ঢাকা ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
‘পূর্ণাঙ্গ বিজয় না আসা পর্যন্ত’ লড়াইয়ের ঘোষণা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত করে: রাষ্ট্রপতি ২৩ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৩৪৫০২ কোটি টাকা স্বাধীনতার গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ করা জরুরি : সংস্কৃতি মন্ত্রী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ সরকারের সৎ মায়ের নির্যাতন, মা’র কবরের পাশে শিশুর কান্না ভাইরাল নতুন সিদ্ধান্ত, ১০ শনিবার খোলা থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন ৫ দিনের রিমান্ডে ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে প্রায় ১১ ঘণ্টা অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী ৭ দিনের অভিযান আসাদগেট-শ্যামলীতে সব ক্লিনিক পরিদর্শন, অনিয়মে ছাড় নয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রবিউল আউয়াল প্রিয়নবির আগমন উম্মতের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০১৭
  • ৪১০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তাআলা বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরুপ প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি তো আপনাকে বিশ্ব জগতের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ হিজরি বর্ষের তৃতীয় মাস রবিউল আউয়ালেই আল্লাহ তাআরা প্রিয়নবিকে উম্মতের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আর এ কারণেই রবিউল আউয়াল মাস দুনিয়াতে মর্যাদা লাভ করেছেন।

শুধু তা-ই নয়, এ মাসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ পৃথিবী থেকে বিদায় গ্রহণ করেছেন। প্রিয়নবির জন্ম যেমন আমাদের জন্য আনন্দের আবার তাঁর ওফাত আমাদের জন্য দুঃখ ও বেদনার। এ কারণেই মুসলিম উম্মাহর কাছে রবিউল আউয়াল হলো বিশ্বনবির আদর্শ বাস্তবায়নের অপূর্ব সুযোগ লাভের মাস। এ মাসটি মুসলিম উম্মাহর জন্য সর্বোচ্চ আনন্দের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বেদনার দিন। সর্বোপরি এ রবিউল আউয়াল মাস হোক উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য ‘উসওয়াতুন্নবী বা প্রিয়নবির আদর্শ’ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাস।

আর প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিন উম্মতের জন্য কতটা ফজিলতপূর্ণ তা হাদিসের সুস্পষ্ট বক্তব্যে ওঠে এসেছে-

>> হজরত আবু কাতাদাহ আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সোমবার রোজা রাখার কারণ জিজ্ঞাস করা হলে তিনি বলেন, এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি, এই দিনেই আমি নবুয়ত পেয়েছি। (মুসলিম)

>> হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দিনে (সোমবার) জন্ম গ্রহণ করেন; সোমবার নবুয়ত লাভ করেন। এ দিনই তিনি ইন্তেকাল করেন। মক্কা থেকে হিজরতও শুরু করেন এ দিনে। আবার মদিনায় পৌছান সোমবার এবং এদিনেই হাজরে আসওয়াদ উত্তোলন করেন (প্রতিস্থাপন)। (মুসনাদে আহমদ)

oswatonnabi

>> হজরত কায়স ইবনে মাখরামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম; দু’জনেই (আমুল ফিল) হাতির (বাহিনীর আক্রমণের) বছর জন্ম গ্রহণ করেছি। ওসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু কুবাইস ইবনে আশইয়ামকে প্রশ্ন করেন, আপনি (বয়সে) বড় না রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বড়? তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার থেকে বড়। আমি তাঁর পরে জন্মগ্রহণ করেছি। আর তিনি হাতির (বাহিনীর আক্রমণের) বছর জন্মগ্রহণ করেন। (তিরমিজি)

