ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালমান শাহর মৃত্যুর পর ১০০ কোটি টাকার প্রস্তাব, দাবি নীলা চৌধুরীর

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৫ বার

নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। প্রায় তিন দশক পর আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই চিত্রনায়কের মৃত্যু। সম্প্রতি সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ডন গ্রেফতার হওয়ার পর তার পরিবার ও ভক্তরা ফের বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে লন্ডনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুর পর তাকে দেওয়া কথিত প্রলোভন ও হুমকির বিষয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, সালমানের মৃত্যুর পর মামলা নিয়ে আর না বাড়াবাড়ি করার বিনিময়ে তাকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

লন্ডনের বাঙালি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে সালমান মারা যায়। ওই বছরের নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বর মাসে জাতীয় পার্টির তৎকালীন একজন মন্ত্রী, যিনি আজিজ মোহাম্মদের বন্ধু ছিলেন, আমার বাসায় এসেছিলেন। তার নাম বলতে চাই না। মনে হয় তিনি এখন আর বেঁচে নেই।’

ওই ব্যক্তির দেওয়া প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তিনি আমাকে বলেছিলেন, ভাবী আপনাকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে, এসব নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করবেন না। আপনার বয়স হয়ে যাচ্ছে, এই টাকাগুলো খরচ করেন। আমি তাকে বলেছিলাম, ভাই, আমি ১০০ কোটি টাকা চাই না, আমার ছেলেটাকে এনে দেন।’

নীলা চৌধুরীর দাবি, সালমানের মৃত্যুর পর শুধু অর্থের প্রস্তাবই নয়, বিভিন্ন সময় তাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তবে কোনো প্রলোভন বা হুমকিই তাকে ছেলের মৃত্যুর সত্য উদঘাটনের দাবি থেকে সরাতে পারেনি।

এদিকে সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ও তার সাবেক স্ত্রী সামিরাকে নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন নীলা চৌধুরী। তিনি সামিরাকে মামলার ঘটনায় দায়ী দাবি করে তার বিচার চেয়েছেন।

নীলা চৌধুরী বলেন, ‘সামিরা দোষী। ও খুনি। ওর বিচার চাই। খুনি না হলে ও পালাবে কেন? আমি শুনেছি সামিরা পালিয়ে ভারতে এলাহাবাদ অথবা হায়দরাবাদে গেছে। ভারত থেকে সালমান শাহর এক ভক্ত আমাদের জানিয়েছে, সে নিশ্চিত হয়ে বলেছে সামিরা ভারতে পালিয়ে গেছে।’

তবে সামিরার বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য বা দাবির স্বাধীন সত্যতা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত হয়নি।

সালমান শাহর মৃত্যুকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অভিনেত্রী শাবনূরের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও নানা গুঞ্জন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রসঙ্গেও কথা বলেন নীলা চৌধুরী। তিনি দাবি করেন, শাবনূরের সঙ্গে সালমানের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না।

নীলা চৌধুরীর ভাষ্য, ‘সালমান শাবনূরকে নিজের বোনের মতোই দেখত। শাবনূরের সঙ্গে আমার ছেলের কোনো প্রেম ছিল না। শাবনূর আমার ছেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং সালমান তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করত।’

তিনি আরও বলেন, ‘সালমানের কোনো বোন ছিল না। তাই সে শাবনূরকে বোনের মতোই দেখত ও স্নেহ করত।’

১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকেই তার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড-এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থামেনি।

সম্প্রতি হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ডন গ্রেফতার হওয়ার পর সালমান শাহর মৃত্যুর বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে সালমানভক্তদেরও প্রত্যাশা, তিন দশক ধরে চলা এই রহস্যের অবসান ঘটিয়ে একদিন সত্য সবার সামনে আসবে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান শাহর মৃত্যুর পর ১০০ কোটি টাকার প্রস্তাব, দাবি নীলা চৌধুরীর

আপডেট টাইম : ১১:৩১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। প্রায় তিন দশক পর আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই চিত্রনায়কের মৃত্যু। সম্প্রতি সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ডন গ্রেফতার হওয়ার পর তার পরিবার ও ভক্তরা ফের বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে লন্ডনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুর পর তাকে দেওয়া কথিত প্রলোভন ও হুমকির বিষয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, সালমানের মৃত্যুর পর মামলা নিয়ে আর না বাড়াবাড়ি করার বিনিময়ে তাকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

লন্ডনের বাঙালি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে সালমান মারা যায়। ওই বছরের নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বর মাসে জাতীয় পার্টির তৎকালীন একজন মন্ত্রী, যিনি আজিজ মোহাম্মদের বন্ধু ছিলেন, আমার বাসায় এসেছিলেন। তার নাম বলতে চাই না। মনে হয় তিনি এখন আর বেঁচে নেই।’

ওই ব্যক্তির দেওয়া প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তিনি আমাকে বলেছিলেন, ভাবী আপনাকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে, এসব নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করবেন না। আপনার বয়স হয়ে যাচ্ছে, এই টাকাগুলো খরচ করেন। আমি তাকে বলেছিলাম, ভাই, আমি ১০০ কোটি টাকা চাই না, আমার ছেলেটাকে এনে দেন।’

নীলা চৌধুরীর দাবি, সালমানের মৃত্যুর পর শুধু অর্থের প্রস্তাবই নয়, বিভিন্ন সময় তাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তবে কোনো প্রলোভন বা হুমকিই তাকে ছেলের মৃত্যুর সত্য উদঘাটনের দাবি থেকে সরাতে পারেনি।

এদিকে সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ও তার সাবেক স্ত্রী সামিরাকে নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন নীলা চৌধুরী। তিনি সামিরাকে মামলার ঘটনায় দায়ী দাবি করে তার বিচার চেয়েছেন।

নীলা চৌধুরী বলেন, ‘সামিরা দোষী। ও খুনি। ওর বিচার চাই। খুনি না হলে ও পালাবে কেন? আমি শুনেছি সামিরা পালিয়ে ভারতে এলাহাবাদ অথবা হায়দরাবাদে গেছে। ভারত থেকে সালমান শাহর এক ভক্ত আমাদের জানিয়েছে, সে নিশ্চিত হয়ে বলেছে সামিরা ভারতে পালিয়ে গেছে।’

তবে সামিরার বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য বা দাবির স্বাধীন সত্যতা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত হয়নি।

সালমান শাহর মৃত্যুকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অভিনেত্রী শাবনূরের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও নানা গুঞ্জন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রসঙ্গেও কথা বলেন নীলা চৌধুরী। তিনি দাবি করেন, শাবনূরের সঙ্গে সালমানের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না।

নীলা চৌধুরীর ভাষ্য, ‘সালমান শাবনূরকে নিজের বোনের মতোই দেখত। শাবনূরের সঙ্গে আমার ছেলের কোনো প্রেম ছিল না। শাবনূর আমার ছেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং সালমান তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করত।’

তিনি আরও বলেন, ‘সালমানের কোনো বোন ছিল না। তাই সে শাবনূরকে বোনের মতোই দেখত ও স্নেহ করত।’

১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকেই তার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড-এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থামেনি।

সম্প্রতি হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ডন গ্রেফতার হওয়ার পর সালমান শাহর মৃত্যুর বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে সালমানভক্তদেরও প্রত্যাশা, তিন দশক ধরে চলা এই রহস্যের অবসান ঘটিয়ে একদিন সত্য সবার সামনে আসবে।