আগামী বছরের (২০২৭ সালের) হজযাত্রী নিবন্ধনের নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সৌদি আরবের দেওয়া ৭৮ হাজার ৫০০ জনের হজ কোটা পূরণ হয়েছে। ফলে সময় আর বাড়ানো হবে না।
যদিও নিবন্ধনের জন্য ভাউচার তৈরি করা আরও অতিরিক্ত কমপক্ষে ১০ হাজার হজযাত্রী টাকা জমা দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের হজ পালনের সুযোগ দিতে সৌদি আরবের কাছে অতিরিক্ত কোটা চাওয়ার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও হজ এজেন্সি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুরুতে কোটা পূরণ নিয়ে সংশয় থাকলেও এবার নিবন্ধনের শেষ দিকে হজযাত্রীদের সাড়া বেড়েছে। এর পেছনে বিমান ভাড়া কমানো, রাজনৈতিক সরকারের দেশ পরিচালনার মতো বিষয়গুলো ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন তারা।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিবন্ধনের ভাউচার তৈরি করা হজযাত্রীদের অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ দিতে শুক্রবার ও শনিবার (২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা খোলা রাখা হচ্ছে। অফিস সময়ের পরও জমাদানকারী উপস্থিত থাকলে টাকা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। এছাড়া অনানুষ্ঠানিকভাবে শনি ও রোববারও নিবন্ধন সার্ভার খোলা থাকবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৫ মে (৯ জিলহজ ১৪৪৮ হিজরি) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হয় গত ২৭ জুলাই। প্রাথমিক নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজের বাকি টাকা পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
হজের নিবন্ধনের সময় আজকেই (বৃহস্পতিবার) শেষ হচ্ছে। সময় আর বাড়ানো হবে না। কোটাও পূরণ হচ্ছে গেছে। সরকারি ৬ হাজার আর বেসরকারি ৭২ হাজার ৫০০, এভাবে মোট কোটা ৭৮ হাজার ৫০০। এর বেশি হলে গ্যারান্টি নেই। ওই বেশিটার কথা সৌদি আরবে আমরা লিখবো। তারা যদি অনুমতি দেয়, তাহলে হবে।- ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ
কথা হয় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘হজের নিবন্ধনের সময় আজকেই (বৃহস্পতিবার) শেষ হচ্ছে। সময় আর বাড়ানো হবে না। কোটাও পূরণ হচ্ছে গেছে।’
শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যারা এন্ট্রি করে ফেলেছেন, বাকি টাকাটা পরিশোধ করার জন্য (ব্যাংক খোলা রাখা হচ্ছে)।’
হজের কোটা প্রসঙ্গে সচিব বলেন, ‘সরকারি ৬ হাজার আর বেসরকারি ৭২ হাজার ৫০০, এভাবে মোট কোটা ৭৮ হাজার ৫০০। এর বেশি হলে গ্যারান্টি নেই। ওই বেশিটার কথা সৌদি আরবে আমরা লিখবো। তারা যদি অনুমতি দেয়, তাহলে হবে।’
আরও কিছু কোটা পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করতেছি, আশা করতেছি।’
২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ছিল এক লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা। ২০২৭ সালে তা কমিয়ে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ জনপ্রতি বিমান ভাড়া কমেছে ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা।
সৌদি আরবে আবাসন, পরিবহন ও অন্যান্য সেবার ব্যয় বাড়লেও বিমান ভাড়া ও সরকারি প্যাকেজের মূল্য কমানোর সিদ্ধান্ত হজে যেতে আগ্রহীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর হজযাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পর এবার খরচ কমানো, প্যাকেজে খাবার যুক্ত করা এবং হজ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত হওয়ায় আগ্রহের প্রতিফলন নিবন্ধনের শেষ পর্যায়ে দেখা গেছে।
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ উদ্দিন মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘নির্ধারিত সময়েই কোটা পূরণ হয়ে গেছে। আশা করছি আল্লাহর রহমতে এবার গতবারের চেয়ে ভালো হবে। সরকার যে অ্যামাউন্টটা কমিয়েছে, তার একটা রিফ্লেকশন আছে মনে হচ্ছে। আর পলিটিক্যাল গভর্নমেন্ট, মানুষের আস্তে আস্তে আস্থার জায়গাটাও বাড়ছে মনে হচ্ছে।’
আমাদের বেসিক কোটা হলো এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮। মাঝখানে বারবার কম হওয়ায় গত বছর যে ৭৮ হাজার ৫০০ হয়েছে, সৌদি আরব সেটাকেই বেজ কোটা হিসেবে ধরে ফিক্সড করেছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করলে সুযোগ আছে। যেহেতু আমাদের মূল কোটা বেশি, সেক্ষেত্রে চেষ্টা করলে হয়তো কোটা বাড়তে পারে।- হাব মহাসচিব ফরিদ উদ্দিন মজুমদার
