ঢাকা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বাড়ছে ইরানি হামলার তীব্রতা, অবিলম্বে নাগরিকদের ইসরায়েল ছাড়তে বললো চীন প্রধানমন্ত্রী দেশকে তাঁর পিতার মতোই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন : ভূমিমন্ত্রী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় মেসি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা ঈদের ছুটি শেষে অফিস শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার জাতীয় পতাকা বিধি যথাযথভাবে প্রতিপালনের নির্দেশনা জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ বর্ণবাদ নির্মূলে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান জানালো বাংলাদেশ ঈদের ছুটি শেষে সচিবালয়ে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কুশল বিনিময়

‘আমি ছোট নৌকা দিয়ে তাহিরপুরে পৌঁছি’- রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:২২:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০১৭
  • ৭৫৩ বার

১৯৭১’ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে যুদ্ধকালীন সময়ে সুনামগঞ্জ ৫ নং সেক্টরের তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী ৪নং সাব-সেক্টরের-মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সুনামগঞ্জে এসেছিলেন।’ সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সোমবার রাতে সুধী সমাবেশে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বার বার উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধকালীন সেই সময়কার সহযোদ্ধাগণের স্মৃতিচারণ মুলক কথা।’

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেন, ‘আমি সুনামগঞ্জে এসেছি কারো কথায় নয়, আমি নিজে থেকেই এসেছি, হৃদয়ের টানে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি এ জেলায় থেকে যুদ্ধ করেছি। সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেছি। সে জন্য এখানে আজ এসেছি। তবে মানুষের দুঃখ-দুর্দশার সময় এসেছি।

আজ ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের সর্বপ্রথম রাষ্ট্রপতি। ’৭১ সালের মে মাসের প্রথম দিকে আমি সুনামগঞ্জে আসি। সেই থেকে সুনামগঞ্জের মানুষের সাথে আমার আত্বার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে । ‘‘আমি যুদ্ধকালীন সময়ে সুনামগঞ্জে এসে একটি ছোট নৌকা দিয়ে তাহিরপুর উপজেলায় পৌঁছি।, তখন দেখা হয় আব্দুজ জহুর সাহেবের সাথে। সেদিন তিনি শুঁটকি ভর্তা দিয়ে আমার ভাত খাবার ব্যবস্থা করেছিলেন। ‘‘আমিও ক্ষুধার্ত থাকায় সেদিন প্রায় দেড় সের চালের ভাত খেয়েছিলাম।,

রাষ্ট্রপতি উনার আমার সাথের যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন ও সংগঠকের ভুমিকা পালন করেছিলেন আজ তাঁরা কেউ নেই!। ক’দিন আগে বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও চলে গেলেন না ফেরার দেশে। এর আগে দেওয়ান ওবায়দুর রাজা, আব্দুজ জহুর, আব্দুস সামাদ আজাদ, হোসেন বখত, জগৎজ্যোতি সহ আরও অনেকেই চলে গেছেন।’

যাঁরা চলে গেছেন, তাঁরা সবাই বার বার চেষ্টা করেছেন আমাকে সুনামগঞ্জে নিয়ে আসতে। কিন্তু ওই সময় আমি আসতে পারিনি। কারন সারা জীবন আমি রাজনীতি করলেও আমার স্থান হলো অরাজনৈতিক জায়গায়। আমার স্থান নিরপেক্ষ স্থানে। এখন আমি মহানিরপেক্ষ স্থানে আছি। যার কারনে আমি যখন যেখানে যেতে চাই, যেতে পারবো না। কিন্তু আজ আমি একজন কৃষককের সন্তান হিসাবে কৃষি প্রধান এলাকায় যেখানে আমার শৈশব কিশোর কেটেছে যে হাওরাঞ্চলের থেকে আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি সেই হাওরবাসীর পাশে সাহস ও সমবেদনা জানাতে নিজে কে চার দেয়ালের ভেতর আটকে রাখতে না পেরে আমি আত্বার টানে নিজ থেকেই সুনামগঞ্জ ছুঁটে এসেছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়ছে ইরানি হামলার তীব্রতা, অবিলম্বে নাগরিকদের ইসরায়েল ছাড়তে বললো চীন

‘আমি ছোট নৌকা দিয়ে তাহিরপুরে পৌঁছি’- রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

আপডেট টাইম : ০১:২২:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০১৭

১৯৭১’ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে যুদ্ধকালীন সময়ে সুনামগঞ্জ ৫ নং সেক্টরের তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী ৪নং সাব-সেক্টরের-মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সুনামগঞ্জে এসেছিলেন।’ সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সোমবার রাতে সুধী সমাবেশে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বার বার উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধকালীন সেই সময়কার সহযোদ্ধাগণের স্মৃতিচারণ মুলক কথা।’

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বলেন, ‘আমি সুনামগঞ্জে এসেছি কারো কথায় নয়, আমি নিজে থেকেই এসেছি, হৃদয়ের টানে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি এ জেলায় থেকে যুদ্ধ করেছি। সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেছি। সে জন্য এখানে আজ এসেছি। তবে মানুষের দুঃখ-দুর্দশার সময় এসেছি।

আজ ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের সর্বপ্রথম রাষ্ট্রপতি। ’৭১ সালের মে মাসের প্রথম দিকে আমি সুনামগঞ্জে আসি। সেই থেকে সুনামগঞ্জের মানুষের সাথে আমার আত্বার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে । ‘‘আমি যুদ্ধকালীন সময়ে সুনামগঞ্জে এসে একটি ছোট নৌকা দিয়ে তাহিরপুর উপজেলায় পৌঁছি।, তখন দেখা হয় আব্দুজ জহুর সাহেবের সাথে। সেদিন তিনি শুঁটকি ভর্তা দিয়ে আমার ভাত খাবার ব্যবস্থা করেছিলেন। ‘‘আমিও ক্ষুধার্ত থাকায় সেদিন প্রায় দেড় সের চালের ভাত খেয়েছিলাম।,

রাষ্ট্রপতি উনার আমার সাথের যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন ও সংগঠকের ভুমিকা পালন করেছিলেন আজ তাঁরা কেউ নেই!। ক’দিন আগে বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও চলে গেলেন না ফেরার দেশে। এর আগে দেওয়ান ওবায়দুর রাজা, আব্দুজ জহুর, আব্দুস সামাদ আজাদ, হোসেন বখত, জগৎজ্যোতি সহ আরও অনেকেই চলে গেছেন।’

যাঁরা চলে গেছেন, তাঁরা সবাই বার বার চেষ্টা করেছেন আমাকে সুনামগঞ্জে নিয়ে আসতে। কিন্তু ওই সময় আমি আসতে পারিনি। কারন সারা জীবন আমি রাজনীতি করলেও আমার স্থান হলো অরাজনৈতিক জায়গায়। আমার স্থান নিরপেক্ষ স্থানে। এখন আমি মহানিরপেক্ষ স্থানে আছি। যার কারনে আমি যখন যেখানে যেতে চাই, যেতে পারবো না। কিন্তু আজ আমি একজন কৃষককের সন্তান হিসাবে কৃষি প্রধান এলাকায় যেখানে আমার শৈশব কিশোর কেটেছে যে হাওরাঞ্চলের থেকে আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি সেই হাওরবাসীর পাশে সাহস ও সমবেদনা জানাতে নিজে কে চার দেয়ালের ভেতর আটকে রাখতে না পেরে আমি আত্বার টানে নিজ থেকেই সুনামগঞ্জ ছুঁটে এসেছি।