ঢাকা ০২:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪৫ দিন কলা খেলে কী ঘটে শরীরে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩৫:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ১ বার
বছরের প্রায় সময়ই বাজারে পাওয়া যায় এমন ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কলা। এটি যেমন সহজপ্রাচ্য, তেমনি দামও প্রায় হাতের নাগালে।

এ কারণে প্রায় সবাই খেতে পারেন ফলটি। এর বিভিন্ন স্বাস্থ্যগুণও রয়েছে। স্বাদে হালকা মিষ্টি হওয়ায় সকালের নাশতায় কিংবা ডেজার্টে বা যেকোনো খাবারে স্লাইস করে দিয়ে টেবিলে রাখা যায় কলা। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়াফলটি স্বাস্থ্য উপকারী হওয়ায় অনেকেই নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করেন।

কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন―টানা ৪৫ দিন একটি করে কলা খেলে কী ঘটবে শরীরে? সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-

  • কলার পুষ্টিগুণ

ইউএসডিএ’র তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কলায় ৮৯ ক্যালোরি, ০.৩৩ গ্রাম চর্বি, ০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল, ১ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ২২.৮০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২.৬০ গ্রাম ডায়েটারি ফাইবার, ১.০৯ গ্রাম প্রোটিন এবং ৩৫৮ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে।

  • কলার উপকারিতা

কলাকে বলা হয় পটাশিয়ামের দারুণ উৎস, যা হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং পেশীর কার্যকারিতা সচল রাখে। এতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা এবং কার্বোহাইড্রেট তাৎক্ষণিক শক্তি সরবরাহ করে, যা একে সকালের নাশতা বা ওয়ার্কআউটের আগের নাশতা হিসেবে আদর্শ করে তোলে। এর ভিটামিন বি৬ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং সেরোটোনিন হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করে মেজাজ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

কলা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা আপনার কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে ও শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে কাজ করে।

  • গবেষণা কী বলছে

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অ্যান্ড অ্যান্টি-অ্যাথেরোস্ক্লেরোটিক পটেনশিয়াল অব ব্যানানা’ শীর্ষক গবেষণা অনুযায়ী, কলা কার্বোহাইড্রেট, ডায়েটারি ফাইবার, প্রোটিন, পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, পটাশিয়াম, ক্যারোটিনয়েড, ফ্ল্যাভোনয়েড, ভিটামিন সি এবং ই, ফাইটোস্টেরল, গ্যালোকেটচিন, ক্যাটেচিন ও অন্যান্য পলিফেনলের জন্য দারুণ উৎস। এসব যৌগগুলোর মধ্যে কিছু উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা অ্যান্টি-অ্যাথেরোস্ক্লেরোটিক এবং কার্ডিওভাসকুলার প্রতিরক্ষামূলক উপাদান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক ভূমিকা পালন করে।

এছাড়া কলা যদি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা যায়, তাহলে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করতে কাজ করে। কলার খোসাতেও ফাইবার, প্রোটিন, পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, পটাশিয়াম, ক্যারোটিনয়েড, ভিটামিন সি এবং ই, গ্যালোকেটচিন, ক্যাটেচিন ও অন্যান্য পলিফেনল যৌগ থাকে।

  • ৪৫ দিন পর কী ঘটে শরীরে

বলা হয়, কলার মাধ্যমে বেশি পটাশিয়াম গ্রহণের ফলে স্বাভাবিক রক্তচাপ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে, পেশী ও স্নায়ুর সঠিক কার্যকারিতা রক্ষা করে এবং শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। কলায় প্রায় ২.৬০ থেকে ৩ গ্রাম পরিমাণ ফাইবার থাকার কারণে এটি নিয়মিত খাওয়ার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হওয়া, পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ভালো রাখা এবং সামগ্রিক হজম স্বাস্থ্যের উন্নতিতে কাজ করে।

কলা এমন ফল, যা কার্বোহাইড্রেট সরবরাহ করে তুলনামূলকভাবে সহজে হজম হয়, ফলে এটি বিশেষ করে ব্যায়ামের আগে বা পরে শক্তির একটি দুর্দান্ত উৎসব হয়ে ওঠে।

  • ক্ষতিকর দিক

ক্ষেত্রবিশেষ কলা কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করতে পারে, যা মোট ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে তখন স্বাস্থ্য বেড়ে যেতে পারে। যাদের কিডনিজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার সীমিত করার প্রয়োজন হয়ে থাকে এবং খাদ্যতালিকায় কোনো ধরনের পরিবর্তন আনতে চাইলে প্রথমেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