হাতির বছর বলতে বুঝায়- সে বছর আবরাহা হস্তি বাহিনী নিয়ে কাবা ঘর ধ্বংসের জন্য মক্কা আক্রমণ করেছিল। ঐতিহাসিকদের মতে এ বছর ৫৭০ বা ৫৭১ খ্রিস্টাব্দ ছিল। আর সহিহ হাদিস ও ঐতিহাসিক সত্য যে, প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার দিবসে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম দিন ও মাস হোক মুসলিম উম্মাহর আদর্শ জীবন গড়ার প্রেরণা। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয়নবির আদর্শ গ্রহণ ও যথাযথ বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

‘পূর্ণাঙ্গ বিজয় না আসা পর্যন্ত’ লড়াইয়ের ঘোষণা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর

রবিউল আউয়াল প্রিয়নবির আগমন উম্মতের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার

আপডেট টাইম : ১২:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তাআলা বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরুপ প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি তো আপনাকে বিশ্ব জগতের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ হিজরি বর্ষের তৃতীয় মাস রবিউল আউয়ালেই আল্লাহ তাআরা প্রিয়নবিকে উম্মতের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আর এ কারণেই রবিউল আউয়াল মাস দুনিয়াতে মর্যাদা লাভ করেছেন।

শুধু তা-ই নয়, এ মাসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ পৃথিবী থেকে বিদায় গ্রহণ করেছেন। প্রিয়নবির জন্ম যেমন আমাদের জন্য আনন্দের আবার তাঁর ওফাত আমাদের জন্য দুঃখ ও বেদনার। এ কারণেই মুসলিম উম্মাহর কাছে রবিউল আউয়াল হলো বিশ্বনবির আদর্শ বাস্তবায়নের অপূর্ব সুযোগ লাভের মাস। এ মাসটি মুসলিম উম্মাহর জন্য সর্বোচ্চ আনন্দের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বেদনার দিন। সর্বোপরি এ রবিউল আউয়াল মাস হোক উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য ‘উসওয়াতুন্নবী বা প্রিয়নবির আদর্শ’ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাস।

আর প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিন উম্মতের জন্য কতটা ফজিলতপূর্ণ তা হাদিসের সুস্পষ্ট বক্তব্যে ওঠে এসেছে-

>> হজরত আবু কাতাদাহ আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সোমবার রোজা রাখার কারণ জিজ্ঞাস করা হলে তিনি বলেন, এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি, এই দিনেই আমি নবুয়ত পেয়েছি। (মুসলিম)

>> হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দিনে (সোমবার) জন্ম গ্রহণ করেন; সোমবার নবুয়ত লাভ করেন। এ দিনই তিনি ইন্তেকাল করেন। মক্কা থেকে হিজরতও শুরু করেন এ দিনে। আবার মদিনায় পৌছান সোমবার এবং এদিনেই হাজরে আসওয়াদ উত্তোলন করেন (প্রতিস্থাপন)। (মুসনাদে আহমদ)

oswatonnabi

>> হজরত কায়স ইবনে মাখরামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম; দু’জনেই (আমুল ফিল) হাতির (বাহিনীর আক্রমণের) বছর জন্ম গ্রহণ করেছি। ওসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু কুবাইস ইবনে আশইয়ামকে প্রশ্ন করেন, আপনি (বয়সে) বড় না রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বড়? তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার থেকে বড়। আমি তাঁর পরে জন্মগ্রহণ করেছি। আর তিনি হাতির (বাহিনীর আক্রমণের) বছর জন্মগ্রহণ করেন। (তিরমিজি)

হাতির বছর বলতে বুঝায়- সে বছর আবরাহা হস্তি বাহিনী নিয়ে কাবা ঘর ধ্বংসের জন্য মক্কা আক্রমণ করেছিল। ঐতিহাসিকদের মতে এ বছর ৫৭০ বা ৫৭১ খ্রিস্টাব্দ ছিল। আর সহিহ হাদিস ও ঐতিহাসিক সত্য যে, প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার দিবসে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম দিন ও মাস হোক মুসলিম উম্মাহর আদর্শ জীবন গড়ার প্রেরণা। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয়নবির আদর্শ গ্রহণ ও যথাযথ বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।