বাংলাদেশ থেকে পবিত্র হজ পালনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি সৌদি আরবে যাচ্ছেন, যা দেশের ধর্মীয় ব্যবস্থাপনার অন্যতম বৃহৎ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজে অংশ নেবেন। এই বিশাল সংখ্যক যাত্রীর যাতায়াত ও সেবার বিষয়টি সামনে রেখে আগেভাগেই নেওয়া হয়েছে বিস্তৃত পরিকল্পনা।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে প্রথম হজ ফ্লাইট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এতে ৪১৮ জন হজযাত্রী ছিলেন।
উদ্বোধনী ফ্লাইট উপলক্ষে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের শুভকামনা জানান এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া কামনা করেন।
এবার মোট ২০৭টি হজ-পূর্ব ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বাকি যাত্রীদের পরিবহন করবে সৌদিয়া এবং ফ্লাইনাস। প্রথম দিনেই ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
হজ-পূর্ব ফ্লাইট চলবে ২১ মে পর্যন্ত, আর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে আগামী ২৬ মে, যা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৩০ মে এবং চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি, সময়সূচির সমন্বয় এবং ভাড়া সহনীয় রাখাসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই হজ ফ্লাইট চালু করা হয়েছে।
হজযাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা উপহারও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এক লাখ বোতল মিনারেল ওয়াটার, যা হজ ক্যাম্পে বিতরণ করা হচ্ছে।
এছাড়া উদ্বোধনী ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য আলাদা উপহার প্যাকেজ প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ব্যাকপ্যাক, ইহরাম-সংশ্লিষ্ট সামগ্রী, মিসওয়াক ও আজওয়া খেজুরসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখা হয়েছে।
Reporter Name 
























