ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’ বোল্টের চেয়েও দ্রুত দৌড়ানো সেই চীনা রোবটের নতুন চমক মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি প্রধানমন্ত্রী ইসলামের আদর্শ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করছেন: মঈন খান চুলে রং করার পর যত্ন নেবেন যেভাবে নেপালে বন্যা: প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহযোগিতার বার্তা নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় : ডিএসসিসি প্রশাসক চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করতে হবে: আইনমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

পাকিস্তানে ‘জঙ্গিবিরোধী সমাবেশে’ আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ১৪

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩৭ বার

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে রবিবার (২ আগস্ট) এক জঙ্গিবিরোধী সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২২ জন।

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকার কাবাল শহরে একটি পুলিশ স্টেশনের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে জঙ্গিবিরোধী স্লোগান দিয়ে শান্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছিলেন সমাবেশে অংশ নেওয়া লোকজন। সোয়াত জেলার পুলিশপ্রধান ওমর খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক জরুরি সেবা বিভাগের মুখপাত্র বিলাল ফাইজী বলেন, জঙ্গিবিরোধী স্লোগান দিয়ে শান্তির দাবিতে বিক্ষোভরত মানুষের ওপর আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটায়। জেলা পুলিশপ্রধান ওমর খান জানান, নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

একসময় সোয়াত উপত্যকা ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠীর শক্ত ঘাঁটি ছিল। তারা সেখানে শরিয়া আইনের কঠোর ব্যাখ্যা অনুসারে শাসন চালু করেছিল। তবে ২০০৭ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে জঙ্গিদের বিতাড়িত করে এবং ওই অঞ্চলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।

এ হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে সন্দেহের তীর পাকিস্তানি তালেবান, অর্থাৎ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর দিকে যাচ্ছে। টিটিপি আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের থেকে পৃথক হলেও তাদের মিত্র হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর টিটিপির অনেক নেতা ও যোদ্ধা সেখানে আশ্রয় নিয়েছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে টিটিপি জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। তবে কাবুল সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের বেলাভূমিতে সাদিয়া আয়মানের ‌‘একটুখানি জাদু’

পাকিস্তানে ‘জঙ্গিবিরোধী সমাবেশে’ আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ১৪

আপডেট টাইম : ১১:৫২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে রবিবার (২ আগস্ট) এক জঙ্গিবিরোধী সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২২ জন।

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকার কাবাল শহরে একটি পুলিশ স্টেশনের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে জঙ্গিবিরোধী স্লোগান দিয়ে শান্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছিলেন সমাবেশে অংশ নেওয়া লোকজন। সোয়াত জেলার পুলিশপ্রধান ওমর খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক জরুরি সেবা বিভাগের মুখপাত্র বিলাল ফাইজী বলেন, জঙ্গিবিরোধী স্লোগান দিয়ে শান্তির দাবিতে বিক্ষোভরত মানুষের ওপর আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটায়। জেলা পুলিশপ্রধান ওমর খান জানান, নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

একসময় সোয়াত উপত্যকা ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠীর শক্ত ঘাঁটি ছিল। তারা সেখানে শরিয়া আইনের কঠোর ব্যাখ্যা অনুসারে শাসন চালু করেছিল। তবে ২০০৭ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে জঙ্গিদের বিতাড়িত করে এবং ওই অঞ্চলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।

এ হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে সন্দেহের তীর পাকিস্তানি তালেবান, অর্থাৎ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর দিকে যাচ্ছে। টিটিপি আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের থেকে পৃথক হলেও তাদের মিত্র হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর টিটিপির অনেক নেতা ও যোদ্ধা সেখানে আশ্রয় নিয়েছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে টিটিপি জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। তবে কাবুল সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।