাকতে পারি। আমাদের সংসারে যেন ভালোবাসার পাশাপাশি শ্রদ্ধা থাকে, আবেগের পাশাপাশি প্রজ্ঞা থাকে, অধিকারবোধের পাশাপাশি দায়িত্ববোধ থাকে এবং মতপার্থক্যের মধ্যেও পারস্পরিক সম্মান অটুট থাকে।

কারণ সংসার শুধু একই ছাদের নিচে বসবাসের নাম নয়; সংসার হলো দুটি হৃদয়ের মধ্যে এমন এক আত্মিক সেতুবন্ধন, যেখানে একজনের সুখ অন্যজনের আনন্দ, একজনের কষ্ট অন্যজনের বেদনা হয়ে ওঠে।

আমিও মানুষ, আমারও সীমাবদ্ধতা আছে। কখনো হয়তো অজান্তে তোমাকে কষ্ট দিয়েছি, কখনো তোমার প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে পারিনি। জীবনের ব্যস্ততা, দায়িত্ব কিংবা বাস্তবতার চাপে হয়তো সব সময় তোমার অনুভূতিগুলো যথাযথভাবে বুঝতে পারিনি। তবে বিশ্বাস করো, তোমাকে কষ্ট দেওয়া কখনো আমার কাম্য ছিল না।

তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা শুধু কথার অলংকার হয়ে থাকুক, তা চাই না; বরং প্রতিদিনের আচরণে, দায়িত্ব পালনে, যত্নে, সহমর্মিতায় ও সম্মানে তার প্রতিফলন ঘটুক—এটাই আমার প্রত্যাশা।

জীবনের বাকি দিনগুলোতে তোমার প্রতি আরও যত্নশীল, আরও সহানুভূতিশীল এবং আরও ভালো জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠার চেষ্টা করতে চাই।

বয়স বাড়ুক, ভালোবাসা আরও গভীর হোক

হৃদয়েশ্বরী, জীবনের প্রতিটি ঋতুতে, প্রতিটি প্রহরে তোমাকে পাশে চাই। সময়ের সঙ্গে বয়স বাড়ুক, চুলে রুপালি আভা নামুক, মুখে বয়সের রেখা ফুটে উঠুক, শরীরের শক্তি কমে আসুক; তবু আমাদের ভালোবাসার রং যেন কখনো ফিকে না হয়। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মায়া আরও গভীর হোক, বিশ্বাস আরও দৃঢ় হোক, শ্রদ্ধা আরও নিবিড় হোক, ভালোবাসা আরও পরিণত হোক।

আমি চাই, জীবনের শেষ বিকেলেও আমরা পাশাপাশি বসে পুরোনো দিনের গল্প করি। ২০০২ সালের সেই প্রথম দিনের স্মৃতি মনে করে হাসি। সন্তানদের শৈশবের দুষ্টুমি, আমাদের সংসারজীবনের ছোট ছোট আনন্দ, অভিমান ভাঙানোর গল্প আর জীবনের নানা বাঁকে ঘটে যাওয়া স্মরণীয় মুহূর্তগুলো মনে করে আবেগাপ্লুত হই।

যেদিন বয়সের ভারে পথচলা কঠিন হবে, সেদিনও যেন তোমার হাতটি ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারি। চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে এলেও যেন তোমাকে চিনতে আমার কোনো অসুবিধা না হয়। কণ্ঠের স্বর দুর্বল হয়ে এলেও যেন তোমার প্রতি ভালোবাসার ভাষা হারিয়ে না ফেলি।

আমি চাই, প্রতিটি সকাল শুরু হোক তোমার মায়ামাখা হাসিতে, প্রতিটি সন্ধ্যা হয়ে উঠুক দুজনের নির্ভরতা ও প্রশান্তির নীড়। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও যেন আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বলতে পারি—সবকিছুর পরও আমরা একে অপরকে পেয়েছি, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।

২০০২ সালে যে ভালোবাসার গল্পের সূচনা হয়েছিল, তার প্রতিটি অধ্যায়ের সবচেয়ে সুন্দর নাম তুমি। তুমি আমার অতীতের মধুর স্মৃতি, বর্তমানের প্রশান্তি, ভবিষ্যতের স্বপ্ন। জীবনের যতটুকু পথ বাকি, প্রতিটি পদক্ষেপে তোমার হাতটি ধরে হাঁটতে চাই। সুখের দিনে তোমার হাসির অংশীদার হতে চাই, দুঃখের দিনে তোমার নির্ভরতার আশ্রয় হতে চাই।

