ঢাকা ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
এক কমলাগাছ থেকে ফারুকের কৃষি সাম্রাজ্য কুমিল্লায় যুবদল নেতা হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের ৭ দিনের রিমান্ড মসলিনের টেকসই উৎপাদন ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হবে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন মানবতার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত : জুবাইদা রহমান বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক যে সম্প্রীতি রয়েছে, তা বিশ্বের আর কোথাও নেই: রাষ্ট্রপতি ফোনের র‍্যাম বাড়াতে যা করবেন নতুন পে-স্কেলে কত টাকা বকেয়া পাবেন, হিসাব করবেন যেভাবে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ’ খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন সচিব পদে বড় রদবদল, পদোন্নতি, সংযুক্তি বাংলাদেশের ফুটবলকে পরের ধাপে নিতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে ফিফা

স্বপ্নের নারীর খোঁজে ১৯০০ কিলোমিটার পাড়ি, পরে জানলেন তিনি এআই দিয়ে তৈরি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৭ বার

স্বপ্নের নারীর সঙ্গে দেখা করতে নিজের সব সম্পত্তি বিক্রি করে ১ হাজা ৯৩১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ৪৯ বছর বয়সী এক ব্রাজিলীয় নাগরিক। পরে জানতে পারেন যাকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি, সেই নারী আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র।

ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মারানহাওয়ের রাজমিস্ত্রি এদিমার মার্তিন্স স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভি মিরান্তেকে বলেছেন, ২০২০ সালে তিনি প্রথম ‘জেসিকা অলিভেইরা’ (জেসিকা ফাজেনদেইরা নামেও পরিচিত) নামের এক নারীর একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের সন্ধান পান।

৩ লাখেরও বেশি অনুসারী থাকা সেই অ্যাকাউন্টে একটি খামারে এক নারীর মনোরম গ্রামীণ জীবনযাপনের ভিডিও প্রকাশ করা হতো। সেটিতে পুরুষদের তার সঙ্গে এসে থাকার জন্য আমন্ত্রণ এবং তাদের আবাসন ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। মায়ের মৃত্যুর পর একাকীত্বে ভোগা মার্তিন্স বিশ্বাস করেছিলেন, এই নারী তাকে নতুন জীবন শুরু করতে সাহায্য করতে পারেন। অ্যাকাউন্টটিতে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে কাল্পনিক সেই চরিত্র তাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করার এবং নিজের খামারে থাকতে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

অবশেষে তিনি সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীকে খুঁজে পেয়েছেন বলে নিশ্চিত হয়ে তার সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন এদিমার। গত ৯ অক্টোবর ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিনাস জেরাইসের রাজধানী বেলো হরিজন্তের ভ্রমণের খরচ জোগাতে এদিমার তার সব মালামাল বিক্রি করে দেন। বাসে করে এক দিনেরও বেশি সময় ভ্রমণের পর ১১ অক্টোবর তিনি ওই শহরে পৌঁছান বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে।

তবে সেই নারীর সঙ্গে দেখা করার তার সমস্ত আশা খুব দ্রুতই চুরমার হয়ে যায়। সঙ্গে নিয়ে আসা ছবিগুলো দেখিয়ে এদিমার শহরে লোকজনের কাছে তার সন্ধান এবং কেউ তাকে চিনতে পারে কি না তা জানতে চান। কিন্তু কেউ তাকে শনাক্ত করতে পারেনি। অবশেষে তিনি একটি স্থানীয় রেডিও স্টেশনে যান, যেখানে তাকে জানানো হয়, এই নারীর কোনো অস্তিত্বই নেই এবং অ্যাকাউন্টটি ছিল ভুয়া। এরপর এদিমার জানতে পারেন, যাকে তিনি বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, তিনি আসলে এআই দিয়ে তৈরি এক কাল্পনিক রূপ।

