কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন নৌশাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২১ আগস্ট রাতে মিঠামইন বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার দাবি করে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মনোয়ার মোহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২১ আগস্ট রাতে ইমরান হোসেনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য ও তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এ নিয়ে জাহিদুল আলম হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলেও দাবি তদন্তসংশ্লিষ্টদের। একই সঙ্গে ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
যেভাবে হত্যা করা হয়
গত ১৫ জুলাই রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন সদর বাজার এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে হামলার শিকার হন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর (৫৬)। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাপাতি নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কোপে গুরুতর আহত হন তিনি।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ১৮ জুলাই নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে আটক, পরে আরও দুইজন গ্রেপ্তার
হত্যাকাণ্ডের সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে মো. হেলাল (২৫) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মহিন উদ্দিন (৩৩) ও মো. শাহিন আলম (২৭) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ওই তিনজন ভাড়াটে খুনি। জাহিদুল আলমকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের কয়েক দিন আগে ঢাকা থেকে মিঠামইনে আনা হয়েছিল।
তদন্তে গ্রেপ্তারদের একজনের কাছ থেকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন ওরফে খোকার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ। এরপর থেকে মোকাররম আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এসে তিনি একাধিকবার নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
নিহতের স্বজনরা মোকাররম হোসেনসহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
‘পরিকল্পনাকারীদেরও গ্রেপ্তার করতে হবে’
নিহতের ছোট ভাই মো. আলমগীর শিকদার বলেন, “আমার ভাইকে যারা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, তাদের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, “দলমত বুঝি না, এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক, তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বিএনপি নেতা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
Reporter Name 
























