ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন হঠাৎ মরক্কো থেকে স্পেনে অভিবাসীদের ঢল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৫:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ বার
উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো থেকে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় কয়েক হাজার অভিবাসীর হঠাৎ প্রবেশ ইউরোপজুড়ে নতুন করে অভিবাসন সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। তবে এত বড় ঢলের পেছনে ঠিক কী কারণ- তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে মরক্কোর সীমান্ত নীতি, স্পেনের অভিবাসীবান্ধব অবস্থান এবং মানবপাচারকারীদের বিভ্রান্তিকর প্রচারণাকে ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের মুখপাত্র ক্রিশতোফ বোরোভস্কি বলেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে কেন এবং কীভাবে এত বড় সংখ্যক মানুষ সীমান্ত পার হলো, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
সাধারণত মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী অভিবাসীদের সেউতা সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছাতে বাধা দেয়। কিন্তু এবার অনেক অভিবাসী দাবি করেছেন, পুলিশ তাদের বাধা না দিয়ে বরং সীমান্তের দিকে যেতে দিয়েছে। ফলে অল্প সময়েই হাজারো মানুষ স্পেনের সীমান্তে পৌঁছে যায়।
এ ঘটনায় ধারণা করা হচ্ছে, মরক্কো হয়তো রাজনৈতিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্যে সীমান্তে কড়াকড়ি শিথিল করেছিল। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আলজেরিয়ার সঙ্গে স্পেনের ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় অসন্তুষ্ট হয়ে মরক্কো এমন পদক্ষেপ নিতে পারে। সম্প্রতি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আলজেরিয়া সফর করেন এবং দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বার্সেলোনার পম্পেউ ফাবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন গবেষক লরেঞ্জো গ্যাব্রিয়েলি বলেন, মরক্কোর সহযোগিতা ছাড়া একদিনে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সীমান্ত অতিক্রম করা প্রায় অসম্ভব।
তবে মরক্কোর সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
মরক্কোর কিছু বিশ্লেষক অবশ্য মনে করেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেনি। তাদের মতে, দেশটির জাতীয় ‘থ্রোন ডে’ উদ্‌যাপনের সময় সরকার কোনো অভিবাসন সংকট সৃষ্টি করে নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চাইবে না।
ফেজের সিদি মোহাম্মদ বেন আবদেল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক সাঈদ সাদ্দিকি বলেন, স্পেন-আলজেরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নের সঙ্গে এই ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে— এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসীবান্ধব অবস্থানের জন্য পরিচিত। চলতি বছর তিনি দেশটিতে অবৈধভাবে বসবাসরত ১০ লাখের বেশি অভিবাসীকে বৈধতার জন্য আবেদন করার সুযোগ দেন।
ইউরোপের ডানপন্থি নেতারা দাবি করছেন, এই সিদ্ধান্তই সেউতার সীমান্তে নতুন অভিবাসীদের আকৃষ্ট করেছে। তবে সানচেজ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তাদের দাবি, সাম্প্রতিক একটি আদালতের রায়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে মানবপাচারকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছে। ওই রায়ে স্পেনের আফ্রিকান ভূখণ্ডে সমুদ্রপথে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল।
মরক্কোর কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকও মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদালতের রায় নিয়ে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়িয়ে পড়ায় অনেক মানুষ সেউতায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের ভাষ্য, মানবপাচারকারী চক্র খুব দ্রুত সেই গুজবকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে বোঝাতে শুরু করে যে, স্পেনে পৌঁছাতে পারলেই সেখানে থেকে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

কেন হঠাৎ মরক্কো থেকে স্পেনে অভিবাসীদের ঢল

আপডেট টাইম : ১১:৩৫:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো থেকে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় কয়েক হাজার অভিবাসীর হঠাৎ প্রবেশ ইউরোপজুড়ে নতুন করে অভিবাসন সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। তবে এত বড় ঢলের পেছনে ঠিক কী কারণ- তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে মরক্কোর সীমান্ত নীতি, স্পেনের অভিবাসীবান্ধব অবস্থান এবং মানবপাচারকারীদের বিভ্রান্তিকর প্রচারণাকে ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের মুখপাত্র ক্রিশতোফ বোরোভস্কি বলেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে কেন এবং কীভাবে এত বড় সংখ্যক মানুষ সীমান্ত পার হলো, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
সাধারণত মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী অভিবাসীদের সেউতা সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছাতে বাধা দেয়। কিন্তু এবার অনেক অভিবাসী দাবি করেছেন, পুলিশ তাদের বাধা না দিয়ে বরং সীমান্তের দিকে যেতে দিয়েছে। ফলে অল্প সময়েই হাজারো মানুষ স্পেনের সীমান্তে পৌঁছে যায়।
এ ঘটনায় ধারণা করা হচ্ছে, মরক্কো হয়তো রাজনৈতিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্যে সীমান্তে কড়াকড়ি শিথিল করেছিল। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আলজেরিয়ার সঙ্গে স্পেনের ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় অসন্তুষ্ট হয়ে মরক্কো এমন পদক্ষেপ নিতে পারে। সম্প্রতি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আলজেরিয়া সফর করেন এবং দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বার্সেলোনার পম্পেউ ফাবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন গবেষক লরেঞ্জো গ্যাব্রিয়েলি বলেন, মরক্কোর সহযোগিতা ছাড়া একদিনে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সীমান্ত অতিক্রম করা প্রায় অসম্ভব।
তবে মরক্কোর সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
মরক্কোর কিছু বিশ্লেষক অবশ্য মনে করেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেনি। তাদের মতে, দেশটির জাতীয় ‘থ্রোন ডে’ উদ্‌যাপনের সময় সরকার কোনো অভিবাসন সংকট সৃষ্টি করে নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চাইবে না।
ফেজের সিদি মোহাম্মদ বেন আবদেল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক সাঈদ সাদ্দিকি বলেন, স্পেন-আলজেরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নের সঙ্গে এই ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে— এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসীবান্ধব অবস্থানের জন্য পরিচিত। চলতি বছর তিনি দেশটিতে অবৈধভাবে বসবাসরত ১০ লাখের বেশি অভিবাসীকে বৈধতার জন্য আবেদন করার সুযোগ দেন।
ইউরোপের ডানপন্থি নেতারা দাবি করছেন, এই সিদ্ধান্তই সেউতার সীমান্তে নতুন অভিবাসীদের আকৃষ্ট করেছে। তবে সানচেজ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তাদের দাবি, সাম্প্রতিক একটি আদালতের রায়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে মানবপাচারকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছে। ওই রায়ে স্পেনের আফ্রিকান ভূখণ্ডে সমুদ্রপথে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল।
মরক্কোর কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকও মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদালতের রায় নিয়ে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়িয়ে পড়ায় অনেক মানুষ সেউতায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের ভাষ্য, মানবপাচারকারী চক্র খুব দ্রুত সেই গুজবকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে বোঝাতে শুরু করে যে, স্পেনে পৌঁছাতে পারলেই সেখানে থেকে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে।