ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেপ্টেম্বর থেকে বাড়ছে চিপের দাম, অ্যান্ড্রয়েড ফোনের দামও কি বাড়বে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৯:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ বার

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মোবাইল চিপ নির্মাতা কোয়ালকম আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের বিভিন্ন সেমিকন্ডাক্টর পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সময়ে প্রকাশিত কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলেও দেখা গেছে, স্মার্টফোন বাজারে চাপ বাড়লেও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের সংকট মোকাবিলায় মূল্য সমন্বয়ের পথেই হাঁটছে প্রতিষ্ঠানটি। আর এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আগামী প্রজন্মের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের দামে।

গ্রাহকদের উদ্দেশে এক নোটিশে কোয়ালকম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মেমোরি, সাবস্ট্রেটসহ বিভিন্ন কাঁচামালের মূল্য এবং উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে এর পেছনে আরও একটি বড় কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ডেটা সেন্টার নির্মাণের ব্যাপক বিস্তার। বিশ্বজুড়ে নতুন এআই ডেটা সেন্টার তৈরিতে বিপুল পরিমাণ মেমোরি চিপ ও সেমিকন্ডাক্টর ব্যবহৃত হচ্ছে, এবং টেক জায়ান্টদের চাহিদা মোতাবেক এটিই প্রাধান্য পাচ্ছে। আর এই একই ধরনের চিপই স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং অন্যান্য ভোক্তা প্রযুক্তিপণ্যেও প্রয়োজন হয়। ফলে বৈশ্বিক চিপ সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

এই চাপ আরও বেড়েছে কোয়ালকমের প্রধান উৎপাদন অংশীদার তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিকে (টিএসএমসি) ঘিরে। অ্যাপল, এনভিডিয়া, কোয়ালকমসহ বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চিপ তৈরি করে টিএসএমসি। যদিও প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করছে, তবুও ধারণা করা হচ্ছে সরবরাহ সংকট ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

সম্প্রতি নিকি এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিএসএমসি গ্রাহক ও অর্ডারের পরিমাণভেদে চিপের উৎপাদন মূল্য ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। সেই অতিরিক্ত ব্যয় এবং নিজস্ব মুনাফার মার্জিন ধরে রাখতেই কোয়ালকমও গ্রাহকদের জন্য চিপের দাম বাড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস্টিয়ানো অ্যামন আর্থিক ফলাফল প্রকাশের সময় বলেন, সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার পরিস্থিতির কারণে মূল্য সমন্বয় অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী প্রান্তিকে অ্যাপলের কাছ থেকে কোয়ালকমের আয় আরও কমতে পারে, কারণ নতুন আইফোনে প্রতিষ্ঠানটির মডে ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে। একই সঙ্গে উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতা নতুন ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত কম দামের স্মার্টফোনের দিকে ঝুঁকছেন।

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোয়ালকমের মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার, যা বাজারের পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা বেশি। তবে কোম্পানির হ্যান্ডসেট চিপ বিভাগে আয় ২০ শতাংশ কমে ৫ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরের ওপর স্যামসাং, শাওমি, ওয়ানপ্লাস, অনার, মটোরোলা, আসুসসহ অধিকাংশ অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারার নির্ভরশীল। ফলে চিপের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শেষ পর্যন্ত নতুন স্মার্টফোনের খুচরা দামেই পড়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শেষ ভাগ এবং ২০২৭ সালের শুরুতে বাজারে আসা ফ্ল্যাগশিপ ও প্রিমিয়াম অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলোর দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সেপ্টেম্বর থেকে বাড়ছে চিপের দাম, অ্যান্ড্রয়েড ফোনের দামও কি বাড়বে

আপডেট টাইম : ১১:৪৯:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মোবাইল চিপ নির্মাতা কোয়ালকম আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের বিভিন্ন সেমিকন্ডাক্টর পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সময়ে প্রকাশিত কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলেও দেখা গেছে, স্মার্টফোন বাজারে চাপ বাড়লেও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের সংকট মোকাবিলায় মূল্য সমন্বয়ের পথেই হাঁটছে প্রতিষ্ঠানটি। আর এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আগামী প্রজন্মের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের দামে।

গ্রাহকদের উদ্দেশে এক নোটিশে কোয়ালকম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মেমোরি, সাবস্ট্রেটসহ বিভিন্ন কাঁচামালের মূল্য এবং উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে এর পেছনে আরও একটি বড় কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ডেটা সেন্টার নির্মাণের ব্যাপক বিস্তার। বিশ্বজুড়ে নতুন এআই ডেটা সেন্টার তৈরিতে বিপুল পরিমাণ মেমোরি চিপ ও সেমিকন্ডাক্টর ব্যবহৃত হচ্ছে, এবং টেক জায়ান্টদের চাহিদা মোতাবেক এটিই প্রাধান্য পাচ্ছে। আর এই একই ধরনের চিপই স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং অন্যান্য ভোক্তা প্রযুক্তিপণ্যেও প্রয়োজন হয়। ফলে বৈশ্বিক চিপ সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

এই চাপ আরও বেড়েছে কোয়ালকমের প্রধান উৎপাদন অংশীদার তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিকে (টিএসএমসি) ঘিরে। অ্যাপল, এনভিডিয়া, কোয়ালকমসহ বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চিপ তৈরি করে টিএসএমসি। যদিও প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করছে, তবুও ধারণা করা হচ্ছে সরবরাহ সংকট ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

সম্প্রতি নিকি এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিএসএমসি গ্রাহক ও অর্ডারের পরিমাণভেদে চিপের উৎপাদন মূল্য ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। সেই অতিরিক্ত ব্যয় এবং নিজস্ব মুনাফার মার্জিন ধরে রাখতেই কোয়ালকমও গ্রাহকদের জন্য চিপের দাম বাড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস্টিয়ানো অ্যামন আর্থিক ফলাফল প্রকাশের সময় বলেন, সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার পরিস্থিতির কারণে মূল্য সমন্বয় অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী প্রান্তিকে অ্যাপলের কাছ থেকে কোয়ালকমের আয় আরও কমতে পারে, কারণ নতুন আইফোনে প্রতিষ্ঠানটির মডে ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে। একই সঙ্গে উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতা নতুন ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত কম দামের স্মার্টফোনের দিকে ঝুঁকছেন।

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোয়ালকমের মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার, যা বাজারের পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা বেশি। তবে কোম্পানির হ্যান্ডসেট চিপ বিভাগে আয় ২০ শতাংশ কমে ৫ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরের ওপর স্যামসাং, শাওমি, ওয়ানপ্লাস, অনার, মটোরোলা, আসুসসহ অধিকাংশ অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারার নির্ভরশীল। ফলে চিপের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শেষ পর্যন্ত নতুন স্মার্টফোনের খুচরা দামেই পড়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শেষ ভাগ এবং ২০২৭ সালের শুরুতে বাজারে আসা ফ্ল্যাগশিপ ও প্রিমিয়াম অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলোর দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।