পৃথিবীতে মানুষের প্রাপ্তি অসংখ্য হতে পারে—সম্পদ, সম্মান, পরিচিতি, সাফল্য কিংবা খ্যাতি। কিন্তু দিনশেষে এমন একজন মানুষকে পাশে পাওয়া, যার কাছে নির্ভয়ে নিজের হৃদয় মেলে ধরা যায়, যার ভালোবাসায় প্রশান্তি মেলে, যার বিশ্বাসে সাহস পাওয়া যায়—এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!

এই চিঠি আমাদের ভালোবাসার আজীবনের স্মারক।
জানি, কোনো শব্দ, কোনো কবিতা কিংবা কোনো চিঠি দিয়ে তোমার প্রতি আমার সমস্ত ভালোবাসা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা অনুভূতির অনেকটাই ভাষার সীমানা অতিক্রম করে যায়।

তবু লিখে রাখতে চাই, যেন কোনো একদিন আমাদের জীবনের পেছনে ফিরে তাকালে তুমি বুঝতে পারো—তোমার প্রতিটি ত্যাগ, প্রতিটি অবদান, প্রতিটি ভালো কাজ, প্রতিটি নির্ঘুম রাত, প্রতিটি উদ্বেগ এবং আমার জীবনে তোমার প্রতিটি উপস্থিতি কতটা মূল্যবান ছিল।

তুমি হয়তো সব সময় উপলব্ধি করো না, কিন্তু তোমার নীরব অবদানগুলোও আমার হৃদয়ে গভীরভাবে লেখা আছে। তোমার ছোট ছোট যত্ন, আমার প্রতি তোমার আস্থা, পরিবারের জন্য তোমার নিরন্তর ভাবনা এবং নিঃশব্দে দায়িত্ব পালন করার প্রতিটি মুহূর্ত আমার কাছে ভালোবাসার অমূল্য দলিল।

যদি কোনো একদিন এই চিঠিটি আবার পড়ো, মনে রেখো—এটি শুধু ২০২৬ সালের একটি বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা নয়; এটি তোমার প্রতি আমার আজীবনের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও অঙ্গীকারের লিখিত দলিল।

সময় বদলাবে, বয়স বাড়বে, জীবনের অনেক কিছুই হয়তো পরিবর্তিত হবে; কিন্তু এই চিঠিতে লেখা অনুভূতিগুলো যেন আমাদের ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে বেঁচে থাকে।

তুমি আমার শক্তি, তুমি আমার সাহস, তুমি আমার গর্ব।
তুমি আমার ভালোবাসা, তুমি আমার প্রশান্তি, তুমি আমার নির্ভরতা। / তুমি আমার স্বপ্নের প্রেরণা, তুমি আমার হৃদয়ের ঠিকানা। / তুমি আমার আজ, তুমি আমার আগামী; / তুমি আমার জীবনের প্রথম ও শেষ প্রেরণাময়ী নারী।

শুভ ২৪তম বিবাহবার্ষিকী, বেগম সাহেবা

ডাক্তার-কবিরাজ, ওঝা-বৈদ্য যেখানে ফেল, আমি সেখানে সার্থক। ভালোবাসার কড়া ডোজে তুমি পান-জর্দার নেশা ছেড়েছ। ভালোবাসায় সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক।

ভালো থেকো, সুস্থ থেকো, হাসিখুশি থেকো। আমার পাশে থেকো। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তোমাকে ভালোবেসে যেতে চাই। শুধু এই জীবনে নয়, মহান রবের কাছে আমার প্রার্থনা—পরকালেও যেন তোমাকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পাই।

হে মহান রব!
তোমার কাছে অশেষ শুকরিয়া—আমার জীবনে এমন একজন উদার, মমতাময়ী, পরোপকারী, সাহসী ও প্রেরণাদায়ী মানুষকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে উপহার দেওয়ার জন্য।

হে পরম করুণাময়, তুমি আমাদের ভালোবাসার বন্ধন আরও গভীর, পবিত্র ও বরকতময় করো। আমাদের দুজনকে সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি, পারস্পরিক ভালোবাসা এবং দীর্ঘ নেক হায়াত দান করো। আমাদের সংসারকে তোমার রহমত, মায়া ও কল্যাণে পরিপূর্ণ করে দাও।

