ঢাকা ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রেনের শেষ বগীর পেছনেই ৩৫ বছরের জীবন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৬:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ২২ বার

ট্রেন ছুটে চলে আপন গতিতে। কখনো শহর পেরিয়ে, কখনো গ্রামের বুক চিরে, কখনো সবুজ মাঠের পাশ দিয়ে। ট্রেনের ভেতরে তখন নানা বয়সী মানুষের ব্যস্ততা-কেউ কর্মস্থলে ছুটছেন, কেউ বাড়ি ফিরছেন, কেউবা যাচ্ছেন প্রিয়জনের কাছে। কিন্তু এই চেনা দৃশ্যের বাইরে ট্রেনের একেবারে শেষ প্রান্তে রয়েছে আরেকটি অচেনা গল্প।

সেই গল্পের মানুষটির নাম সিরাজ মিয়া। বয়স প্রায় ৭০ বছর। বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর গ্রামে। জীবনের প্রায় ৩৫ বছর ধরে ট্রেনের সবশেষ বগীর পেছনে বসেই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি। নেই নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্য, নেই স্থায়ী কোনো কর্মস্থল। মানুষের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে কোনোরকমে জীবন চালান। আর ট্রেনই হয়ে উঠেছে তার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার প্রধান অবলম্বন।

সম্প্রতি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনের শেষ বগীর পেছনে দেখা মেলে সিরাজ মিয়ার। ট্রেনের ভেতরে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ আলাদা। শেষ বগীর পেছনে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় বসে ছিলেন নিশ্চিন্ত মনে। দেখে মনে হচ্ছিল, এই অবস্থান তার কাছে নতুন কিছু নয়; বরং দীর্ঘদিনের পরিচিত এক অভ্যাস। কাছে গিয়ে কথা বলতেই বেরিয়ে আসে তার জীবনের নানা অজানা অধ্যায়।

সিরাজ মিয়া জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ান তিনি। মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চান। কেউ সাহায্য করলে তা দিয়ে খাবারসহ প্রয়োজনীয় খরচ চালান। কোনো জায়গায় বেশি দিন থাকা হয় না। আজ এক এলাকায়, কাল হয়তো অন্য কোনো জেলায়- এভাবেই কেটে যায় তার দিন।
তবে সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি ট্রেনের শেষ বগীর পেছনে বসে যাতায়াত করছেন।

কেন এমন ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে চলাচল করেন- এমন প্রশ্নের জবাবে সিরাজ মিয়া বলেন, “টাকার জন্য নয়, অভ্যাস হয়ে গেছে। এভাবেই চলি।”

তার কাছে এটি শুধু যাতায়াতের কোনো কৌশল নয়; দীর্ঘদিনের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। একসময় হয়ত পরিস্থিতির কারণে এমনভাবে ট্রেনে উঠেছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর একইভাবে চলতে চলতে সেটিই এখন তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অংশ।

ট্রেনের বগীর পেছনে বসে থাকা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সামান্য অসতর্কতা কিংবা হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। বিশেষ করে ৭০ বছর বয়সে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল আরও বিপজ্জনক।

এ বিষয়ে তাকে সতর্ক করে প্রশ্ন করা হলে সিরাজ মিয়া বিষয়টি স্বীকার করেন। তার ভাষায়, ঝুঁকি আছে, তা তিনি জানেন। কিন্তু তারপরও নিজের মতো করে চলাফেরা করার জন্য তিনি এই পথই বেছে নিয়েছেন। বলেন, “কিছু করার নেই। স্বাধীনভাবে যাতায়াতের জন্য এভাবেই চলি।”

তার কথায় কোনো অভিযোগ নেই, নেই কারও প্রতি আক্ষেপও। বরং দীর্ঘদিনের ভবঘুরে জীবনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন বলেই মনে হলো।

সিরাজ মিয়ার জীবনে স্থায়ী ঠিকানার চেয়ে পথের গুরুত্বই যেন বেশি। একটি ট্রেন থামে, যাত্রীরা ওঠেন-নামেন, আবার ট্রেন ছেড়ে যায়। সেই সঙ্গে বদলে যায় তার চারপাশের দৃশ্যপটও। এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশন- এভাবেই তার পথচলা।

