,

03

টালমাটাল ফুটবলবিশ্ব সুপার লিগে

হাওর বার্তা ডেস্কঃ  ক্যারি প্যাকারের ওয়ার্ল্ড সিরিজের কথা মনে আছে? কিংবা ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগের (আইসিএল) কথা? প্রথমটার ব্যাপারে হয়তো আপনি নাও জেনে থাকতে পারেন তবে দ্বিতীয় ঘটনাটা আপনার সাফ মনে থাকার কথা, বাংলাদেশ ক্রিকেটকে যে এক ঝটকায় অভিভাবকশূন্য করে একঝাঁক তারকা ক্রিকেটার ছোঁ মেরে নিয়ে গিয়েছিল টুর্নামেন্টটা!
তেমন কিছু এবার ঘটছে ইউরোপিয়ান ফুটবলেও। এসেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগকে চ্যালেঞ্জ করার মতো টুর্নামেন্ট ইউরোপিয়ান সুপার লিগের ঘোষণা। ফিফা, উয়েফা এমন ঘোষণাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে, পরিণাম কী হতে পারে তাও জানিয়ে দিয়েছে দুই প্রতিষ্ঠান।
এর বিরুদ্ধে উয়েফার অবস্থানটাই সবচেয়ে কঠিন। দিনশেষে তাদের অস্তিত্বই তো সংকটে ফেলছে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বর্তমানে উয়েফার সবচেয়ে বড় অর্থকরী টুর্নামেন্ট। সুপার লিগ এলে এর শক্তি খর্ব হবে বহুগুণে, যার আর্থিক পরিণামটাও খুব একটা সুখকর হবে না। এ জন্যেই তো এর বিরুদ্ধে ‘শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার’ ঘোষণাই দিয়েছে উয়েফা!
ইউরোপিয়ান সুপার লিগ কী?
ইউরোপের শীর্ষ ১২টি ক্লাব ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইউরোপিয়ান সুপার লিগ নামের নতুন একটা লিগ চালু করেছে। যাতে ইউরোপের ১৫টি ক্লাব সবসময় স্থায়ীভাবে থাকবে। আর সঙ্গে পাঁচটি ক্লাব পালাবদলের ভিত্তিতে থাকবে। সামনের আগস্টে এই ২০ দলকে নিয়ে শুরু হবে এই প্রতিযোগিতা।
ফরম্যাট কেমন হবে?
এ নিয়ে বিশদ কিছু জানা যায়নি এখনো। কিন্তু গতকাল সুপার লিগ কর্তৃপক্ষ অবশেষে বিবৃতি দিয়েছে, এবং নিজেদের ওয়েবসাইটও প্রকাশ করেছে। ২০টি দল দুটো গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে হোম আর অ্যাওয়ে ভিত্তিতে। দুই গ্রুপের শীর্ষ তিন দল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে, আর শেষ আটের বাকি দুটো দল আসবে দুই গ্রুপের চার-পাঁচ নম্বর দলের মধ্যকার প্লে অফ শেষে। ফলে প্রত্যেক মৌসুমে কমপক্ষে ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ২৫টি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকছে প্রত্যেক দলের সামনে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফরম্যাটে যে সংখ্যাটা মাত্র ১৩, আর প্রস্তাবিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফরম্যাটে সংখ্যাটা উন্নীত হবে ১৭-তে।
অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে বলা হয়েছে, সুপার লিগের একটা নারীদের সংস্করণও আসবে অচিরেই। পুরুষদের লিগের মতো নারীদের লিগটাও হবে ‘ঘরোয়া লিগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই।’
তবে ফরম্যাটের চেয়েও বেশি জরুরী যে বিষয় সেটা হচ্ছে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আর দেখা যাবে না দলগুলোকে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের জন্যে যে বিষয়টা বড় এক ধাক্কা হয়ে আসবে তা বলাই বাহুল্য। হাজার হোক, এটা ইউরোপিয়ান ফুটবল, এনবিএ নয়।
কারা খেলবে এখানে?