তিনি বলেন, ‘আমাদের বেসিক কোটা হলো এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮। মাঝখানে বারবার কম হওয়ায় গত বছর যে ৭৮ হাজার ৫০০ হয়েছে, সৌদি আরব সেটাকেই বেজ কোটা হিসেবে ধরে ফিক্সড করেছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করলে সুযোগ আছে। যেহেতু আমাদের মূল কোটা বেশি, সেক্ষেত্রে চেষ্টা করলে হয়তো কোটা বাড়তে পারে।’
ফরিদ উদ্দিন মজুমদার বলেন, ‘৭৮ হাজার ৫০০ কোটা পূর্ণ হওয়ার পরও ১০ থেকে ১৫ হাজারের মতো মানুষ অপেক্ষমাণ থাকবে বলে মনে হচ্ছে। সঠিক হিসাব এখনো পাইনি। সময় শেষ, কোটাও পূর্ণ। কিন্তু, অনেক এজেন্সি এখনো নিবন্ধন করতে পারেনি। এজন্য এজেন্সির মধ্যে অসন্তোষ আছে।’
অতিরিক্ত হজযাত্রীদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার চায় অতিরিক্ত হজযাত্রী হজে যাক। মন্ত্রী মহোদয় উদ্যোগ নেবেন বলে কথা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করবো।’
চূড়ান্ত হজ কোটা হজ চুক্তির সময় নির্ধারণ হবে জানিয়ে ফরিদ উদ্দিন মজুমদার বলেন, ‘এর আগে যদি আমাদের কোটা পাওয়া যায়, ওই চুক্তির সময় যে সংখ্যাটা নির্ধারণ হয়, সেটাই চূড়ান্ত। হজ চুক্তিতে যে সংখ্যা আসবে, সেটাই চূড়ান্ত হবে।’
নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপাতত কোটা নেই, সময় বাড়িয়েও তো লাভ নেই।’
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজকীয় সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। চূড়ান্ত সংখ্যার ভিত্তিতে সৌদি পর্বের অর্থ প্রেরণ, মেডিকেল চেকআপ, ফিটনেস সনদ, টিকা প্রদান, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়া হবে।
আগামী বছরের হজে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-১ এর খরচ ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং সাশ্রয়ী প্যাকেজ-২ এর খরচ ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বিশেষ প্যাকেজ-১ এর খরচ ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা। সাধারণ প্যাকেজ-২ এর খরচ ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮০ টাকা এবং সাশ্রয়ী প্যাকেজ-৩ এর খরচ ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা।
সৌদির রোডম্যাপে নভেম্বরে হজ চুক্তি
সৌদি আরবের ২০২৭ সালের হজ রোডম্যাপ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় হজ চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ৮ নভেম্বর। এর আগে সৌদি পর্বের বিভিন্ন সেবা প্যাকেজ, মক্কা-মদিনার আবাসন, তাঁবু, খাবার ও পরিবহনসংক্রান্ত চুক্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মাশার নুসুক প্ল্যাটফর্মে এসব সেবার চুক্তি চলবে আগামী বছরের ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত। হজযাত্রীদের তথ্যও পর্যায়ক্রমে ওই প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা হবে।
রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে হজ ভিসা ইস্যু শুরু হওয়ার কথা। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহনের ফ্লাইট শুরু হবে ৮ এপ্রিল।
এদিকে, সৌদি আরব এরই মধ্যে ২০২৭ সালের হজ সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের হজ অফিসগুলোর সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক বৈঠক শুরু করেছে। আগস্টে ৭৫টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এসব বৈঠকে হজ কার্যক্রমের প্রস্তুতি, পরিচালন পরিকল্পনা, বিধিবিধান ও সেবার মান নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
অনুমতি পেয়েছে ৭১২টি এজেন্সি
আগামী বছর (২০২৭ সাল) হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে এ পর্যন্ত আট দফায় মোট ৭১২টি এজেন্সিকে অনুমতি দিয়েছে সরকার। সর্বশেষ ২১ সেপ্টেম্বর অষ্টম পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে যোগ্য ১০টি হজ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর আগে সাত দফায় ৭০২টি এজেন্সিকে আগামী হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে অনুমতি দেয় সরকার।
এছাড়া ২০২৭ সালের হজযাত্রী পরিবহনে তিনটি এয়ারলাইন্সকে কোটা বরাদ্দ দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বরাদ্দ অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫০ শতাংশ, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স ৩৫ শতাংশ এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ১৫ শতাংশ হজযাত্রী পরিবহন করবে।
হজযাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলোকে বরাদ্দ করা পোর্ট কোটা অনুযায়ী সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দর দিয়ে ৮০ শতাংশ এবং মদিনা বিমানবন্দর দিয়ে ২০ শতাংশ হজযাত্রীর গমনাগমন নিশ্চিত করতে হবে।
Reporter Name 

