কখনো হবিগঞ্জ, কখনো অন্য কোনো জেলা। কোথাও পরিচিত মানুষ মেলে, কোথাও অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা পান। আবার কখনও হয়ত দিনের পর দিন কষ্ট করেই কাটাতে হয়।

তার জীবনের গল্পে বড় কোনো চাওয়া-পাওয়ার হিসাব নেই। নেই স্বচ্ছলতার স্বপ্ন কিংবা স্থায়ী জীবনের নিশ্চয়তা। মানুষের সহায়তা আর নিজের অভ্যাসকে সঙ্গী করে তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেশের পথে পথে।

৭০ বছর বয়সে যেখানে একজন মানুষের প্রয়োজন হয় নিরাপদ আশ্রয়, পরিবারের সান্নিধ্য ও একটু নিশ্চিন্ত জীবন-সেখানে সিরাজ মিয়ার জীবন এখনও রেললাইনের সঙ্গে বাঁধা।

বছরের পর বছর ট্রেনের পেছনে বসে চলতে চলতে তার বয়স বেড়েছে। চুলে পাক ধরেছে, শরীরে এসেছে বয়সের ছাপ। কিন্তু বদলায়নি তার চলার ধরন।

ট্রেনের শেষ বগীর পেছনে বসে থাকা যেন তার কাছে এক ধরনের স্বাধীনতা। হয়ত ভেতরের ভিড়, নিয়মকানুন কিংবা বাঁধাধরা জীবনের চেয়ে নিজের মতো করে চলাটাকেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য মনে করেন।

তার জীবনকে বাইরে থেকে দেখলে অনেক প্রশ্নের জন্ম নেয়। কেন এমন জীবন? কেন এত বছর ধরে ঝুঁকি? কোথায় তার আপনজন? কেন স্থায়ীভাবে কোথাও থিতু হননি? এসব প্রশ্নের সব উত্তর হয়ত তার কাছেও নেই। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—জীবন তাকে যে পথে হাঁটিয়েছে, সেই পথেই তিনি হাঁটতে শিখেছেন।

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ট্রেনটি যখন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনও সিরাজ মিয়া ছিলেন শেষ বগীর পেছনে। চারপাশে যাত্রীদের ছোটাছুটি, হুইসেলের শব্দ, রেললাইনে ট্রেনের চাকার ঝাঁকুনি-সবকিছুর মাঝেও তিনি ছিলেন নির্বিকার।

কিছুক্ষণ পর ট্রেনটি ছেড়ে যায়। ধীরে ধীরে গতি বাড়তে থাকে। জংশন পেছনে পড়ে যায়। মানুষের কোলাহলও মিলিয়ে যায় দূরে। কিন্তু ট্রেনের শেষ প্রান্তে বসে থাকা সিরাজ মিয়ার গল্পটি যেন সেখানেই শেষ হয় না। বরং আবার শুরু হয় নতুন কোনো স্টেশনে, নতুন কোনো মানুষের সঙ্গে, নতুন কোনো দিনের অপেক্ষায়।

৩৫ বছর ধরে ট্রেনের শেষ বগীর পেছনে বসে চলা এই মানুষটির জীবনের কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য নেই। ট্রেনই তার পথ, স্টেশনই তার বিরতি, আর মানুষের সহায়তাই তার জীবনের অবলম্বন।

জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও সিরাজ মিয়া ছুটে চলেছেন। কোথায় যাবেন-হয়তো তিনিও জানেন না। শুধু জানেন, ট্রেন চলবে, আর তার সঙ্গে চলবে তার দীর্ঘ ভবঘুরে জীবন।

রেললাইনের দুপাশে ছুটে চলা দৃশ্যের মতোই সিরাজ মিয়ার জীবনও ছুটে চলছে-এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে, এক গন্তব্য থেকে অজানা আরেক গন্তব্যের দিকে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রেনের শেষ বগীর পেছনেই ৩৫ বছরের জীবন

