ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’ বোল্টের চেয়েও দ্রুত দৌড়ানো সেই চীনা রোবটের নতুন চমক মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি প্রধানমন্ত্রী ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: মঈন খান চুলে রং করার পর যত্ন নেবেন যেভাবে নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় : ডিএসসিসি প্রশাসক চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করতে হবে: আইনমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

মাদরাসা শিক্ষকদের মে মাসের বেতন বিলম্ব: দ্রুত সমাধান ও স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৪১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ৩৫ বার

দেশের এমপিওভুক্ত মাদরাসাসমূহে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের গত মে মাসের বেতন নির্ধারিত সময়ে ছাড় না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন। ১৬ জুন (মঙ্গলবার) সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব ও ভোলা দারুল হাদিস কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসা অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোবাশ্বিরুল হক নাঈম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান, জবাবদিহিতা ও স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।

আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোবাশ্বিরুল হক নাঈম বলেন, দেশের এমপিওভুক্ত মাদরাসাসমূহে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীগণ জাতি গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তারা দেশের ধর্মীয়, নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা বিস্তারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, মে/২০২৬ মাসের বেতন নির্ধারিত সময়ে ছাড় না হওয়ায় দেশের হাজার হাজার মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারি ও তাঁদের পরিবার চরম আর্থিক সংকট, মানসিক উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন।

তিনি বলেন, মাসের পর মাস নিয়মিত দায়িত্ব পালন করার পরও সময়মতো বেতন না পাওয়া একজন শিক্ষকের সাংবিধানিক ও ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ণ করে। বেতন বিলম্বের কারণে পরিবার পরিচালনা, সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যয়, বাসাভাড়া এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয় নির্বাহ করা অনেক শিক্ষকের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় উদ্ভূত পরিস্থিতির স্থায়ী নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নিকট সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করা হয়েছে। মে মাসের বেতন এখনো ছাড় না হওয়ার প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কোন ধরনের প্রশাসনিক বা প্রক্রিয়াগত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে, তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষক সমাজ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, যদি কোনো কর্মকর্তা বা দপ্তরের অবহেলা, গাফিলতি কিংবা দায়িত্বহীনতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকে, তবে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভোগান্তি অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে অনতিবিলম্বে মে মাসের বকেয়া বেতন ছাড় করার পাশাপাশি বেশ কিছু স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতি মাসের বেতন চলতি মাসের শেষ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং বার্ষিক বাজেট ও অর্থছাড় প্রক্রিয়াকে এমনভাবে সহজ করা যাতে প্রতি মাসে নতুন করে ফাইল অনুমোদনের জটিলতা পোহাতে না হয়। প্রয়োজনে আইনি বিধিমালা বা প্রশাসনিক নির্দেশনার মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন পরিশোধের নির্দিষ্ট সময়সীমা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সাথে মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য একটি আধুনিক, স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রণয়নের দাবি তোলা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনবে।

প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিনীত আবেদন জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি আরও বলা হয়, দেশের লক্ষ লক্ষ মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারী আজ আপনার সদয় হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন। আপনার নির্দেশনায় দ্রুত বেতন ছাড়, দায়িত্বশীলদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে মাসের শেষেই নিয়মিত বেতন প্রদানের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে শিক্ষক সমাজ গভীরভাবে উপকৃত হবে। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষকদের মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’

মাদরাসা শিক্ষকদের মে মাসের বেতন বিলম্ব: দ্রুত সমাধান ও স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের

আপডেট টাইম : ০৯:৪১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

দেশের এমপিওভুক্ত মাদরাসাসমূহে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের গত মে মাসের বেতন নির্ধারিত সময়ে ছাড় না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন। ১৬ জুন (মঙ্গলবার) সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব ও ভোলা দারুল হাদিস কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসা অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোবাশ্বিরুল হক নাঈম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান, জবাবদিহিতা ও স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।

আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোবাশ্বিরুল হক নাঈম বলেন, দেশের এমপিওভুক্ত মাদরাসাসমূহে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীগণ জাতি গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তারা দেশের ধর্মীয়, নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা বিস্তারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, মে/২০২৬ মাসের বেতন নির্ধারিত সময়ে ছাড় না হওয়ায় দেশের হাজার হাজার মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারি ও তাঁদের পরিবার চরম আর্থিক সংকট, মানসিক উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন।

তিনি বলেন, মাসের পর মাস নিয়মিত দায়িত্ব পালন করার পরও সময়মতো বেতন না পাওয়া একজন শিক্ষকের সাংবিধানিক ও ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ণ করে। বেতন বিলম্বের কারণে পরিবার পরিচালনা, সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যয়, বাসাভাড়া এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয় নির্বাহ করা অনেক শিক্ষকের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় উদ্ভূত পরিস্থিতির স্থায়ী নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নিকট সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করা হয়েছে। মে মাসের বেতন এখনো ছাড় না হওয়ার প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কোন ধরনের প্রশাসনিক বা প্রক্রিয়াগত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে, তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষক সমাজ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, যদি কোনো কর্মকর্তা বা দপ্তরের অবহেলা, গাফিলতি কিংবা দায়িত্বহীনতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকে, তবে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভোগান্তি অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে অনতিবিলম্বে মে মাসের বকেয়া বেতন ছাড় করার পাশাপাশি বেশ কিছু স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতি মাসের বেতন চলতি মাসের শেষ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং বার্ষিক বাজেট ও অর্থছাড় প্রক্রিয়াকে এমনভাবে সহজ করা যাতে প্রতি মাসে নতুন করে ফাইল অনুমোদনের জটিলতা পোহাতে না হয়। প্রয়োজনে আইনি বিধিমালা বা প্রশাসনিক নির্দেশনার মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন পরিশোধের নির্দিষ্ট সময়সীমা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সাথে মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য একটি আধুনিক, স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রণয়নের দাবি তোলা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনবে।

প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিনীত আবেদন জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি আরও বলা হয়, দেশের লক্ষ লক্ষ মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারী আজ আপনার সদয় হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন। আপনার নির্দেশনায় দ্রুত বেতন ছাড়, দায়িত্বশীলদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে মাসের শেষেই নিয়মিত বেতন প্রদানের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে শিক্ষক সমাজ গভীরভাবে উপকৃত হবে। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষকদের মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হবে।