এদিমার ‌‌বলেন, ‘‘এই ঘটনা আমার জীবনে কেবল দুঃখ, হতাশা আর অবসাদই বয়ে এনেছে। অনেকেই একটি সম্পর্ক খুঁজে পেতে চায়, আমিও তাই চেয়েছিলাম।’’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই অ্যাকাউন্টের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি পরবর্তীতে স্বীকার করেছেন, যে চরিত্রটি এআই দিয়ে তৈরি ছিল এবং এদিমার ‌‌মার্তিন্সের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেন তিনি।

‘‘আমি এখানে বিষয়টি স্পষ্ট করতে এসেছি: আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। এই প্রোফাইল থেকে আমি কখনও কারও সাথে কথা বলিনি। বিক্রির উদ্দেশ্যে ভিউ বা এনগেজমেন্ট বাড়ানোই ছিল একমাত্র উদ্দেশ্য। আমি কখনও সরাসরি কারও সঙ্গে কথা বলিনি, বেলো হরিজন্তে কাউকে নিয়ে আসার তো প্রশ্নই ওঠে না। যা ঘটছে তা দেখে আমি নিজেই অবাক,’’ কাল্পনিক নারী চরিত্রটির মাধ্যমে এভাবেই এক বিবৃতি দেওয়া হয়।

ভ্রমণের সব টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় এদিমার মার্তিন্স ওই শহরে আটকা পড়েন এবং পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চান। সমাজকর্মীরা তাকে খাবার, গোসলের সুযোগ এবং শহর ছেড়ে যাওয়ার জন্য বাসের টিকিটসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা করেন।

এমন হতাশার পরও সঙ্গী খোঁজার আশা ছেড়ে দেননি এদিমার মার্তিন্স। তিনি বর্তমানে এক আত্মীয়র বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং বেলো হরিজন্তে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন; যাতে স্থায়ীভাবে ঘর বাঁধার জন্য কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। এদিমার মার্তিন্স বলেন, ‘‘আমি তাকে পাইনি, তবে অন্য কাউকে খুঁজে পাব এবং আমি যে জায়গায় গিয়েছিলাম সেখানেই পাব, আর আমি সেখানে আবার যাব।’’

দ্য সানের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ছয় মাসেরও কম সময়ে মার্তিন্স তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে এআই-নির্মিত কাল্পনিক ওই নারীর সঙ্গে দেখা করার আশায় বেলো হরিজন্তে গিয়েছিলেন।

সূত্র: এনডিটিভি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

এক কমলাগাছ থেকে ফারুকের কৃষি সাম্রাজ্য

স্বপ্নের নারীর খোঁজে ১৯০০ কিলোমিটার পাড়ি, পরে জানলেন তিনি এআই দিয়ে তৈরি

আপডেট টাইম : ১১:২০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

স্বপ্নের নারীর সঙ্গে দেখা করতে নিজের সব সম্পত্তি বিক্রি করে ১ হাজা ৯৩১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ৪৯ বছর বয়সী এক ব্রাজিলীয় নাগরিক। পরে জানতে পারেন যাকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি, সেই নারী আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র।

ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মারানহাওয়ের রাজমিস্ত্রি এদিমার মার্তিন্স স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভি মিরান্তেকে বলেছেন, ২০২০ সালে তিনি প্রথম ‘জেসিকা অলিভেইরা’ (জেসিকা ফাজেনদেইরা নামেও পরিচিত) নামের এক নারীর একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের সন্ধান পান।

৩ লাখেরও বেশি অনুসারী থাকা সেই অ্যাকাউন্টে একটি খামারে এক নারীর মনোরম গ্রামীণ জীবনযাপনের ভিডিও প্রকাশ করা হতো। সেটিতে পুরুষদের তার সঙ্গে এসে থাকার জন্য আমন্ত্রণ এবং তাদের আবাসন ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। মায়ের মৃত্যুর পর একাকীত্বে ভোগা মার্তিন্স বিশ্বাস করেছিলেন, এই নারী তাকে নতুন জীবন শুরু করতে সাহায্য করতে পারেন। অ্যাকাউন্টটিতে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে কাল্পনিক সেই চরিত্র তাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করার এবং নিজের খামারে থাকতে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

