ঢাকা ০১:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধে নিহত সর্বকনিষ্ঠ কুর্দি নারী যোদ্ধা গজল মোলান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩ বার

উত্তর ইরাকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কথিত ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৯ বছর বয়সী কুর্দি যোদ্ধা গজল মোলান চাপারাবাদ। তিনি কুর্দি পেশমার্গা বাহিনীর সর্বকনিষ্ঠ নারী যোদ্ধাদের একজন ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর বাগদান সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

কুর্দিস্তান প্রেস এজেন্সির (কুর্দপা) প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির সপ্তম দিনে উত্তর ইরাকের সুরদাশের একটি আবাসিক এলাকায় ড্রোন হামলা চালায় ইরানি বাহিনী। সেখানে ইরানের বিরোধী দল ‘কোমালা অব দ্য টয়লার্স অব কুর্দিস্তানের’ সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলো অবস্থান করছিল। ওই হামলায় গজল মোলান গুরুতর আহত হন। পরে কোমালা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সচিবালয় এক বিবৃতিতে তাঁকে ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে।

সুরদাশ ক্যাম্পে হওয়া এই হামলার বেশ কিছু ছবি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, হামলায় ব্যবহৃত একটি ড্রোনের গায়ে লেখা ছিল—‘আমার শহীদ নেতা সাইয়্যিদ আলী খামেনির স্মরণে’। যদিও ইরান সরকার এখন পর্যন্ত এই হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

গজলের মৃত্যুর পেছনে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে শোরশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় তাঁকে সেখান থেকে বাখশিন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

তবে বাখশিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গজলের পরিচয় জানতে পারে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত কাউকে চিকিৎসা দেওয়ার ফলে সৃষ্ট আইনি জটিলতার ভয়ে তাঁকে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়। গজলের সঙ্গী ও নাগরিক অধিকারকর্মী শাকিলা মাহদিপাহ জানান, গুরুতর রক্তক্ষরণ সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অনুরোধ ফিরিয়ে দেয়। পরে তাঁকে ফারুক মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে ততক্ষণে তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে এবং তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, মৃত্যুর পর গজলের মরদেহ নিতেও মর্গের কর্মীরা অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ উঠেছে। বামপন্থী পেশমার্গা গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণেই এমন আচরণ করা হয় বলে দাবি করেছেন তাঁর সঙ্গীরা। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না দেখে সুলাইমানিয়া শহরের একটি লাইব্রেরির ভেতরে বন্ধু ও তাঁর হবু স্বামী মিলে গজলের শেষকৃত্যের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।

দাফন চলাকালে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত থমথমে। জানা গেছে, ওই দিন সকালেই আইআরজিসি একটি পেশমার্গা কবরস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলার ভয়ে সুলাইমানিয়া কবরস্থানে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে ও দ্রুততার সঙ্গে গজলের জানাজা এবং দাফন সম্পন্ন করা হয়।

কুর্দি মানবাধিকারকর্মী রাদা ফাতেহি বলেন, একজন তরুণী যখন দেশ ছেড়ে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথ বেছে নেন, তা অসামান্য সাহসিকতার পরিচয় দেয়। যেখানে তাঁর বয়সের অন্যরা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটান, সেখানে তিনি সংগ্রামের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধে নিহত সর্বকনিষ্ঠ কুর্দি নারী যোদ্ধা গজল মোলান

আপডেট টাইম : ১১:২৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

উত্তর ইরাকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কথিত ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৯ বছর বয়সী কুর্দি যোদ্ধা গজল মোলান চাপারাবাদ। তিনি কুর্দি পেশমার্গা বাহিনীর সর্বকনিষ্ঠ নারী যোদ্ধাদের একজন ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর বাগদান সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

কুর্দিস্তান প্রেস এজেন্সির (কুর্দপা) প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির সপ্তম দিনে উত্তর ইরাকের সুরদাশের একটি আবাসিক এলাকায় ড্রোন হামলা চালায় ইরানি বাহিনী। সেখানে ইরানের বিরোধী দল ‘কোমালা অব দ্য টয়লার্স অব কুর্দিস্তানের’ সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলো অবস্থান করছিল। ওই হামলায় গজল মোলান গুরুতর আহত হন। পরে কোমালা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সচিবালয় এক বিবৃতিতে তাঁকে ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে।

সুরদাশ ক্যাম্পে হওয়া এই হামলার বেশ কিছু ছবি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, হামলায় ব্যবহৃত একটি ড্রোনের গায়ে লেখা ছিল—‘আমার শহীদ নেতা সাইয়্যিদ আলী খামেনির স্মরণে’। যদিও ইরান সরকার এখন পর্যন্ত এই হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

গজলের মৃত্যুর পেছনে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে শোরশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় তাঁকে সেখান থেকে বাখশিন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

তবে বাখশিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গজলের পরিচয় জানতে পারে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত কাউকে চিকিৎসা দেওয়ার ফলে সৃষ্ট আইনি জটিলতার ভয়ে তাঁকে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়। গজলের সঙ্গী ও নাগরিক অধিকারকর্মী শাকিলা মাহদিপাহ জানান, গুরুতর রক্তক্ষরণ সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অনুরোধ ফিরিয়ে দেয়। পরে তাঁকে ফারুক মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে ততক্ষণে তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে এবং তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, মৃত্যুর পর গজলের মরদেহ নিতেও মর্গের কর্মীরা অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ উঠেছে। বামপন্থী পেশমার্গা গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণেই এমন আচরণ করা হয় বলে দাবি করেছেন তাঁর সঙ্গীরা। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না দেখে সুলাইমানিয়া শহরের একটি লাইব্রেরির ভেতরে বন্ধু ও তাঁর হবু স্বামী মিলে গজলের শেষকৃত্যের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।

দাফন চলাকালে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত থমথমে। জানা গেছে, ওই দিন সকালেই আইআরজিসি একটি পেশমার্গা কবরস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলার ভয়ে সুলাইমানিয়া কবরস্থানে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে ও দ্রুততার সঙ্গে গজলের জানাজা এবং দাফন সম্পন্ন করা হয়।

কুর্দি মানবাধিকারকর্মী রাদা ফাতেহি বলেন, একজন তরুণী যখন দেশ ছেড়ে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথ বেছে নেন, তা অসামান্য সাহসিকতার পরিচয় দেয়। যেখানে তাঁর বয়সের অন্যরা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটান, সেখানে তিনি সংগ্রামের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।