৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি থেকে চাকরিচ্যুত উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহীদ হাসান মল্লিকের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
রবিবার জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, মো. শহীদ হাসান মল্লিক প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির চাকরিচ্যুত উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার বিরুদ্ধে ভুয়া বিল ও ঋণের নামে প্রায় ৪ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও অডিট প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নিয়ম ভেঙে প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির একই শাখায় টানা ১০ বছর ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেন শহীদ হাসান মল্লিক। অর্থ কেলেঙ্কারি, নীতি বহির্ভূত কর্মকাণ্ড, অবহেলা, অসদাচরণসহ নানা অভিযোগে ব্যাংকের ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স ডিভিশন (ICCD) ২০২৩ সালের ৭ মে থেকে নারায়ণগঞ্জ শাখার বৈদেশিক মুদ্রা (Foreign Exchange) কার্যক্রমের ওপর একটি বিশেষ পরিদর্শন পরিচালনা করে এবং একই বছরের ২৬ জুন এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ব্যাংক ব্যবস্থাপনার নিকট দাখিল করে।
ICCD-এর নিরীক্ষা প্রতিবেদনসমূহ পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়, শহীদ হাসান মল্লিক নারায়ণগঞ্জ শাখার তৎকালীন প্রধান হিসেবে অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যৌথভাবে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত নির্দেশিকা (Guidelines for Foreign Exchange Transactions-GFET) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট (FEPD)-এর নির্দেশনা ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘন করেছেন। একই সঙ্গে যথাযথ অনুমোদন ব্যতিরেকে BTB LC/ABP এবং FDBP সীমা (Limit) সৃষ্টি, দলিলপত্র জালকরণ, কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (CBS) পরিবর্তন বা বিকৃতকরণ, গ্রাহকদের প্রকৃত দায় গোপন করা, BBOIMS-এ ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং প্রতারণামূলক উপায়ে অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অসদাচরণে জড়িত ছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে ব্যাংক আনুমানিক ৪,৬১৩.৫৩ কোটি টাকা আর্থিক ঝুঁকির সম্মুখীন হয়।
তদন্ত কমিটির সামনে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ প্রদান করা হয়। বিভাগীয় তদন্ত পরিচালিত হয়। ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়, শহীদ হাসান মল্লিক নারায়ণগঞ্জ শাখার শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উক্ত শাখায় বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত নির্দেশিকা (GFET) লঙ্ঘনসহ গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে যথাযথ অনুমোদন ব্যতিরেকে ঋণসুবিধা (Credit) সৃষ্টি, দলিলপত্র জালকরণ এবং ব্যাংকের রেকর্ড বিকৃতি (Record Manipulation)-এর মতো গুরুতর অনিয়ম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে ব্যাংক আনুমানিক ৪,৬১৩.৫৩ কোটি টাকা আর্থিক ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রমাণিত অসদাচরণ বিবেচনা করে দেখা গেছে, তার এ ধরনের অসদাচরণ দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক এমপ্লয়িজ সার্ভিস রুলস অনুযায়ী “বড় ধরনের শাস্তি (Major Punishment)”-এর আওতাভুক্ত।
এমতাবস্থায়, ব্যাংকের যথাযথ কর্তৃপক্ষ সকল নথিপত্র, কার্যবিবরণী এবং তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১২.০২.২০২৪ তারিখ থেকে কার্যকরভাবে তাকে ব্যাংকের চাকরি থেকে বরখাস্ত (Dismiss) করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত যথাযথ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ১২.০২.২০২৪ তারিখ থেকে কার্যকরভাবে দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি-এর চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
Reporter Name 
























