খুতবার সময়ে ফোনে আসা বার্তা দেখা, হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুক চালানো কিংবা অকারণে মোবাইলের পর্দায় চোখ রাখার বিধান কী?
সহিহ হাদিসে জুমার খুতবার সময় মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নীরব থাকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকি অন্য কাউকে ‘চুপ থাকো’ বলতেও নিষেধ করা হয়েছে।
জর্ডানের সরকারি জেনারেল ইফতা বিভাগ এ বিষয়ে সরাসরি একটি ফতোয়া দিয়েছে। সেখানে প্রশ্ন করা হয়েছিল, জুমার খুতবার সময় মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করার বিধান কী।
প্রতিষ্ঠানটির ফতোয়ায় বলা হয়েছে, খুতবার সময় মুসল্লির উচিত মনোযোগ দিয়ে খতিবের কথা শোনা এবং কথা বলা বা অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত না হওয়া। নুড়ি পাথর নাড়াচাড়ার মতো সামান্য কাজকেও যখন হাদিসে অনর্থক বলা হয়েছে, তখন হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক বা অন্য অ্যাপ ব্যবহারে ব্যস্ত হওয়া খুতবা থেকে আরও বেশি মনোযোগ সরিয়ে দেয়। তাই প্রয়োজন ছাড়া খুতবার সময় মোবাইল ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
আল-কোরআনেও জুমার সময় অন্য ব্যস্ততা ছেড়ে আল্লাহর স্মরণের দিকে যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে। সুরা জুমার ৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, জুমার নামাজের জন্য আহ্বান করা হলে আল্লাহর স্মরণের দিকে এগিয়ে যেতে এবং কেনাবেচা ছেড়ে দিতে।
হাদিস ও আলেমদের ব্যাখ্যার আলোকে, খুতবা চলার সময় বার্তা পাঠানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখা, অকারণে স্ক্রল করা, ছবি তোলা বা অন্য কোনো কাজে মোবাইলে ব্যস্ত না থেকে খুতবা শোনাই উচিত।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন—মোবাইল দেখলেই জুমার নামাজ ‘বাতিল হয়ে যায়’, এমন কথা উল্লেখিত সহিহ হাদিসে বলা হয়নি। মূল সতর্কতা হলো, খুতবার সময় অনর্থক কাজে জড়িয়ে এর আদব ও পূর্ণ সওয়াব থেকে বঞ্চিত না হওয়া।
তাই জুমার মসজিদে প্রবেশের আগেই ফোনটি নীরব করে রাখা এবং খুতবা শুরু হলে সেটি পাশে রেখে মনোযোগ দিয়ে শোনা সবচেয়ে নিরাপদ ও উত্তম অভ্যাস।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ইমাম যখন জুমার খুতবা দেন, তখন কেউ তার পাশের ব্যক্তিকে ‘চুপ থাকো’ বললেও সে অনর্থক কাজে জড়িয়ে পড়ল। হাদিসটি সহিহ বুখারির ৯৩৪ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
একই বক্তব্য সহিহ মুসলিমের ৮৫১ নম্বর হাদিসেও এসেছে। অর্থাৎ ভালো উদ্দেশ্যেও অন্যকে কথা বলে থামানোর পরিবর্তে নিজে নীরব থেকে খুতবা শোনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
Reporter Name 
