আপডেট টাইম : ১০:৫৬:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

ট্রেন ছুটে চলে আপন গতিতে। কখনো শহর পেরিয়ে, কখনো গ্রামের বুক চিরে, কখনো সবুজ মাঠের পাশ দিয়ে। ট্রেনের ভেতরে তখন নানা বয়সী মানুষের ব্যস্ততা-কেউ কর্মস্থলে ছুটছেন, কেউ বাড়ি ফিরছেন, কেউবা যাচ্ছেন প্রিয়জনের কাছে। কিন্তু এই চেনা দৃশ্যের বাইরে ট্রেনের একেবারে শেষ প্রান্তে রয়েছে আরেকটি অচেনা গল্প।

সেই গল্পের মানুষটির নাম সিরাজ মিয়া। বয়স প্রায় ৭০ বছর। বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর গ্রামে। জীবনের প্রায় ৩৫ বছর ধরে ট্রেনের সবশেষ বগীর পেছনে বসেই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি। নেই নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্য, নেই স্থায়ী কোনো কর্মস্থল। মানুষের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে কোনোরকমে জীবন চালান। আর ট্রেনই হয়ে উঠেছে তার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার প্রধান অবলম্বন।

সম্প্রতি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনের শেষ বগীর পেছনে দেখা মেলে সিরাজ মিয়ার। ট্রেনের ভেতরে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ আলাদা। শেষ বগীর পেছনে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় বসে ছিলেন নিশ্চিন্ত মনে। দেখে মনে হচ্ছিল, এই অবস্থান তার কাছে নতুন কিছু নয়; বরং দীর্ঘদিনের পরিচিত এক অভ্যাস। কাছে গিয়ে কথা বলতেই বেরিয়ে আসে তার জীবনের নানা অজানা অধ্যায়।

সিরাজ মিয়া জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ান তিনি। মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চান। কেউ সাহায্য করলে তা দিয়ে খাবারসহ প্রয়োজনীয় খরচ চালান। কোনো জায়গায় বেশি দিন থাকা হয় না। আজ এক এলাকায়, কাল হয়তো অন্য কোনো জেলায়- এভাবেই কেটে যায় তার দিন।
তবে সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি ট্রেনের শেষ বগীর পেছনে বসে যাতায়াত করছেন।

কেন এমন ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে চলাচল করেন- এমন প্রশ্নের জবাবে সিরাজ মিয়া বলেন, “টাকার জন্য নয়, অভ্যাস হয়ে গেছে। এভাবেই চলি।”

তার কাছে এটি শুধু যাতায়াতের কোনো কৌশল নয়; দীর্ঘদিনের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। একসময় হয়ত পরিস্থিতির কারণে এমনভাবে ট্রেনে উঠেছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর একইভাবে চলতে চলতে সেটিই এখন তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অংশ।

ট্রেনের বগীর পেছনে বসে থাকা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সামান্য অসতর্কতা কিংবা হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। বিশেষ করে ৭০ বছর বয়সে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল আরও বিপজ্জনক।

এ বিষয়ে তাকে সতর্ক করে প্রশ্ন করা হলে সিরাজ মিয়া বিষয়টি স্বীকার করেন। তার ভাষায়, ঝুঁকি আছে, তা তিনি জানেন। কিন্তু তারপরও নিজের মতো করে চলাফেরা করার জন্য তিনি এই পথই বেছে নিয়েছেন। বলেন, “কিছু করার নেই। স্বাধীনভাবে যাতায়াতের জন্য এভাবেই চলি।”

তার কথায় কোনো অভিযোগ নেই, নেই কারও প্রতি আক্ষেপও। বরং দীর্ঘদিনের ভবঘুরে জীবনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন বলেই মনে হলো।

সিরাজ মিয়ার জীবনে স্থায়ী ঠিকানার চেয়ে পথের গুরুত্বই যেন বেশি। একটি ট্রেন থামে, যাত্রীরা ওঠেন-নামেন, আবার ট্রেন ছেড়ে যায়। সেই সঙ্গে বদলে যায় তার চারপাশের দৃশ্যপটও। এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশন- এভাবেই তার পথচলা।