আর আমাদের সন্তানদের সৎ, মানবিক, আদর্শবান ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার তাওফিক দিয়ো। তাদের জীবনকে কল্যাণময় করো।

আমাদের জীবনের প্রতিটি অর্জনে যেন তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকে, প্রতিটি দায়িত্ব পালনে যেন সততা থাকে এবং প্রতিটি সম্পর্কে যেন মানবিকতা ও ভালোবাসা অটুট থাকে।

সর্বোপরি, দুনিয়ার এই পবিত্র বন্ধন জান্নাতেও অটুট রেখো। আমাদের দুজনকে পরস্পরের জন্য কল্যাণের কারণ করে রেখো।
আমিন।

ইতি,
দিনশেষে যে সাংবাদিক সমস্ত পৃথিবীর খবর ভুলে শুধু তোমার ভালোবাসার খবরের মাঝে সুখ খুঁজে—
তোমারই,
রফিকুল ইসলাম
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট
সহযোগী সম্পাদক, আজকের সূর্যোদয়, ঢাকা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিবাহবার্ষিকীতে খোলা চিঠি: তুমি আমার জীবনের প্রথম ও শেষ প্রেরণাময়ী নারী

আপডেট টাইম : ১২:৩৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রিয়তমা হৃদয়ের রানি,

জীবনের এতগুলো বছর একসঙ্গে পথ চলার পরও তোমাকে নিয়ে আমার মুগ্ধতা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার যেন কোনো শেষ নেই। বরং সময় যত গড়িয়েছে, তোমাকে তত নতুন করে আবিষ্কার করেছি।

তোমার হৃদয়ের গভীরতা, ভালোবাসার বিশালতা, অসাধারণ উদারতা, মানবিকতা ও পরোপকারী সত্তার কাছে বারবার নতুন করে মুগ্ধ হয়েছি। উপলব্ধি করেছি, একজন মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য সময়ের সঙ্গে বদলে গেলেও হৃদয়ের সৌন্দর্য কখনো ম্লান হয় না; বরং ভালোবাসা, মমতা ও মহত্ত্বের স্পর্শে তা আরও দীপ্তিমান হয়ে ওঠে।

আজ আমাদের বিবাহবার্ষিকীতে হৃদয়ের কিছু অব্যক্ত কথা লিখে রাখতে চাই। চাই, এই চিঠি শুধু আজকের ভালোবাসার প্রকাশ হয়ে না থাকুক; বরং আমাদের জীবনের আগামী দিনগুলোতেও ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও কৃতজ্ঞতার এক অমূল্য স্মারক হয়ে বেঁচে থাকুক।
তোমাকে নিয়ে আমার অনুভূতির কিছু কথা কবিতার কয়েকটি পঙ্‌ক্তিতে বলতে চাই—

তুমি মমতার সমুদ্র, ভালোবাসার আলো,
তোমার হাসিতে আমার পৃথিবী লাগে ভালো।
তুমি উদার হৃদয়, মানবতার প্রতিচ্ছবি,
পরের সুখে খুঁজে পাও আনন্দের ছবি।
তুমি সাহসের প্রদীপ, স্বপ্নজয়ের গান,
তোমার বিশ্বাসে জাগে আমার আত্মপ্রত্যয়ী প্রাণ।
তুমি প্রশান্তির নীড়, হৃদয়ের ঠিকানা,
তুমি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি, চিরন্তন প্রেরণা।

হৃদয়েশ্বরী,
২০০২ সালের ৪ নভেম্বর—আমাদের জীবনের সেই অবিস্মরণীয় দিনটির কথা আজও গভীর আবেগে মনে পড়ে। সেদিন পবিত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দুটি হৃদয় শুরু করেছিল একই পথে চলার এক অনন্ত যাত্রা। দুটি ভিন্ন জীবনের স্বপ্ন, প্রত্যাশা, অনুভূতি ও ভালো লাগা একাকার হয়ে গড়ে উঠেছিল আমাদের ভালোবাসার সংসার।

দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ২৪টি বছর। সময়ের স্রোতে জমেছে অসংখ্য স্মৃতি, ভালোবাসা, মায়া, আনন্দ আর টক-ঝাল-মিষ্টি খুনসুটি। কখনো অভিমান, কখনো মান-অভিমান ভাঙানোর মিষ্টি মুহূর্ত; কখনো হাসি-আনন্দে ভরা দিন, আবার কখনো জীবনের কঠিন বাস্তবতায় একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে থাকার নির্ভরতা। সব মিলিয়ে আমাদের দাম্পত্যজীবন যেন সুখ-দুঃখ, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, হাসি-কান্না ও অগণিত অনুভূতির সমন্বয়ে লেখা এক জীবন্ত ভালোবাসার মহাকাব্য।

এই দীর্ঘ পথচলায় বুঝেছি, প্রকৃত ভালোবাসা শুধু পাশাপাশি বসবাসের নাম নয়; ভালোবাসা হলো একে অপরের নীরবতাও বুঝতে পারা, না বলা কথার ভাষা অনুভব করা, চোখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কষ্টটুকু চিনে নেওয়া। ভালোবাসা মানে কখনো নিজের ইচ্ছাকে সংযত করে প্রিয় মানুষের ইচ্ছাকে সম্মান জানানো, কখনো নিজের অভিমান ভুলে তার মুখে হাসি ফোটানো, আবার কখনো কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশা ছাড়াই তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা।

দাম্পত্যজীবনের সৌন্দর্য এখানেই—এখানে দুজন মানুষ শুধু একে অপরের সুখের অংশীদার হন না; বরং দুঃখের ভারও ভাগ করে নেন। একজন যখন দুর্বল হয়ে পড়েন, অন্যজন তখন শক্তি হয়ে দাঁড়ান। একজনের স্বপ্ন যখন পথ হারায়, অন্যজন তখন আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে দেন। এভাবেই ভালোবাসা একসময় আবেগের গণ্ডি পেরিয়ে দায়িত্ব, বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও আত্মিক বন্ধনে পরিণত হয়।

আমাদের সম্পর্কেও সেই ভালোবাসারই প্রতিফলন দেখতে পাই। জীবনের কত ঋতু বদলেছে, কত প্রতিকূলতা এসেছে, কত আনন্দ-বেদনার মুহূর্ত পেরিয়ে গেছি; কিন্তু তোমাকে পাশে পাওয়ার অনুভূতিটি আমার কাছে আজও প্রথম দিনের মতোই অমূল্য।

তোমার হৃদয়ের বিশালতা আমার কাছে এক বিস্ময়।
তোমার বিশাল হৃদয়, নির্মল মন, অসাধারণ উদারতা ও পরোপকারী স্বভাব আমাকে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে। তুমি এমন একজন মানুষ, যিনি অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে নিজের আনন্দ খুঁজে পান। কারও বিপদে নিঃস্বার্থভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া, মানুষের দুঃখে ব্যথিত হওয়া, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অন্যের ভালো থাকাকে নিজের ভালো থাকার অংশ করে নেওয়ার যে বিরল মানসিকতা তোমার মধ্যে রয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

তোমার হৃদয়ে যেন মমতার এক অফুরন্ত নদী বয়ে চলে। সেখানে আপন-পরের বিভাজনের চেয়ে মানুষের প্রতি ভালোবাসার স্থান অনেক বড়। কারও সামান্য উপকার করতে পারলেও তোমার চোখেমুখে যে তৃপ্তির আভা ফুটে ওঠে, তা আমাকে বারবার মনে করিয়ে দেয়—মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার সম্পদে, পরিচয়ে কিংবা বাহ্যিক আভিজাত্যে নয়; বরং তার হৃদয়ের উদারতায়, মানবিকতায় এবং অন্যের জন্য কিছু করার আন্তরিকতায়।

তোমার এই পরোপকারী সত্তা আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। তুমি শুধু আমার জীবনসঙ্গিনী নও; তুমি আমার কাছে মানবিক সৌন্দর্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তোমার মধ্যে আমি এমন একজন মানুষকে দেখি, যিনি নিজের ভালোবাসার পরিধি শুধু পরিবারে সীমাবদ্ধ রাখেন না; বরং চারপাশের মানুষের প্রতিও মমতার দুয়ার খুলে রাখেন।

