সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শিকাগো শহরে তাঁর বহুপ্রতীক্ষিত প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি দেশবাসীর প্রতি ঐক্য, সম্প্রীতি এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ জোরদারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন অতিক্রম করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতৃত্ব বিকাশে আরও বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় ওবামা বলেন, একটি দেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেবল সরকার বা কোনো একক রাজনৈতিক শক্তির ওপর নির্ভর করলে চলবে না। বরং নাগরিক সমাজ, স্থানীয় সম্প্রদায় এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিভাজনের রাজনীতি স্বল্পমেয়াদে লাভজনক মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা জাতীয় সংহতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেয়।
সাবেক এই ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি তার বৈচিত্র্য এবং মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতিতে নিহিত। সে কারণে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বজায় রাখা জরুরি। তাঁর ভাষায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করতে হলে শিক্ষা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং নাগরিক মূল্যবোধের বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিসহ দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, এই কেন্দ্রটি শুধু সাবেক প্রেসিডেন্টের কর্মকালের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের জন্য নয়, বরং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য একটি সক্রিয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
শিকাগোর সাউথ সাইডে নির্মিত ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারে একটি আধুনিক লাইব্রেরি, জাদুঘর, ফোরাম এবং উন্মুক্ত পার্কের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওবামা ফাউন্ডেশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখানে তরুণদের জন্য নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালিত হবে এবং নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিকাগো শহরের সঙ্গে বারাক ওবামার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একজন কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে তাঁর কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল এই শহরেই। পরবর্তীতে এখান থেকেই তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেন এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক সংলাপ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবেও কাজ করবে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
Reporter Name 
























