হাওর বার্তা ডেস্কঃ মুশফিকুর রহিমের বাংলাদেশ দলের কারোরই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা ছিল না। অস্ট্রেলিয়ানরা কীভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে, বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের কীভাবে চাঙা রাখে, সেটি খুব কাছ থেকেই দেখলেন মুশফিকরা। অস্ট্রেলিয়ানদের ব্যাট-বলের সঙ্গে মুখও চলে সমানতালে। এই সিরিজেও স্লেজিংয়ের ‘ঐতিহ্য’ ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশকে চাপে রাখতে তারা বাংলায় পর্যন্ত স্লেজিং করেছে সাকিব-তামিমদের! তবে বাংলাদেশও কম যায়নি। চোখে চোখে রেখেই জবাব দিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। ব্যাট-বলের পাশাপাশি কথার লড়াই, সব মিলিয়ে অন্য সিরিজের সঙ্গে এই সিরিজের পার্থক্য ছিল কোথায়, সেটি জানালেন মুশফিক-তামিমরা—
‘জানতাম, ওরা শুধু ব্যাট বা বলে নয়, শারীরিক ভাষা বা কথায়ও মাঠে আমাদের চাপে রাখবে। ওরা যেভাবে আক্রমণাত্মক খেলে আমরা চেষ্টা করেছি সেটার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে। প্রথম টেস্টে আমরা তা ভালোভাবে পেরেছিও। বোলার-ব্যাটসম্যান সবাই চেষ্টা করেছে ওদের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার। পাঁচ-ছয় বছর আগের তুলনায় এখনকার বাংলাদেশ দলের অনেক পার্থক্য। যত বড় দলই হোক চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের সামর্থ্য আমাদের আছে। এটা আমাদের অনেক প্রাপ্তিও মনে করতে পারেন। আশা করি, সামনেও আমরা তা করে দেখাতে পারব।’
‘ওরা আগে নাম্বার ওয়ান টেস্ট দল ছিল। এখন হয়তো নেই। তবে ওরা যেভাবে টেস্ট খেলে তাতে অন্য দলের চেয়ে একটু পার্থক্য তো আছেই। মাঠে সব সময়ই নিজের খেলাটা নিয়েই মনোযোগী ছিলাম। ওরা আমাকে খুব একটা স্লেজিং করেনি। আর আমার কথার লড়াই করার খুব একটা অভ্যাস নেই। সব মিলিয়ে সিরিজটা ভালোই গেছে বলব।’
‘এই দলটির বিপক্ষে ১০ বছরের ক্যারিয়ারে খেললাম প্রথম। জানি, অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। সেরা দলের বিপক্ষে খেলাটা সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। ওরা কীভাবে পরিকল্পনা করে, এসব নিয়ে একটা রোমাঞ্চ তো ছিলই। সেরা দলের বিপক্ষে ভালো খেললে অন্য রকম একটা অনুভূতি হয়। সব দলেরই নিজস্ব খেলার ধরন আছে। অস্ট্রেলিয়ার তো আছেই। ওরা মাঠে কথা বলতে পছন্দ করে। অনেক আক্রমণাত্মক থাকে। আগে যেহেতু ওদের বিপক্ষে খেলিনি এসবের অভিজ্ঞতা ছিল না। ওরা যদি কথা বলতে পারে, আমরাও উত্তর দিতে পারি। তবে এমন কিছু নয় যে কথার জবাব দিয়ে নিজেদের অনেক বড় মনে করছি। সিরিজটা নিয়ে তৃপ্তির কথা যদি বলি, তবে দশের মধ্যে সাত-আট তো দেওয়াই যায়। ওদের সঙ্গে সিরিজ ড্র করা অবশ্যই বড় প্রাপ্তি। তবে সিরিজ জিততে পারলে দশে দশ দেওয়া যেত।’
‘সবচেয়ে বড় পার্থক্য যেটা মনে হয়েছে, মাঠে ওরা মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে থাকে। ম্যাচের পরিস্থিতি যা-ই থাক, মানসিকভাবে অনেক চাঙা থাকে। সহজেই হারতে চায় না। ওদের মধ্যে কখনোই আয়েশি ভাব দেখিনি। টেস্টে ওরা যে অন্য রকম দল, সেটা নানাভাবে বোঝাতে চায়। ওদের ওপর চড়াও হলে সেটা মেনে নিতে পারে না। আমরা যখন ওদের ওপর চড়াও হয়েছি, ওরা পাল্টা জবাব দিয়েছে। টেস্টের মজা তো এখানেই।’
‘সব সিরিজই আমার কাছে সমান। তবে শক্তিশালী দলের সঙ্গে সিরিজ ড্র করা অন্য রকম ব্যাপার। এ পর্যন্ত যত দলের সঙ্গে খেলেছি, মানসিকভাবে অস্ট্রেলিয়ানদেরই সবচেয়ে শক্ত মনে হয়েছে। ইংল্যান্ডও অনেক শক্তিশালী আর পেশাদার দল। তবে মানসিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়েরা সবচেয়ে এগিয়ে। ওরা মাঠে সব সময়ই আক্রমণাত্মক থাকে, সেটা ব্যাটে-বলে হোক আর কথার লড়াইয়ে। ইতিবাচক দিক হচ্ছে, আমরাও ভালো জবাব দিয়েছি ওদের। সিরিজটা জিততে পারলে ভালো হতো। তবে যা হয়েছে তাতে খুশি।
Reporter Name 





























