দেশব্যাপী আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম আসরে দেড় লাখের বেশি প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণ থেকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ৩০৬ জন সেরা খেলোয়াড়কে বাছাই করেছিল, যারা পরবর্তীতে বিকেএসপিতে ৪০ দিনের নিবিড় আবাসিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের অনন্য সুযোগ পান। উক্ত নিবিড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকেই তাদের সার্বিক দক্ষতা ও পারফরম্যান্স মূল্যায়নের মাধ্যমে সেরা ৪০ জন মেধাবী ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপির দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কর্মসূচির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। তাদের উচ্চতর ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগ পাবেন।
এবারের বাছাইয়ে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে তরুণীদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা গেছে। ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ১০ জন উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছেন, যার মধ্যে সাতজন মেয়ে এবং তিনজন ছেলে। আবার কাবাডিতে দীর্ঘমেয়াদী অনুশীলনের জন্য নির্বাচিত পাঁচজনের মধ্যে চারজনই মেয়ে। ফুটবলেও একই চিত্র দেখা গেছে, সুযোগ পাওয়া পাঁচজনের চারজন মেয়ে এবং একজন ছেলে। সাঁতার, জুডো এবং উশু—এই তিনটি ভিন্ন খেলায় দুইজন করে প্রতিভাবান অ্যাথলেট দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে কারাতে এবং তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতায় সেরা দক্ষতা দেখিয়ে বিকেএসপিতে জায়গা করে নিয়েছেন তিনজন করে মোট ছয়জন ক্রীড়াবিদ। অ্যাথলেটিক্সে চারজন এবং ব্যাডমিন্টনে তিনজনের দলটিও বিকেএসপির আধুনিক সুবিধার অধীনে নিয়মিত অনুশীলন ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৪০ জনের বাইরে থাকা বাকি প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিকেলে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘প্রথম আসরে ১ লক্ষ ৬৮ হাজার অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মধ্য থেকে ৩০৬ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে ৪০ দিনব্যাপী ক্যাম্প পরিচালিত হলেও বিভিন্ন কারণে অনেকেই শেষ পর্যন্ত বিকেএসপিতে পৌঁছাতে বা সুযোগ পাননি।’
‘তবে তাদের মেধা ও পারফরম্যান্সকে টিকিয়ে রাখতে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সসীমার পাশাপাশি ১৫, ১৬ বা ১৭ বছর বয়সী যেসব খেলোয়াড় বয়স বা অন্যান্য কারণে এই দফায় সুযোগ পায়নি, তাদেরকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন লিগে খেলানোর ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া আসছে ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় আসরে তারা আরও বড় পরিসরে—ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে আবারও বিকেএসপিতে সুযোগ পাওয়ার ও নিজেদের প্রতিভা প্রমাণ করার পূর্ণ সুযোগ পাবে।’-যোগ করেন তিনি।
আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে বাংলাদেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করা হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, এই আসরে খেলোয়াড়েরা ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত খেলোয়াড়দের পুনরায় বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ট্যালেন্টেড খেলোয়াড়দের স্থায়ীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তি করিয়ে তাদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকার বহন করবে। প্রথম আসরে ১ লক্ষ ৬৮ হাজার অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ৩০৬ জন প্রতিভাবান খেলোয়াড় পাওয়া গেলেও বিভিন্ন কারণে অনেকেই বিকেএসপিতে পৌঁছাতে পারেননি—এমন খেলোয়াড়দের পরবর্তী আসরে তাদের পারফরম্যান্স প্রদর্শনের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে আবারও অংশগ্রহণের সুযোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
Reporter Name 
