সত্যি বলতে, তোমার এই হৃদয়ের বিশালতার কাছে আমার অনেক শব্দই যেন ছোট হয়ে যায়। তোমার সৌন্দর্যের প্রশংসা করতে গিয়ে আমি বারবার তোমার মনের সৌন্দর্যের কাছে ফিরে আসি। কারণ রূপ মানুষকে মুগ্ধ করে কিছু সময়ের জন্য, কিন্তু হৃদয়ের মহত্ত্ব মানুষকে ভালোবাসতে শেখায় আজীবন।

তোমার বিশ্বাস আমার জীবনের শক্তি

তোমার অগাধ বিশ্বাস, নিঃশর্ত আস্থা ও নির্ভরতা আমার জীবনের অন্যতম বড় প্রেরণা। তোমার বিশ্বাস আমাকে সাহসী করেছে, আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে, স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে।

জীবনের নানা বাঁকে যখন সংশয় এসেছে, তুমি তখন আমার আত্মবিশ্বাসের আশ্রয় হয়েছ। যখন পথ কঠিন মনে হয়েছে, তোমার নির্ভরতা আমাকে নতুন করে পথ চলার সাহস দিয়েছে। আমার সামর্থ্যের ওপর তোমার বিশ্বাস আমাকে নিজের অজানা সম্ভাবনাগুলো চিনতে সাহায্য করেছে। তোমার ভালোবাসা শুধু আমাকে আগলে রাখেনি; আমার ভেতরের সুপ্ত শক্তিকেও জাগিয়ে তুলেছে।

তুমি এমন একজন জীবনসঙ্গিনী, যাঁর কাছে নিজের দুর্বলতাগুলোও নির্দ্বিধায় প্রকাশ করা যায়। যাঁর কাছে ব্যর্থতার গল্প বলতে লজ্জা হয় না, স্বপ্নের কথা বলতে দ্বিধা জাগে না। কারণ জানি, তোমার কাছে আমার পরিচয় শুধু সাফল্যের সঙ্গে জড়িত নয়; আমার অসম্পূর্ণতা, সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতাগুলোরও সমান স্বীকৃতি রয়েছে।

আমার কাছে দাম্পত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি হলো—এমন একজন মানুষকে পাশে পাওয়া, যিনি শুধু ভালো সময়ে ভালোবাসেন না; বরং কঠিন সময়েও বিশ্বাসের হাতটি সরিয়ে নেন না। তুমি আমার জীবনে সেই নির্ভরতার নাম।
তুমিও সাহসী, আত্মপ্রত্যয়ী ও দৃঢ়চেতা একজন নারী। ভালোবাসা, ধৈর্য, দায়িত্ববোধ, প্রজ্ঞা, উদারতা ও আত্মনিবেদনের অপূর্ব সমন্বয় তুমি। তোমার ব্যক্তিত্বে যেমন কোমলতা রয়েছে, তেমনি রয়েছে সিদ্ধান্তে দৃঢ়তা। তোমার ভালোবাসায় যেমন মমতা আছে, তেমনি রয়েছে জীবনের বাস্তবতা মোকাবিলার অসাধারণ শক্তি।

তোমার সাফল্য আমারও গর্ব

ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে সহকারী শিক্ষক পদে তোমার চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার সাফল্য আজও আমার গর্বের স্মৃতি। তোমার মেধা, যোগ্যতা, অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রমের সেই অর্জন শুধু তোমার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; আমাদের যৌথ জীবনের আনন্দ ও গৌরবের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

তোমার অর্জনে আমি আনন্দিত হয়েছি, তোমার সাফল্যে গর্ব অনুভব করেছি। কারণ তোমার স্বপ্নপূরণকে কখনো তোমার একার বিষয় বলে মনে করিনি; বরং আমাদের দুজনের পথচলার আনন্দ হিসেবেই দেখেছি। আমি বিশ্বাস করি, প্রকৃত দাম্পত্যে একজনের সাফল্য অন্যজনের গর্ব হয়ে ওঠে, একজনের স্বপ্ন অন্যজনের প্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়।

আমি চাই, জীবনের প্রতিটি অর্জনে তুমি আরও এগিয়ে যাও। তোমার মেধা, যোগ্যতা ও আত্মপ্রত্যয়ের আলো আরও অনেক মানুষের জীবন আলোকিত করুক।

আমাদের ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর দুই ফুল—আমাদের সন্তান

