ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িদের উপস্থিতিতে যে আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর বিতর্ক চর্চাকে শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আগ্রহী তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ কোথায় যাবে, তা অন্য রাষ্ট্র নির্ধারণ করবে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতায় ভিভো হরমুজ প্রণালি বন্ধে ইরানের ঘোষণার পর সতর্ক মার্কিন বাহিনী হাওরের কৃষকদের সাড়ে ৭ হাজার টাকা সহায়তা দেবে সরকার হাওরে দুর্যোগ : কী হবে বিচার চাহিয়া বন্ধু আর আব্বুকে নিয়ে ব্রাজিলের খেলা দেখতেই বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় এসেছি ৪৫ দিন কলা খেলে কী ঘটে শরীরে হেলথ কার্ড, বিশেষায়িত হাসপাতালসহ স্বাস্থ্যখাতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা

স্কুলের পথে পানি, তাই…

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৭
  • ৫৪৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বিশ্বনাথ উপজেলার ‘ফতেহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র উপায় বাঁশের সাঁকো। ঝুঁকি নিয়ে বছরের অধিকাংশ সময় স্কুলে যাওয়া-আসা করে তারা। একমাত্র প্রবেশ পথ বেহাল হওয়ার কারণে বেশির ভাগই সময়ই স্কুলের সামনে পানি জমে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত করলেও বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এ কারণে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। অনেক সময় সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটে। পানিতে পড়ে নষ্ট হয় বইখাতা, পোশাক। সাঁতার না জানা শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকতে হয় অভিভাবকদের।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, দেওকলস ইউনিয়নের আমিরডিং নদীর তীরঘেঁষা স্থানীয় দক্ষিণ সৎপুর গ্রামে অবস্থিত ‘ফতেহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর সামনের পুরো অংশজুড়ে জমে আছে পানি। বিদ্যালয়ে প্রবেশের একমাত্র মাধ্যম বাঁশের সাঁকো। তার সঙ্গে সংযুক্ত পরিত্যক্তপ্রায় কালভার্ট। বিদ্যালয় ছুটি হতেই ছাত্রছাত্রীরা কষ্ট এবং ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পাড়ি দিচ্ছে। এলাকার অনেকেই জানান, প্রায় দেড় হাজার মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়ন বঞ্চিত। স্থানীয় রাজার বাজার থেকে পুরান সৎপুর পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কার অথবা পাকাকরণ হলে সব দুর্ভোগই লাঘব হতো।
কথা হয় বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছাবির, রবিউল, হুসাইন, জাবেদ ও আকাশের সাথে। তারা জানায়, বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে ক্লাসে আসতে তাদের ভয় করে। অনেক সময় সাঁকো পেরুতে গিয়ে পা পিছলে পানিতেও পড়ে কেউ কেউ। বইখাতাও ভিজে যায়। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় বিদ্যালয়ে আসতে গিয়ে পানিতে পড়ে অনেকেরই কাপড়চোপড় নষ্ট হয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, আমার তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করে। এ কারণেই অনেক সময় ব্যাহত হয় পাঠদান।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল করিম লেবু জানান, ২০০৪ সালের বন্যার পরে  ফতেহপুর বিদ্যালয় সড়কে মাটি ভরাট করা হয়নি। বিদ্যায়ের সামনে যে কালভার্ট আছে, সেটি পুনঃসংস্কার এবং সাঁকোর স্থলে মাটি ভরাট করলে এ সমস্যা আর থাকবে না।
এ ব্যাপারে কথা হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতা মুহিউদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িদের উপস্থিতিতে যে আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

স্কুলের পথে পানি, তাই…

আপডেট টাইম : ১১:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বিশ্বনাথ উপজেলার ‘ফতেহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র উপায় বাঁশের সাঁকো। ঝুঁকি নিয়ে বছরের অধিকাংশ সময় স্কুলে যাওয়া-আসা করে তারা। একমাত্র প্রবেশ পথ বেহাল হওয়ার কারণে বেশির ভাগই সময়ই স্কুলের সামনে পানি জমে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত করলেও বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এ কারণে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। অনেক সময় সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটে। পানিতে পড়ে নষ্ট হয় বইখাতা, পোশাক। সাঁতার না জানা শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকতে হয় অভিভাবকদের।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, দেওকলস ইউনিয়নের আমিরডিং নদীর তীরঘেঁষা স্থানীয় দক্ষিণ সৎপুর গ্রামে অবস্থিত ‘ফতেহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’-এর সামনের পুরো অংশজুড়ে জমে আছে পানি। বিদ্যালয়ে প্রবেশের একমাত্র মাধ্যম বাঁশের সাঁকো। তার সঙ্গে সংযুক্ত পরিত্যক্তপ্রায় কালভার্ট। বিদ্যালয় ছুটি হতেই ছাত্রছাত্রীরা কষ্ট এবং ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পাড়ি দিচ্ছে। এলাকার অনেকেই জানান, প্রায় দেড় হাজার মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়ন বঞ্চিত। স্থানীয় রাজার বাজার থেকে পুরান সৎপুর পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কার অথবা পাকাকরণ হলে সব দুর্ভোগই লাঘব হতো।
কথা হয় বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছাবির, রবিউল, হুসাইন, জাবেদ ও আকাশের সাথে। তারা জানায়, বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে ক্লাসে আসতে তাদের ভয় করে। অনেক সময় সাঁকো পেরুতে গিয়ে পা পিছলে পানিতেও পড়ে কেউ কেউ। বইখাতাও ভিজে যায়। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় বিদ্যালয়ে আসতে গিয়ে পানিতে পড়ে অনেকেরই কাপড়চোপড় নষ্ট হয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, আমার তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করে। এ কারণেই অনেক সময় ব্যাহত হয় পাঠদান।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল করিম লেবু জানান, ২০০৪ সালের বন্যার পরে  ফতেহপুর বিদ্যালয় সড়কে মাটি ভরাট করা হয়নি। বিদ্যায়ের সামনে যে কালভার্ট আছে, সেটি পুনঃসংস্কার এবং সাঁকোর স্থলে মাটি ভরাট করলে এ সমস্যা আর থাকবে না।
এ ব্যাপারে কথা হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতা মুহিউদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।