ঢাকা ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হজের মাসে কি ওমরাহ করা যাবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ২ বার

অনেকে মনে করেন, হজের মাসে ওমরাহ করা মাকরুহ। কিন্তু এ ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বিষয়টি বুঝতে হলে হজের মাসসমূহ, নির্দিষ্ট দিন এবং শরিয়তের বিধান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

হজের মাসে ওমরাহ করার বিধান

হজের মাসসমূহ—শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ। এর মধ্যে শুধু হজের নির্দিষ্ট পাঁচ দিন অর্থাৎ জিলহজের ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ তারিখে ওমরাহ করা মাকরুহ তাহরিমি। তাই এই দিনগুলোতে ওমরাহ থেকে বিরত থাকতে হবে।

তবে এ ছাড়া—

> শাওয়াল মাসে ওমরাহ করা যায়

> জিলকদ মাসে ওমরাহ করা যায়

> জিলহজ মাসের প্রথম ৮ দিনেও ওমরাহ করা জায়েজ

হজের মাসে ওমরাহর ফজিলত

অনেক আলেম হজের মাসসমূহে ওমরাহ করাকে ফজিলতপূর্ণ বলেছেন। কারণ, নবীজি (সা.) তাঁর একাধিক ওমরাহ এই মাসগুলোতেই আদায় করেছেন।

> হুদায়বিয়ার ওমরাহ — জিলকদ

> কাজা ওমরাহ — জিলকদ

> জি‘রানা ওমরাহ — জিলকদ

> বিদায় হজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ওমরাহ — জিলকদ

তাই কেউ যদি নবীজি (সা.)-কে অনুসরণের নিয়তে এই তিন মাসে ওমরাহ আদায় করেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ তিনি দ্বিগুণ সওয়াবের আশা করতে পারেন—ওমরাহর সওয়াব এবং সুন্নাহ অনুসরণের সওয়াব।

বিশেষ ফজিলতের বিষয়ে সতর্কতা

যদিও হজের মাসে ওমরাহ করার আলাদা কোনো স্পষ্ট ফজিলত সম্পর্কে নির্দিষ্ট হাদিস নেই, তবে রমজান মাসের ওমরাহ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: عُمْرَةٌ فِي رَمَضَانَ تَعْدِلُ حَجًّا

অর্থ: ‘রমজান মাসে একটি ওমরাহ একটি হজের সমতুল্য।’

আরেক বর্ণনায় এসেছে—

تَعْدِلُ حَجًّا مَعِي

‘আমার সঙ্গে হজ করার সমতুল্য।’ (বুখারি ১৭৮৬, মুসলিম ১২৫৬)

শাওয়াল ও জিলকদ কেন হজের মাস?

হিজরি ক্যালেন্ডারের শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ—এই তিনটি মাসকে হজের মাস বলা হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ‘হজের নির্দিষ্ট কয়েকটি মাস’ বলে এ মাসগুলোকে নির্দেশ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللَّهُ وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَىٰ وَاتَّقُونِ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ

‘হজের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি মাস রয়েছে। এসব মাসে যে ব্যক্তি হজের নিয়ত করে, তার জন্য স্ত্রী সহবাস, গুনাহ এবং ঝগড়া-বিবাদ বৈধ নয়। তোমরা যা ভালো কাজ কর, আল্লাহ তা জানেন। আর তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া। হে বুদ্ধিমানরা! আমাকে ভয় কর।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৯৭)

হজের মাস হওয়ার প্রকৃত অর্থ

এই মাসগুলোকে হজের মাস বলা মানে এই নয় যে, এই তিন মাসের যেকোনো দিনে হজের সব আমল করা যাবে। বরং এর অর্থ হলো—

> এই সময়ের মধ্যেই হজের ইহরাম বাঁধতে হয়

> শাওয়াল শুরু হওয়ার আগে হজের ইহরাম বাঁধা বৈধ নয়

> শাওয়াল থেকে ইহরাম শুরু করা যায়

যদি কেউ শাওয়ালের শুরুতেই হজের নিয়তে ইহরাম বাঁধে এবং তাওয়াফ ও সাঈ করে, তবে তা হজের অংশ হিসেবেই গণ্য হবে। তবে আরাফায় অবস্থানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আমল নির্ধারিত তারিখেই আদায় করতে হবে।

হজের মাসে ওমরাহ করা নিষিদ্ধ বা সর্বক্ষেত্রে মাকরুহ—এ ধারণা সঠিক নয়। বরং নির্দিষ্ট পাঁচ দিন ছাড়া বাকি সময়গুলোতে ওমরাহ করা সম্পূর্ণ বৈধ। তবে আমল করার ক্ষেত্রে সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি, যাতে ইবাদতটি শরিয়তসম্মতভাবে আদায় হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক জ্ঞান ও সহিহ আমলের তাওফিক দান করুন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