কখনো হবিগঞ্জ, কখনো অন্য কোনো জেলা। কোথাও পরিচিত মানুষ মেলে, কোথাও অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা পান। আবার কখনও হয়ত দিনের পর দিন কষ্ট করেই কাটাতে হয়।

তার জীবনের গল্পে বড় কোনো চাওয়া-পাওয়ার হিসাব নেই। নেই স্বচ্ছলতার স্বপ্ন কিংবা স্থায়ী জীবনের নিশ্চয়তা। মানুষের সহায়তা আর নিজের অভ্যাসকে সঙ্গী করে তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেশের পথে পথে।

৭০ বছর বয়সে যেখানে একজন মানুষের প্রয়োজন হয় নিরাপদ আশ্রয়, পরিবারের সান্নিধ্য ও একটু নিশ্চিন্ত জীবন-সেখানে সিরাজ মিয়ার জীবন এখনও রেললাইনের সঙ্গে বাঁধা।

বছরের পর বছর ট্রেনের পেছনে বসে চলতে চলতে তার বয়স বেড়েছে। চুলে পাক ধরেছে, শরীরে এসেছে বয়সের ছাপ। কিন্তু বদলায়নি তার চলার ধরন।

ট্রেনের শেষ বগীর পেছনে বসে থাকা যেন তার কাছে এক ধরনের স্বাধীনতা। হয়ত ভেতরের ভিড়, নিয়মকানুন কিংবা বাঁধাধরা জীবনের চেয়ে নিজের মতো করে চলাটাকেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য মনে করেন।

তার জীবনকে বাইরে থেকে দেখলে অনেক প্রশ্নের জন্ম নেয়। কেন এমন জীবন? কেন এত বছর ধরে ঝুঁকি? কোথায় তার আপনজন? কেন স্থায়ীভাবে কোথাও থিতু হননি? এসব প্রশ্নের সব উত্তর হয়ত তার কাছেও নেই। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—জীবন তাকে যে পথে হাঁটিয়েছে, সেই পথেই তিনি হাঁটতে শিখেছেন।

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ট্রেনটি যখন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনও সিরাজ মিয়া ছিলেন শেষ বগীর পেছনে। চারপাশে যাত্রীদের ছোটাছুটি, হুইসেলের শব্দ, রেললাইনে ট্রেনের চাকার ঝাঁকুনি-সবকিছুর মাঝেও তিনি ছিলেন নির্বিকার।

কিছুক্ষণ পর ট্রেনটি ছেড়ে যায়। ধীরে ধীরে গতি বাড়তে থাকে। জংশন পেছনে পড়ে যায়। মানুষের কোলাহলও মিলিয়ে যায় দূরে। কিন্তু ট্রেনের শেষ প্রান্তে বসে থাকা সিরাজ মিয়ার গল্পটি যেন সেখানেই শেষ হয় না। বরং আবার শুরু হয় নতুন কোনো স্টেশনে, নতুন কোনো মানুষের সঙ্গে, নতুন কোনো দিনের অপেক্ষায়।

৩৫ বছর ধরে ট্রেনের শেষ বগীর পেছনে বসে চলা এই মানুষটির জীবনের কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য নেই। ট্রেনই তার পথ, স্টেশনই তার বিরতি, আর মানুষের সহায়তাই তার জীবনের অবলম্বন।

জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও সিরাজ মিয়া ছুটে চলেছেন। কোথায় যাবেন-হয়তো তিনিও জানেন না। শুধু জানেন, ট্রেন চলবে, আর তার সঙ্গে চলবে তার দীর্ঘ ভবঘুরে জীবন।

রেললাইনের দুপাশে ছুটে চলা দৃশ্যের মতোই সিরাজ মিয়ার জীবনও ছুটে চলছে-এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনে, এক গন্তব্য থেকে অজানা আরেক গন্তব্যের দিকে।