মানবসদৃশ রোবট কি একদিন গতিতে মানুষকেও ছাড়িয়ে যাবে? বেইজিংয়ে চলমান ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস’-এ সেই আলোচনাই নতুন করে উসকে দিয়েছে চীনের তৈরি রোবট ‘তিয়ানগং আল্ট্রা’। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে মাত্র ৮.৮৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে রোবটটি।
লার্জ-সাইজ রোবট বিভাগের সেমিফাইনালে এই সময় নিয়ে দৌড় শেষ করে তিয়ানগং আল্ট্রা। এর মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী দিনে নিজের গড়া ৯.৩৯ সেকেন্ডের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে এটি।
তিয়ানগং আল্ট্রার ৮.৮৬ সেকেন্ডের টাইমিং ২০০৯ সালে জ্যামাইকান কিংবদন্তি স্প্রিন্টার উসাইন বোল্টের গড়া ১০০ মিটারের মানব বিশ্বরেকর্ড ৯.৫৮ সেকেন্ডের চেয়েও শূন্য দশমিক ৭ সেকেন্ডের বেশি দ্রুত।
বেইজিং হিউম্যানয়েড রোবট ইনোভেশন সেন্টারের তৈরি তিয়ানগং আল্ট্রার এই উন্নতি প্রতিযোগিতার অন্যতম বড় আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এ আসরে ৬৬৬টি দলের দুই হাজারের বেশি রোবট অংশ নিচ্ছে। ফুটবল, নৃত্য, শিল্প ও কারখানার বিভিন্ন কাজের দক্ষতাসহ মোট ৫১টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে রোবটগুলো।
তবে রেকর্ড গড়ার দৌড়টি শেষ হওয়ার পর ঘটে নাটকীয় ঘটনা। নয় সেকেন্ডের নিচে দৌড় শেষ করার পর গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ফিনিশ লাইনের ওপারে রাখা একটি পুরু ম্যাটে সজোরে ধাক্কা খায় তিয়ানগং। ধাক্কায় রোবটটি পড়ে যায় এবং এর ভেতরের অংশে ছোটখাটো আগুনও ধরে যায়। অন্য একটি সেমিফাইনালে অংশ নেওয়া একটি রোবট দৌড়ের মাঝপথেই ভেঙে টুকরো হয়ে যায়।
এর আগে উদ্বোধনী দিনেও দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল তিয়ানগং। শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও শেষ মুহূর্তের গতিতে স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনারের তৈরি রোবট ‘লাইটনিং’কে পেছনে ফেলে জয় নিশ্চিত করে এটি। ওই দৌড়ে লাইটনিং সময় নিয়েছিল ৯.৪৭ সেকেন্ড, যা বোল্টের বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও দ্রুত। এর আগে একটি পরীক্ষামূলক দৌড়ে লাইটনিংয়ের সময় ছিল ৯.৩২ সেকেন্ড।
গত বছর প্রথম আসরে তিয়ানগং ২১.৫০ সেকেন্ড সময় নিয়ে ১০০ মিটারের দৌড় জিতেছিল। একই সময়ে হিউম্যানয়েড রোবট হাফ-ম্যারাথনেও অপেশাদার পর্যায়ে ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট সময় নিয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করে।
১০০ মিটার ছাড়াও বিভিন্ন অ্যাথলেটিকস ইভেন্টে মানুষের চারটি বিশ্বরেকর্ড ভাঙার দাবি রয়েছে তিয়ানগংয়ের। ৪০০ মিটারে এর সময় ৩৮.১৫ সেকেন্ড, ১৫০০ মিটারে ২ মিনিট ২১.৬৪ সেকেন্ড এবং হাইজাম্পে ২.৮৮ মিটার লাফ দেওয়ার রেকর্ড রয়েছে।
এই রোবট তৈরির উদ্ভাবনী কেন্দ্রের অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে চীনের কয়েকটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন বিনিয়োগ তহবিল, ক্লাউড প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইদু এবং শাওমির রোবটিক্স ইউনিট।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শক্তিশালী মোটর এবং উন্নত সেন্সর প্রযুক্তির সমন্বয়ে হিউম্যানয়েড রোবটকে উৎপাদন, লজিস্টিকস ও সেবা খাতে ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে চীন। দেশটি এই খাতকে ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত শিল্প হিসেবে বিবেচনা করছে।
তথ্য সূত্র : এনবিসি নিউজ।
Reporter Name 
