এখন পর্যন্ত বলা হচ্ছে, ১৫টি ক্লাব এর প্রতিষ্ঠাতা ক্লাব হিসেবে থাকবে। যার ১২ দলের নাম প্রকাশিত হয়েছে। গুঞ্জন আছে বাকি তিন দল হতে পারে বায়ার্ন মিউনিখ, পিএসজি ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। বাকি পাঁচ দল হবে আগের মৌসুমে পারফর্ম্যান্সের ভিত্তিতে।
ফরাসি ক্লাবগুলো কী বলেছে
লিগ ওয়ানের ক্লাবগুলো বলেছে, সুপার লিগে তারা এ মুহ‚র্তে অংশ নেওয়ায় আগ্রহী নয়। গত ফাইনালে হেরে যাওয়া পিএসজিও সুপার লিগে অংশ নেওয়ায় আগ্রহ দেখায়নি। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবে পিএসজি।
বায়ার্ন-ডর্টমুন্ডের ‘না’
ইউরোপের শীর্ষ ১২টি ক্লাবকে নিয়ে চালু হওয়া ইউরোপিয়ান সুপার লিগে যোগ দেবে না বুন্দেসলিগার দুই ক্লাব-বায়ার্ন মিউনিখ ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। বরং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কাঠামো বদলের পরিকল্পনাকে সমর্থন করবে জার্মানির এই দুই ক্লাব। সুপার লিগ নিয়ে গতকাল নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে ডর্টমুন্ড। ক্লাবটির প্রধান নির্বাহী হান্স ইয়োখিম ভাটসকে বলেন, বায়ার্নের পাশাপাশি তারাও ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের (ইসিএ) প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।
কেন এ সিদ্ধান্ত?
সোজাসাপ্টা উত্তর, অর্থের ঝনঝনানি। সে লিগে খেলবে ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের সব ক্লাব। আপনিই বলুন, বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা ম্যানচেস্টার সিটি-জুভেন্তাসের ম্যাচ দেখার জন্য আপনি টিভি সেটের সামনে বসবেন নাকি ডিনামো জাগরেব আর স্পার্তাক মস্কোর ম্যাচ দেখতে মুখিয়ে থাকবেন?
উত্তরটা সহজ, সে কারণেই অনেক আগে থেকেই বড় দলগুলো এই ম্যাচগুলোর রাজস্ব ভাগ হয়ে যাওয়াটার বিপক্ষে কথা বলছিল, নিজেদের ভাগের বড় অংশ চাওয়া হচ্ছিল অনেক দিন ধরেই। তবে ভোটের কথা ভেবে সে চাওয়ায় কান দেয়নি উয়েফা। দিনশেষে ভোটের ক্ষেত্রে তো আর বড়-ছোটর ভেদাভেদ নেই! আর এই বড় ফেডারেশনের চেয়ে ছোটদের সংখ্যাই ইউরোপে তুলনামূলক বেশি। আর তাই, এ সিদ্ধান্ত সুদূরপ্রসারী একটা প্রভাবও ফেলার সম্ভাবনা রাখে, সেজন্যেও বড় ক্লাবগুলোর দাবিতে এতদিন কান দেয়নি উয়েফা।
সেখান থেকেই নিজেদের মধ্যে ম্যাচ খেলে কোষাগার স্ফীত করার ধারণাটা মাথায় আসে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে। ভাবুন একবার, প্রতি সপ্তাহান্তেই একবার করে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ম্যানইউ, সিটি, লিভারপুলের মতো দল একবার করে খেলছে একে অপরের বিপক্ষে। তাতে টিভি রাজস্ব, স্টেডিয়াম টিকিট বিক্রিও না বেড়েই যায় না।
সঙ্গে আছে বৈশ্বিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যও। মাঠে গড়ানোর কিছু সময়ের মধ্যেই হয়তো এশিয়া কিংবা উত্তর আমেরিকায় দেখা মিলবে এই সুপার লিগের। তাতে আছে বাড়তি আয়ের সম্ভাবনাও।
পাশাপাশি আছে প্রতিযোগিতায় নিশ্চিত খেলার সুযোগও। প্রতিষ্ঠাতা ক্লাবের জায়গা নিশ্চিতই থাকবে লিগে, বাকি পাঁচ দল থাকবে উত্তরণ-অবনমনের মধ্যে। নিশ্চিত খেলা মানে নিশ্চিত প্রাইজমানি জেতা, নিশ্চিত রাজস্বের হাতছানিও। সাইনিংয়ের অর্থটাও নেহায়েত কম নয়। কেবলমাত্র চুক্তি স্বাক্ষর করলেই আপনি পাচ্ছেন ৪২৫ মিলিয়ন ইউরো, করোনা মহামারি আর মন্দার সময়ে এমন অর্থ কে দিচ্ছে আপনাকে? সব মিলিয়েই ইউরোপের শীর্ষ দলগুলো এ সিদ্ধান্তে হ্যাঁ ভোট দিয়েছে।
কী পরিমাণ টাকা মিলবে
সুপার লিগ নিয়ে ১২টি ক্লাবের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রতিষ্ঠাতা ১২টি ক্লাব ৩.৫ বিলিয়ন ইউরো করে পাবে, করোনার আঘাত কাটিয়ে নিজেদের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য।’ আরও বলা হয়, ‘বার্ষিক এই টুর্নামেন্ট ইউরোপিয়ান ফুটবলের শক্তি বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।’ চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী দল এখন যে প্রাইজমানি পেয়ে থাকে, তার চেয়েও সুপার লিগের দলগুলো অনেক বেশি টাকা পাবে। এর আগে ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লা পারিসিয়েন’ জানিয়েছিল, সুপার লিগের ‘শীর্ষ ছয় দল মৌসুমে ৩৫ কোটি ইউরো পাবে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগ বিজয়ী আট কোটি ইউরোর কাছাকাছি আয়ের আশা করতে পারে।’
ম্যাচগুলো কখন হবে
সুপার লিগের ক্লাবগুলো যেহেতু ঘরোয়া লিগেও অংশ নিতে চায়, তাই মৌসুমের সূচি জট পাকিয়ে যেতে পারে। ঠাসা সূচি হয়ে যাবে। আর এমন এক টুর্নামেন্টে ব্যস্ত থাকা মানেই তো চ্যাম্পিয়নস লিগের বিদায়। ঘরোয়া লিগ ও এই লিগে খেলার পর সূচিতে আর কিছু রাখা কঠিন বৈকি। তবে সুপার লিগে অংশ নেওয়া ক্লাবগুলো জানিয়ে সপ্তাহের মধ্যে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল হবে এক ম্যাচেরই। মে মাসের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠিত হবে।
কবে শুরু হবে
বার্সেলোনা তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘যত দ্রুত সম্ভব’ সুপার লিগ শুরু করতে চায়। তবে ক্লাবগুলোর যৌথ বিবৃতি বলা হয়, আগষ্টে তারা প্রতিযোগিতাটি শুরু করতে চায়।
কত টাকা লগ্নি হয়েছে এই প্রজেক্টে?
আমেরিকান ব্যাঙ্ক জেপি মরগ্যান এর মধ্যেই প্রতিষ্ঠাতা ক্লাবগুলোকে কাজ করার জন্য ৩.৫ বিলিয়ন ইউরো দিচ্ছে। আনুষ্ঠানিক বার্তায় ক্লাবগুলো জানিয়েছে, সব মিলিয়ে এই প্রজেক্টে ১০ বিলিয়ন ইউরো লগ্নি হবে।
এই সময়েই কেন এই ঘোষণা?
করোনাভাইরাসের জন্য সব ক্লাবই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। সেখান থেকে উত্তরণের একটা উপায় খুঁজছিল তারা। অন্যদিকে ইউয়েফা ২০২৪ সাল থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফরম্যাট বদলের কথা ভাবছিল। সেখানে সুইস মডেলে ৩৬টি দল গ্রুপ পর্বে অন্তত ১০টি করে ম্যাচ খেলবে। মূলত ইউয়েফার এই নতুন এই নিয়ম পাশের আগেই এই নতুন লিগের ঘোষণা এসেছে।
ফিফা-উয়েফার অবস্থান কী?