৪৫ দিন কলা খেলে কী ঘটে শরীরে

আপডেট টাইম : ১২:৩৫:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
বছরের প্রায় সময়ই বাজারে পাওয়া যায় এমন ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কলা। এটি যেমন সহজপ্রাচ্য, তেমনি দামও প্রায় হাতের নাগালে।

এ কারণে প্রায় সবাই খেতে পারেন ফলটি। এর বিভিন্ন স্বাস্থ্যগুণও রয়েছে। স্বাদে হালকা মিষ্টি হওয়ায় সকালের নাশতায় কিংবা ডেজার্টে বা যেকোনো খাবারে স্লাইস করে দিয়ে টেবিলে রাখা যায় কলা। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়াফলটি স্বাস্থ্য উপকারী হওয়ায় অনেকেই নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করেন।

কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন―টানা ৪৫ দিন একটি করে কলা খেলে কী ঘটবে শরীরে? সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-

  • কলার পুষ্টিগুণ

ইউএসডিএ’র তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কলায় ৮৯ ক্যালোরি, ০.৩৩ গ্রাম চর্বি, ০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল, ১ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ২২.৮০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২.৬০ গ্রাম ডায়েটারি ফাইবার, ১.০৯ গ্রাম প্রোটিন এবং ৩৫৮ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে।

  • কলার উপকারিতা

কলাকে বলা হয় পটাশিয়ামের দারুণ উৎস, যা হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং পেশীর কার্যকারিতা সচল রাখে। এতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা এবং কার্বোহাইড্রেট তাৎক্ষণিক শক্তি সরবরাহ করে, যা একে সকালের নাশতা বা ওয়ার্কআউটের আগের নাশতা হিসেবে আদর্শ করে তোলে। এর ভিটামিন বি৬ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং সেরোটোনিন হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করে মেজাজ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

কলা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা আপনার কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে ও শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে কাজ করে।

  • গবেষণা কী বলছে

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অ্যান্ড অ্যান্টি-অ্যাথেরোস্ক্লেরোটিক পটেনশিয়াল অব ব্যানানা’ শীর্ষক গবেষণা অনুযায়ী, কলা কার্বোহাইড্রেট, ডায়েটারি ফাইবার, প্রোটিন, পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, পটাশিয়াম, ক্যারোটিনয়েড, ফ্ল্যাভোনয়েড, ভিটামিন সি এবং ই, ফাইটোস্টেরল, গ্যালোকেটচিন, ক্যাটেচিন ও অন্যান্য পলিফেনলের জন্য দারুণ উৎস। এসব যৌগগুলোর মধ্যে কিছু উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা অ্যান্টি-অ্যাথেরোস্ক্লেরোটিক এবং কার্ডিওভাসকুলার প্রতিরক্ষামূলক উপাদান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক ভূমিকা পালন করে।

এছাড়া কলা যদি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা যায়, তাহলে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করতে কাজ করে। কলার খোসাতেও ফাইবার, প্রোটিন, পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, পটাশিয়াম, ক্যারোটিনয়েড, ভিটামিন সি এবং ই, গ্যালোকেটচিন, ক্যাটেচিন ও অন্যান্য পলিফেনল যৌগ থাকে।

  • ৪৫ দিন পর কী ঘটে শরীরে

বলা হয়, কলার মাধ্যমে বেশি পটাশিয়াম গ্রহণের ফলে স্বাভাবিক রক্তচাপ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে, পেশী ও স্নায়ুর সঠিক কার্যকারিতা রক্ষা করে এবং শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। কলায় প্রায় ২.৬০ থেকে ৩ গ্রাম পরিমাণ ফাইবার থাকার কারণে এটি নিয়মিত খাওয়ার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হওয়া, পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ভালো রাখা এবং সামগ্রিক হজম স্বাস্থ্যের উন্নতিতে কাজ করে।

কলা এমন ফল, যা কার্বোহাইড্রেট সরবরাহ করে তুলনামূলকভাবে সহজে হজম হয়, ফলে এটি বিশেষ করে ব্যায়ামের আগে বা পরে শক্তির একটি দুর্দান্ত উৎসব হয়ে ওঠে।

  • ক্ষতিকর দিক

ক্ষেত্রবিশেষ কলা কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করতে পারে, যা মোট ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে তখন স্বাস্থ্য বেড়ে যেতে পারে। যাদের কিডনিজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার সীমিত করার প্রয়োজন হয়ে থাকে এবং খাদ্যতালিকায় কোনো ধরনের পরিবর্তন আনতে চাইলে প্রথমেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।