অবশেষে তিনি সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীকে খুঁজে পেয়েছেন বলে নিশ্চিত হয়ে তার সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন এদিমার। গত ৯ অক্টোবর ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিনাস জেরাইসের রাজধানী বেলো হরিজন্তের ভ্রমণের খরচ জোগাতে এদিমার তার সব মালামাল বিক্রি করে দেন। বাসে করে এক দিনেরও বেশি সময় ভ্রমণের পর ১১ অক্টোবর তিনি ওই শহরে পৌঁছান বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে।

তবে সেই নারীর সঙ্গে দেখা করার তার সমস্ত আশা খুব দ্রুতই চুরমার হয়ে যায়। সঙ্গে নিয়ে আসা ছবিগুলো দেখিয়ে এদিমার শহরে লোকজনের কাছে তার সন্ধান এবং কেউ তাকে চিনতে পারে কি না তা জানতে চান। কিন্তু কেউ তাকে শনাক্ত করতে পারেনি। অবশেষে তিনি একটি স্থানীয় রেডিও স্টেশনে যান, যেখানে তাকে জানানো হয়, এই নারীর কোনো অস্তিত্বই নেই এবং অ্যাকাউন্টটি ছিল ভুয়া। এরপর এদিমার জানতে পারেন, যাকে তিনি বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, তিনি আসলে এআই দিয়ে তৈরি এক কাল্পনিক রূপ।

এদিমার ‌‌বলেন, ‘‘এই ঘটনা আমার জীবনে কেবল দুঃখ, হতাশা আর অবসাদই বয়ে এনেছে। অনেকেই একটি সম্পর্ক খুঁজে পেতে চায়, আমিও তাই চেয়েছিলাম।’’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই অ্যাকাউন্টের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি পরবর্তীতে স্বীকার করেছেন, যে চরিত্রটি এআই দিয়ে তৈরি ছিল এবং এদিমার ‌‌মার্তিন্সের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেন তিনি।

‘‘আমি এখানে বিষয়টি স্পষ্ট করতে এসেছি: আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। এই প্রোফাইল থেকে আমি কখনও কারও সাথে কথা বলিনি। বিক্রির উদ্দেশ্যে ভিউ বা এনগেজমেন্ট বাড়ানোই ছিল একমাত্র উদ্দেশ্য। আমি কখনও সরাসরি কারও সঙ্গে কথা বলিনি, বেলো হরিজন্তে কাউকে নিয়ে আসার তো প্রশ্নই ওঠে না। যা ঘটছে তা দেখে আমি নিজেই অবাক,’’ কাল্পনিক নারী চরিত্রটির মাধ্যমে এভাবেই এক বিবৃতি দেওয়া হয়।

ভ্রমণের সব টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় এদিমার মার্তিন্স ওই শহরে আটকা পড়েন এবং পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চান। সমাজকর্মীরা তাকে খাবার, গোসলের সুযোগ এবং শহর ছেড়ে যাওয়ার জন্য বাসের টিকিটসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা করেন।

এমন হতাশার পরও সঙ্গী খোঁজার আশা ছেড়ে দেননি এদিমার মার্তিন্স। তিনি বর্তমানে এক আত্মীয়র বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং বেলো হরিজন্তে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন; যাতে স্থায়ীভাবে ঘর বাঁধার জন্য কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। এদিমার মার্তিন্স বলেন, ‘‘আমি তাকে পাইনি, তবে অন্য কাউকে খুঁজে পাব এবং আমি যে জায়গায় গিয়েছিলাম সেখানেই পাব, আর আমি সেখানে আবার যাব।’’

দ্য সানের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ছয় মাসেরও কম সময়ে মার্তিন্স তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে এআই-নির্মিত কাল্পনিক ওই নারীর সঙ্গে দেখা করার আশায় বেলো হরিজন্তে গিয়েছিলেন।

সূত্র: এনডিটিভি।