তবে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেয়নি উয়েফা। এর মধ্যেই উয়েফাসহ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা, সিরি আ কর্তৃপক্ষ বলেছে এমন কিছু হলে এ দলগুলোকে ঘরোয়া লিগ ও উয়েফার সব ধরনের প্রতিযোগিতা থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে। পাশাপাশি লিগে অংশ নেওয়া কোনো ফুটবলার খেলতে পারবেন না জাতীয় দলের হয়েও। এদিকে ফিফা বলছে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষেধাজ্ঞার কথা।
চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতবেন নেইমাররা?
ইউরোপের ফুটবল শক্তির বড় এক অংশের বিদ্রোহী হয়ে ওঠায় অবশ্য লাভ হচ্ছে নেইমারদের। এখন পর্যন্ত যে অবস্থা, তাতে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বাদ এবার ফাইনাল না খেলেই পেয়ে যেতে পারে পিএসজি! একদিকে মুখোমুখি রিয়াল মাদ্রিদ ও চেলসি। ওদিকে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে খেলবে পিএসজি। এখন উয়েফা যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে সুপার লিগে নাম লেখানো সব দলকে নিষিদ্ধ করা হবে, সে ক্ষেত্রে সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যে তিনটিই তো আর মাঠে নামতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে টুর্নামেন্টে খেলার উপযুক্ত দল বলতে টিকে থাকছে মাত্র একটি দল, পিএসজি।
জেরে বরখাস্ত মরিনহো
ইউরোপিয়ান সুপার লিগ নিয়ে যখন পুরো বিশ্বে আলোচনা। তখনই বরখাস্ত করা হয়েছে ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যামের কোচ হোসে মরিনিওকে। এর আগে যে শীর্ষ ১২ ক্লাব সুপার লিগ আয়োজনে সম্মতি দেয়, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল টটেনহ্যাম।
যদিও মনে করা হয়, মরিনহোকে বরখাস্ত করার সঙ্গে নতুন এই টুর্নামেন্টের কোনো যোগসূত্র নেই। ঘরোয়া লিগে টানা ব্যর্থতার কারণেই তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে টটেনহ্যাম। এবারের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ৩২ ম্যাচ খেলে ১৪ জয়ে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার সপ্তম স্থানে আছে টটেনহ্যাম। তবে টটেনহ্যাম সুপার লিগে জয়েন করায় সকালে খেলোয়াড়দের নিয়ে ট্রেনিংয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় মরিনহোকে বরখাস্ত করেছে ক্লাবটি-এমন কথাও বলেছে ইউরোপিয় কিছু গণমাধ্যম।
২০১৯ সালে আর্জেন্টাইন কোচ মাওরোসিও পচেত্তিনোকে সরিয়ে ৫৮ বছর বয়সী মরিনহোকে হেড কোচের দায়িত্ব দেয় টটেনহ্যাম। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে কারাবো কাপের ফাইনালে নামার এক সপ্তাহ আগেই তাকেও বরখাস্ত করল ক্লাবটি। আপাতত টটেনহ্যামের দায়িত্বে থাকবেন রিয়ান ম্যাসন ও ক্রিস পাওয়েল। মরিনিওর অধীনে ৮৬ ম্যাচ খেলে ৪৪টিতে জয় পেয়েছে টটেনহ্যাম। মরিনহোর সঙ্গে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চুক্তি ছিল টটেনহ্যামের।
প্রতিষ্ঠাতা ১২টি ক্লাব কি ঘরোয়া লিগ ছাড়বে
নিজেদের ঘরোয়া লিগে খেলার পাশাপাশি সুপার লিগে অংশ নিতে চায় প্রতিষ্ঠাতা ক্লাবগুলো। তবে বিষয়টি বেশ জটিল আকার ধারণ করতে পারে। জট পাকানো সূচি তো আছেই, কিন্তু তার আগেই ইংল্যান্ড, ইতালি ও স্পেনের লিগগুলো বলে দিয়েছে, নতুন এই লিগে খেললে ঘরোয়া লিগে নিষিদ্ধ হবে ক্লাবগুলো।
মেয়েদের সুপার লিগ হবে?
