ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’ বোল্টের চেয়েও দ্রুত দৌড়ানো সেই চীনা রোবটের নতুন চমক মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি প্রধানমন্ত্রী ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: মঈন খান চুলে রং করার পর যত্ন নেবেন যেভাবে নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় : ডিএসসিসি প্রশাসক চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করতে হবে: আইনমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে গঠিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে যোগদানের বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (২) শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দিলে তা দেশের স্বার্থ, অর্থনীতি ও জনগণের জন্য কতটা লাভজনক হবে, সেটি আগে মূল্যায়ন করা হবে। পরে বিষয়টি নিয়ে দেশের একটি ইংরেজি দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিএনপির মিডিয়া সেলও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিশ্চিত করে।

সাক্ষাৎকারে শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে বড় বড় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জোটে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব রাজনীতি এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, প্রায় প্রতিটি দেশই কোনো না কোনো বৃহত্তর জোটে যোগ দিচ্ছে। যেমন সার্ক, বিমসটেক, ইন্দো-প্যাসিফিক, কোয়াড ও ব্রিকস—বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ধরনের জোট রয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক এই প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে। এর মূল ভিত্তি হলো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা। তিনি বলেন, ‘মক্কা প্যাক্ট মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের ভাবনা থেকে এসেছে। এই প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম শর্তই হলো—যদি একটি সদস্যদেশ আক্রান্ত হয়, তাহলে সেটিকে তিনটি দেশই আক্রান্ত হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে। এটি শুধু সামরিক সহযোগিতার চুক্তি নয়, সদস্যদেশগুলোর অর্থনীতি ও জনগণের নিরাপত্তার লক্ষ্যেও এটি তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগ্রহী অন্য যে কোনো দেশের এতে যোগদানের সুযোগ রাখা হয়েছে।’

বাংলাদেশ কী যোগ দেবে

সাক্ষাৎকারে সরাসরি এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য সব ধরনের লাভ-ক্ষতির মূল্যায়ন করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না—এর উত্তরে বলব, বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে প্রথমেই দেখতে হবে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দিক থেকে এই চুক্তিতে যোগ দিলে আমাদের লাভ কতটা হবে।’

প্রতিমন্ত্রীর মতে, সম্ভাব্য লাভের মধ্যে অর্থনৈতিক সুবিধা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হবে। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের অর্থনীতির জন্য ভালো। আমাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। আপনারা জানেন, তুরস্কের সঙ্গে আমাদের খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি তুরস্ক থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে। একইভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সেখানে প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কগুলো অবশ্যই বিবেচনায় থাকবে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বাংলাদেশ এই চুক্তি থেকে বাস্তবে কী অর্জন করতে পারে তার ওপর। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই বাংলাদেশ বিষয়টি বিবেচনা করবে। কিন্তু আবারও বলছি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আমরা এই চুক্তি থেকে কতটা লাভবান হব তার ওপর। যদি আমরা মনে করি আমাদের লাভ বেশি, দেশের মানুষের উপকার হবে, তাহলে অবশ্যই সরকার সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

আপডেট টাইম : ১২:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে গঠিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে যোগদানের বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (২) শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দিলে তা দেশের স্বার্থ, অর্থনীতি ও জনগণের জন্য কতটা লাভজনক হবে, সেটি আগে মূল্যায়ন করা হবে। পরে বিষয়টি নিয়ে দেশের একটি ইংরেজি দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিএনপির মিডিয়া সেলও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিশ্চিত করে।

সাক্ষাৎকারে শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে বড় বড় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জোটে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব রাজনীতি এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, প্রায় প্রতিটি দেশই কোনো না কোনো বৃহত্তর জোটে যোগ দিচ্ছে। যেমন সার্ক, বিমসটেক, ইন্দো-প্যাসিফিক, কোয়াড ও ব্রিকস—বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ধরনের জোট রয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক এই প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে। এর মূল ভিত্তি হলো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা। তিনি বলেন, ‘মক্কা প্যাক্ট মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের ভাবনা থেকে এসেছে। এই প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম শর্তই হলো—যদি একটি সদস্যদেশ আক্রান্ত হয়, তাহলে সেটিকে তিনটি দেশই আক্রান্ত হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে। এটি শুধু সামরিক সহযোগিতার চুক্তি নয়, সদস্যদেশগুলোর অর্থনীতি ও জনগণের নিরাপত্তার লক্ষ্যেও এটি তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগ্রহী অন্য যে কোনো দেশের এতে যোগদানের সুযোগ রাখা হয়েছে।’

বাংলাদেশ কী যোগ দেবে

সাক্ষাৎকারে সরাসরি এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য সব ধরনের লাভ-ক্ষতির মূল্যায়ন করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না—এর উত্তরে বলব, বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে প্রথমেই দেখতে হবে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দিক থেকে এই চুক্তিতে যোগ দিলে আমাদের লাভ কতটা হবে।’

প্রতিমন্ত্রীর মতে, সম্ভাব্য লাভের মধ্যে অর্থনৈতিক সুবিধা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হবে। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের অর্থনীতির জন্য ভালো। আমাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। আপনারা জানেন, তুরস্কের সঙ্গে আমাদের খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি তুরস্ক থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে। একইভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সেখানে প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কগুলো অবশ্যই বিবেচনায় থাকবে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বাংলাদেশ এই চুক্তি থেকে বাস্তবে কী অর্জন করতে পারে তার ওপর। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই বাংলাদেশ বিষয়টি বিবেচনা করবে। কিন্তু আবারও বলছি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আমরা এই চুক্তি থেকে কতটা লাভবান হব তার ওপর। যদি আমরা মনে করি আমাদের লাভ বেশি, দেশের মানুষের উপকার হবে, তাহলে অবশ্যই সরকার সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।’