হৃদয়ের রানি, আমাদের ভালোবাসার সংসার পূর্ণতা পেয়েছে এক কন্যা ও এক পুত্রসন্তানের আগমনে। তাদের জন্ম, বেড়ে ওঠা, হাসি, ছোট ছোট আবদার, দুষ্টুমি, অভিমান আর অসংখ্য আনন্দঘন মুহূর্ত আমাদের দাম্পত্যজীবনে এনে দিয়েছে এক অনন্য পূর্ণতা।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যাসন্তানের প্রতি অপরিসীম স্নেহ, ভালোবাসা ও মর্যাদার শিক্ষা আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তাই মহান রবের কাছে আমার প্রথম প্রার্থনাই ছিল—তিনি যেন আমাকে প্রথমে একটি কন্যাসন্তানের বাবা হওয়ার সৌভাগ্য দান করেন।

আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহ আমার সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছেন। পরবর্তী সময়ে পুত্রসন্তানও তাঁরই দেওয়া আরেক অমূল্য নিয়ামত। আমাদের এই দুই সন্তান যেন মহান রবের পক্ষ থেকে পাওয়া ভালোবাসার দুটি প্রস্ফুটিত ফুল, আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর প্রাপ্তি।

তোমাকে পাশে নিয়ে তাদের বেড়ে ওঠা দেখা, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন বোনা, তাদের ছোট ছোট সাফল্যে আনন্দিত হওয়া এবং তাদের জন্য একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করা আমার জীবনের পরম আনন্দের বিষয়।

সন্তানদের লালন-পালনের এই দীর্ঘ যাত্রায় তোমার মমতা, ধৈর্য, দায়িত্ববোধ ও আত্মনিবেদন আমাকে বারবার মুগ্ধ করেছে। একজন মা হিসেবে তোমার ভালোবাসার গভীরতা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সন্তানের সামান্য অসুস্থতায় তোমার উদ্বেগ, তাদের সাফল্যে তোমার আনন্দ, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তোমার নিরন্তর ভাবনা—সবকিছুতেই আমি একজন মায়ের হৃদয়ের অসীম গভীরতা অনুভব করি।

আমাদের সন্তানরা যেন শুধু আমাদের ভালোবাসার উত্তরাধিকারী না হয়; তারা যেন আমাদের মানবিকতা, উদারতা, সততা, পরোপকারিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধেরও উত্তরাধিকারী হয়ে ওঠে। তারা যেন জীবনে বড় হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষাও ধারণ করে।

আমাদের ভালোবাসার বন্ধনে স্রষ্টার রহমত বর্ষিত হোক।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে পরস্পরের প্রশান্তি, ভালোবাসা ও রহমতের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন (সুরা আর-রুম, আয়াত ২১)। এই আয়াতের মর্মার্থ আমার কাছে দাম্পত্যজীবনের এক অনন্য দর্শন।

আমি চাই, আমাদের সম্পর্কেও সেই প্রশান্তি, ভালোবাসা ও রহমতের প্রতিফলন ঘটুক। আমরা যেন একে অপরের কাছে শুধু দায়িত্ব পালনের মানুষ না হয়ে মানসিক প্রশান্তির আশ্রয় হয়ে থাকতে পারি। আমাদের সংসারে যেন ভালোবাসার পাশাপাশি শ্রদ্ধা থাকে, আবেগের পাশাপাশি প্রজ্ঞা থাকে, অধিকারবোধের পাশাপাশি দায়িত্ববোধ থাকে এবং মতপার্থক্যের মধ্যেও পারস্পরিক সম্মান অটুট থাকে।

কারণ সংসার শুধু একই ছাদের নিচে বসবাসের নাম নয়; সংসার হলো দুটি হৃদয়ের মধ্যে এমন এক আত্মিক সেতুবন্ধন, যেখানে একজনের সুখ অন্যজনের আনন্দ, একজনের কষ্ট অন্যজনের বেদনা হয়ে ওঠে।

আমিও মানুষ, আমারও সীমাবদ্ধতা আছে। কখনো হয়তো অজান্তে তোমাকে কষ্ট দিয়েছি, কখনো তোমার প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে পারিনি। জীবনের ব্যস্ততা, দায়িত্ব কিংবা বাস্তবতার চাপে হয়তো সব সময় তোমার অনুভূতিগুলো যথাযথভাবে বুঝতে পারিনি। তবে বিশ্বাস করো, তোমাকে কষ্ট দেওয়া কখনো আমার কাম্য ছিল না।

তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা শুধু কথার অলংকার হয়ে থাকুক, তা চাই না; বরং প্রতিদিনের আচরণে, দায়িত্ব পালনে, যত্নে, সহমর্মিতায় ও সম্মানে তার প্রতিফলন ঘটুক—এটাই আমার প্রত্যাশা।

জীবনের বাকি দিনগুলোতে তোমার প্রতি আরও যত্নশীল, আরও সহানুভূতিশীল এবং আরও ভালো জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠার চেষ্টা করতে চাই।

বয়স বাড়ুক, ভালোবাসা আরও গভীর হোক

হৃদয়েশ্বরী, জীবনের প্রতিটি ঋতুতে, প্রতিটি প্রহরে তোমাকে পাশে চাই। সময়ের সঙ্গে বয়স বাড়ুক, চুলে রুপালি আভা নামুক, মুখে বয়সের রেখা ফুটে উঠুক, শরীরের শক্তি কমে আসুক; তবু আমাদের ভালোবাসার রং যেন কখনো ফিকে না হয়। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মায়া আরও গভীর হোক, বিশ্বাস আরও দৃঢ় হোক, শ্রদ্ধা আরও নিবিড় হোক, ভালোবাসা আরও পরিণত হোক।

আমি চাই, জীবনের শেষ বিকেলেও আমরা পাশাপাশি বসে পুরোনো দিনের গল্প করি। ২০০২ সালের সেই প্রথম দিনের স্মৃতি মনে করে হাসি। সন্তানদের শৈশবের দুষ্টুমি, আমাদের সংসারজীবনের ছোট ছোট আনন্দ, অভিমান ভাঙানোর গল্প আর জীবনের নানা বাঁকে ঘটে যাওয়া স্মরণীয় মুহূর্তগুলো মনে করে আবেগাপ্লুত হই।

যেদিন বয়সের ভারে পথচলা কঠিন হবে, সেদিনও যেন তোমার হাতটি ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারি। চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে এলেও যেন তোমাকে চিনতে আমার কোনো অসুবিধা না হয়। কণ্ঠের স্বর দুর্বল হয়ে এলেও যেন তোমার প্রতি ভালোবাসার ভাষা হারিয়ে না ফেলি।

আমি চাই, প্রতিটি সকাল শুরু হোক তোমার মায়ামাখা হাসিতে, প্রতিটি সন্ধ্যা হয়ে উঠুক দুজনের নির্ভরতা ও প্রশান্তির নীড়। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও যেন আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বলতে পারি—সবকিছুর পরও আমরা একে অপরকে পেয়েছি, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।

২০০২ সালে যে ভালোবাসার গল্পের সূচনা হয়েছিল, তার প্রতিটি অধ্যায়ের সবচেয়ে সুন্দর নাম তুমি। তুমি আমার অতীতের মধুর স্মৃতি, বর্তমানের প্রশান্তি, ভবিষ্যতের স্বপ্ন। জীবনের যতটুকু পথ বাকি, প্রতিটি পদক্ষেপে তোমার হাতটি ধরে হাঁটতে চাই। সুখের দিনে তোমার হাসির অংশীদার হতে চাই, দুঃখের দিনে তোমার নির্ভরতার আশ্রয় হতে চাই।

পৃথিবীতে মানুষের প্রাপ্তি অসংখ্য হতে পারে—সম্পদ, সম্মান, পরিচিতি, সাফল্য কিংবা খ্যাতি। কিন্তু দিনশেষে এমন একজন মানুষকে পাশে পাওয়া, যার কাছে নির্ভয়ে নিজের হৃদয় মেলে ধরা যায়, যার ভালোবাসায় প্রশান্তি মেলে, যার বিশ্বাসে সাহস পাওয়া যায়—এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!

এই চিঠি আমাদের ভালোবাসার আজীবনের স্মারক।
জানি, কোনো শব্দ, কোনো কবিতা কিংবা কোনো চিঠি দিয়ে তোমার প্রতি আমার সমস্ত ভালোবাসা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা অনুভূতির অনেকটাই ভাষার সীমানা অতিক্রম করে যায়।

তবু লিখে রাখতে চাই, যেন কোনো একদিন আমাদের জীবনের পেছনে ফিরে তাকালে তুমি বুঝতে পারো—তোমার প্রতিটি ত্যাগ, প্রতিটি অবদান, প্রতিটি ভালো কাজ, প্রতিটি নির্ঘুম রাত, প্রতিটি উদ্বেগ এবং আমার জীবনে তোমার প্রতিটি উপস্থিতি কতটা মূল্যবান ছিল।

তুমি হয়তো সব সময় উপলব্ধি করো না, কিন্তু তোমার নীরব অবদানগুলোও আমার হৃদয়ে গভীরভাবে লেখা আছে। তোমার ছোট ছোট যত্ন, আমার প্রতি তোমার আস্থা, পরিবারের জন্য তোমার নিরন্তর ভাবনা এবং নিঃশব্দে দায়িত্ব পালন করার প্রতিটি মুহূর্ত আমার কাছে ভালোবাসার অমূল্য দলিল।

যদি কোনো একদিন এই চিঠিটি আবার পড়ো, মনে রেখো—এটি শুধু ২০২৬ সালের একটি বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা নয়; এটি তোমার প্রতি আমার আজীবনের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও অঙ্গীকারের লিখিত দলিল।

সময় বদলাবে, বয়স বাড়বে, জীবনের অনেক কিছুই হয়তো পরিবর্তিত হবে; কিন্তু এই চিঠিতে লেখা অনুভূতিগুলো যেন আমাদের ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে বেঁচে থাকে।

তুমি আমার শক্তি, তুমি আমার সাহস, তুমি আমার গর্ব।
তুমি আমার ভালোবাসা, তুমি আমার প্রশান্তি, তুমি আমার নির্ভরতা। / তুমি আমার স্বপ্নের প্রেরণা, তুমি আমার হৃদয়ের ঠিকানা। / তুমি আমার আজ, তুমি আমার আগামী; / তুমি আমার জীবনের প্রথম ও শেষ প্রেরণাময়ী নারী।

শুভ ২৪তম বিবাহবার্ষিকী, বেগম সাহেবা

ডাক্তার-কবিরাজ, ওঝা-বৈদ্য যেখানে ফেল, আমি সেখানে সার্থক। ভালোবাসার কড়া ডোজে তুমি পান-জর্দার নেশা ছেড়েছ। ভালোবাসায় সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক।

ভালো থেকো, সুস্থ থেকো, হাসিখুশি থেকো। আমার পাশে থেকো। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তোমাকে ভালোবেসে যেতে চাই। শুধু এই জীবনে নয়, মহান রবের কাছে আমার প্রার্থনা—পরকালেও যেন তোমাকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পাই।

হে মহান রব!
তোমার কাছে অশেষ শুকরিয়া—আমার জীবনে এমন একজন উদার, মমতাময়ী, পরোপকারী, সাহসী ও প্রেরণাদায়ী মানুষকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে উপহার দেওয়ার জন্য।

হে পরম করুণাময়, তুমি আমাদের ভালোবাসার বন্ধন আরও গভীর, পবিত্র ও বরকতময় করো। আমাদের দুজনকে সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি, পারস্পরিক ভালোবাসা এবং দীর্ঘ নেক হায়াত দান করো। আমাদের সংসারকে তোমার রহমত, মায়া ও কল্যাণে পরিপূর্ণ করে দাও।

আর আমাদের সন্তানদের সৎ, মানবিক, আদর্শবান ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার তাওফিক দিয়ো। তাদের জীবনকে কল্যাণময় করো।

আমাদের জীবনের প্রতিটি অর্জনে যেন তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকে, প্রতিটি দায়িত্ব পালনে যেন সততা থাকে এবং প্রতিটি সম্পর্কে যেন মানবিকতা ও ভালোবাসা অটুট থাকে।

সর্বোপরি, দুনিয়ার এই পবিত্র বন্ধন জান্নাতেও অটুট রেখো। আমাদের দুজনকে পরস্পরের জন্য কল্যাণের কারণ করে রেখো।
আমিন।

ইতি,
দিনশেষে যে সাংবাদিক সমস্ত পৃথিবীর খবর ভুলে শুধু তোমার ভালোবাসার খবরের মাঝে সুখ খুঁজে—
তোমারই,
রফিকুল ইসলাম
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট
সহযোগী সম্পাদক, আজকের সূর্যোদয়, ঢাকা