ঢাকা ০৭:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানে বর্মযুক্ত ডাইনোসরের জীবাশ্ম শনাক্ত গবেষণা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৪৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার

জাপানে একটি জীবাশ্ম পর্যালোচনা করে নতুন প্রজাতির বর্মযুক্ত ডাইনোসর হিসেবে শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। প্রায় ৩০ বছর আগে আবিষ্কৃত ডাইনোসরের জীবাশ্মটি পর্যালোচনা করে এমন তথ্য জানিয়েছেন তাঁরা। আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ক্রিটেশাস রিসার্চে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৯ কোটি ৩০ লাখ থেকে ১০ কোটি বছর পুরোনো ডাইনোসরটির নাম দেওয়া হয়েছে নিপ্পনোপেল্টা ইজোয়েন্সিস। জাপানি শব্দ নিপ্পন অর্থ জাপান, গ্রিক শব্দ পেল্টা অর্থ ছোট ঢাল এবং জাপানি শব্দ ইজো হলো হোক্কাইডো দ্বীপের প্রাচীন নাম।

১৯৯৫ সালে জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের সামুদ্রিক পলিমাটি থেকে উদ্ধার হওয়া জীবাশ্মটি সিটি স্ক্যান প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেন বিজ্ঞানীরা। এটি হাড়ের তৈরি প্লেট দিয়ে আবৃত নোডাসরিড পরিবারের অন্তর্গত। সাধারণত চার পায়ে হাঁটা এই তৃণভোজী ডাইনোসরগুলো উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস করত। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে নোডাসরিড প্রজাতি প্রচুর দেখা গেলেও এশিয়ায় এটি ডাইনোসরের অত্যন্ত বিরল প্রজাতি। গবেষকদের মতে, ১০ থেকে ১১ কোটি বছর আগে এই ডাইনোসরের পূর্বপুরুষেরা বেরিং ল্যান্ড ব্রিজ, অর্থাৎ বর্তমান আলাস্কা ও রাশিয়ার মধ্যবর্তী স্থান পার হয়ে উত্তর আমেরিকা থেকে এশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিল।

মৃত্যুর পর নদীপ্রবাহের মাধ্যমে সমুদ্রের পলিমাটিতে তলিয়ে যাওয়ায় জীবাশ্মটি সংরক্ষিত হয়। এশিয়ায় নোডাসরিডের সংখ্যা কম হওয়ার কারণ হতে পারে জীবাশ্ম রেকর্ডের সীমাবদ্ধতা। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতে আরও খননকাজের মাধ্যমে এই প্রাচীন প্রজাতির আন্তমহাদেশীয় স্থানান্তর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদ্‌ঘাটিত হবে।

সূত্র: লাইফ সায়েন্স

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানে বর্মযুক্ত ডাইনোসরের জীবাশ্ম শনাক্ত গবেষণা

আপডেট টাইম : ১২:৪৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

জাপানে একটি জীবাশ্ম পর্যালোচনা করে নতুন প্রজাতির বর্মযুক্ত ডাইনোসর হিসেবে শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। প্রায় ৩০ বছর আগে আবিষ্কৃত ডাইনোসরের জীবাশ্মটি পর্যালোচনা করে এমন তথ্য জানিয়েছেন তাঁরা। আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ক্রিটেশাস রিসার্চে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৯ কোটি ৩০ লাখ থেকে ১০ কোটি বছর পুরোনো ডাইনোসরটির নাম দেওয়া হয়েছে নিপ্পনোপেল্টা ইজোয়েন্সিস। জাপানি শব্দ নিপ্পন অর্থ জাপান, গ্রিক শব্দ পেল্টা অর্থ ছোট ঢাল এবং জাপানি শব্দ ইজো হলো হোক্কাইডো দ্বীপের প্রাচীন নাম।

১৯৯৫ সালে জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের সামুদ্রিক পলিমাটি থেকে উদ্ধার হওয়া জীবাশ্মটি সিটি স্ক্যান প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেন বিজ্ঞানীরা। এটি হাড়ের তৈরি প্লেট দিয়ে আবৃত নোডাসরিড পরিবারের অন্তর্গত। সাধারণত চার পায়ে হাঁটা এই তৃণভোজী ডাইনোসরগুলো উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস করত। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে নোডাসরিড প্রজাতি প্রচুর দেখা গেলেও এশিয়ায় এটি ডাইনোসরের অত্যন্ত বিরল প্রজাতি। গবেষকদের মতে, ১০ থেকে ১১ কোটি বছর আগে এই ডাইনোসরের পূর্বপুরুষেরা বেরিং ল্যান্ড ব্রিজ, অর্থাৎ বর্তমান আলাস্কা ও রাশিয়ার মধ্যবর্তী স্থান পার হয়ে উত্তর আমেরিকা থেকে এশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিল।

মৃত্যুর পর নদীপ্রবাহের মাধ্যমে সমুদ্রের পলিমাটিতে তলিয়ে যাওয়ায় জীবাশ্মটি সংরক্ষিত হয়। এশিয়ায় নোডাসরিডের সংখ্যা কম হওয়ার কারণ হতে পারে জীবাশ্ম রেকর্ডের সীমাবদ্ধতা। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতে আরও খননকাজের মাধ্যমে এই প্রাচীন প্রজাতির আন্তমহাদেশীয় স্থানান্তর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদ্‌ঘাটিত হবে।

সূত্র: লাইফ সায়েন্স