হজের মাসে কি ওমরাহ করা যাবে

আপডেট টাইম : ১২:১৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

অনেকে মনে করেন, হজের মাসে ওমরাহ করা মাকরুহ। কিন্তু এ ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বিষয়টি বুঝতে হলে হজের মাসসমূহ, নির্দিষ্ট দিন এবং শরিয়তের বিধান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

হজের মাসে ওমরাহ করার বিধান

হজের মাসসমূহ—শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ। এর মধ্যে শুধু হজের নির্দিষ্ট পাঁচ দিন অর্থাৎ জিলহজের ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ তারিখে ওমরাহ করা মাকরুহ তাহরিমি। তাই এই দিনগুলোতে ওমরাহ থেকে বিরত থাকতে হবে।

তবে এ ছাড়া—

> শাওয়াল মাসে ওমরাহ করা যায়

> জিলকদ মাসে ওমরাহ করা যায়

> জিলহজ মাসের প্রথম ৮ দিনেও ওমরাহ করা জায়েজ

হজের মাসে ওমরাহর ফজিলত

অনেক আলেম হজের মাসসমূহে ওমরাহ করাকে ফজিলতপূর্ণ বলেছেন। কারণ, নবীজি (সা.) তাঁর একাধিক ওমরাহ এই মাসগুলোতেই আদায় করেছেন।

> হুদায়বিয়ার ওমরাহ — জিলকদ

> কাজা ওমরাহ — জিলকদ

> জি‘রানা ওমরাহ — জিলকদ

> বিদায় হজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ওমরাহ — জিলকদ

তাই কেউ যদি নবীজি (সা.)-কে অনুসরণের নিয়তে এই তিন মাসে ওমরাহ আদায় করেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ তিনি দ্বিগুণ সওয়াবের আশা করতে পারেন—ওমরাহর সওয়াব এবং সুন্নাহ অনুসরণের সওয়াব।

বিশেষ ফজিলতের বিষয়ে সতর্কতা

যদিও হজের মাসে ওমরাহ করার আলাদা কোনো স্পষ্ট ফজিলত সম্পর্কে নির্দিষ্ট হাদিস নেই, তবে রমজান মাসের ওমরাহ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: عُمْرَةٌ فِي رَمَضَانَ تَعْدِلُ حَجًّا

অর্থ: ‘রমজান মাসে একটি ওমরাহ একটি হজের সমতুল্য।’

আরেক বর্ণনায় এসেছে—

تَعْدِلُ حَجًّا مَعِي

‘আমার সঙ্গে হজ করার সমতুল্য।’ (বুখারি ১৭৮৬, মুসলিম ১২৫৬)

শাওয়াল ও জিলকদ কেন হজের মাস?

হিজরি ক্যালেন্ডারের শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ—এই তিনটি মাসকে হজের মাস বলা হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ‘হজের নির্দিষ্ট কয়েকটি মাস’ বলে এ মাসগুলোকে নির্দেশ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللَّهُ وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَىٰ وَاتَّقُونِ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ

‘হজের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি মাস রয়েছে। এসব মাসে যে ব্যক্তি হজের নিয়ত করে, তার জন্য স্ত্রী সহবাস, গুনাহ এবং ঝগড়া-বিবাদ বৈধ নয়। তোমরা যা ভালো কাজ কর, আল্লাহ তা জানেন। আর তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া। হে বুদ্ধিমানরা! আমাকে ভয় কর।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৯৭)

হজের মাস হওয়ার প্রকৃত অর্থ

এই মাসগুলোকে হজের মাস বলা মানে এই নয় যে, এই তিন মাসের যেকোনো দিনে হজের সব আমল করা যাবে। বরং এর অর্থ হলো—

> এই সময়ের মধ্যেই হজের ইহরাম বাঁধতে হয়

> শাওয়াল শুরু হওয়ার আগে হজের ইহরাম বাঁধা বৈধ নয়

> শাওয়াল থেকে ইহরাম শুরু করা যায়

যদি কেউ শাওয়ালের শুরুতেই হজের নিয়তে ইহরাম বাঁধে এবং তাওয়াফ ও সাঈ করে, তবে তা হজের অংশ হিসেবেই গণ্য হবে। তবে আরাফায় অবস্থানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আমল নির্ধারিত তারিখেই আদায় করতে হবে।

হজের মাসে ওমরাহ করা নিষিদ্ধ বা সর্বক্ষেত্রে মাকরুহ—এ ধারণা সঠিক নয়। বরং নির্দিষ্ট পাঁচ দিন ছাড়া বাকি সময়গুলোতে ওমরাহ করা সম্পূর্ণ বৈধ। তবে আমল করার ক্ষেত্রে সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি, যাতে ইবাদতটি শরিয়তসম্মতভাবে আদায় হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক জ্ঞান ও সহিহ আমলের তাওফিক দান করুন।