ক্লাবগুলোর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ছেলেদের টুর্নামেন্ট চালু হওয়ার পর মেয়েদের টুর্নামেন্টও শুরু করা হবে। মেয়েদের ফুটবল এগিয়ে নিতেই এ সিদ্ধান্ত।’
নেপথ্যে কারা?
জুভেন্টাসের সভাপতি আন্দ্রেয়া আগ্নেলির মস্তিষ্কপ্রসূত এই লিগের মূল কারিগর হিসেবে ধরা হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে। তিনিই এই লিগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। সহ সভাপতি হিসেবে জুভেন্টাসের আগ্নেলির সাথে আরও আছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সভাপতি জোয়েল গেøজার, লিভারপুলের জন ডব্লিউ হেনরি, আর্সেনালের স্ট্যান ক্রোয়েংকে। শোনা যাচ্ছে নতুন বার্নাব্যু স্টেডিয়াম হতে পারে এই লিগের অফিসিয়াল ভেন্যু।
সুপার লিগের আয়োজকদের দাবি
রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ সুপার লিগেরও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ফুটবলকে যেকোনো পর্যায়ে সাহায্য করব এবং খেলাটাকে সঠিক জায়গায় নিয়ে যাব। ফুটবল একমাত্র বৈশ্বিক খেলা, যেখানে ভক্তসংখ্যা ৪০০ কোটির বেশি। বড় ক্লাব হিসেবে তাদের চাহিদার প্রতি সাড়া দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।’
পেরেজের সহসভাপতিদের একজন জুভেন্টাস সভাপতি আন্দ্রেয়া আগনেল্লি বলেছেন, ‘আমাদের ১২টি প্রতিষ্ঠাতা ক্লাবের বিশ্বজুড়ে কয়েক’শ কোটি সমর্থক আছে, ট্রফিসংখ্যা ৯৯টি। এই ক্রান্তিকালে আমরা ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতা সংস্কার করেছি, অদূর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে খেলাটিকে একটি টেকসই জায়গায় নিয়ে যেতে চাই। এতে ভক্ত থেকে অপেশাদার খেলোয়াড়েরাও নিয়মিত বড় ম্যাচ দেখার মাধ্যমে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার খোরাক মেটাতে পারবেন।’
নতুন লিগে খেলোয়াড়দের ধকল কতটা বাড়বে?
বলার অপেক্ষা রাখে না, এই লিগের জন্য আরও বেশি ধকল যাবে ফুটবলারদের ওপর। এমনিতেই ইংল্যান্ডে ৩৮ সপ্তাহের লিগ খেলা হচ্ছে ৩৪ সপ্তাহে। এই লিগের জন্য আরও বাড়তি ৩৪টি ম্যাচ খেলতে হবে। যার মানে বড় ক্লাবগুলোকে স্কোয়াড বাড়াতে হবে অনেক বেশি। এর মধ্যে এফএ কাপ, কোপা ডেল রে-র মতো ঘরোয়া প্রতিযোগিতাও খেলতে হবে দলগুলোকে।
ফুটবলাররা কী বলছেন?
বর্তমান ফুটবলাররা এ নিয়ে নিজেদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি এখনো। তবে সাবেক ফুটবলাররা কমবেশি সবাই এই লিগকে ‘ক্রিমিন্যাল’ বলে মত দিয়েছেন। তাদের মতে, ফুটবলের বৈশ্বিক আবেদন ও মূলনীতির বিরুদ্ধে গিয়ে এই লিগ কিছু অভিজাত ক্লাবের স্বার্থরক্ষা করবে।
ফুটবলে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে এটা?
ক্যারি প্যাকারের ওয়ার্ল্ড সিরিজ হোক, আর আইসিএল। দুটো টুর্নামেন্টই খুব বেশিদিন টিকতে পারেনি, তবে ক্রিকেটের নিয়মনীতি আর রেওয়াজে বড় পরিবর্তনই আনতে পেরেছিল। ইউরোপিয়ান সুপার লিগ যে খুব সহসাই মিলিয়ে যাবে তা বলা যাচ্ছে না। তবে যা আঁচ করা যাচ্ছে তা হলো, ফুটবলকে খোলনলচে পাল্টে দিতেই মাঠে আসছে এই ইউরোপিয়ান সুপার লিগ।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর