মানুষের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ কামনা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি আর জান্নাতের চিরন্তন ছায়াতলে আশ্রয় নেওয়া। কেউ এই সৌভাগ্য অর্জন করে দীর্ঘ ইবাদতের মাধ্যমে, আবার কেউ পেয়ে যায় শেষ মুহূর্তের তাওবা ও শাহাদাতের বরকতে। সাহাবায়ে কেরামের জীবনে এমন কিছু বিস্ময়কর ঘটনা আছে, যা আজও ঈমানদারদের হৃদয়ে আশার প্রদীপ জ্বালায়।
মদিনার ধনাঢ্য সাহাবি আমর ইবনে সাবিত ইবনে ওয়াকিশ যুগবাহ ইবনে জা‘ঊরা আল-আনসারী (রা.) (عمرو بن ثابت بن وقيش بن زغبة بن زعوراء الأنصاري)।
যিনি আমীর নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ইসলাম গ্রহণ করবেন কিনা এ নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। কারণ তাঁর সম্পদের মধ্যে সুদজনিত অর্থ ছিল। তার ভয় হচ্ছিল ইসলাম গ্রহণের পর যদি সম্পদ বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়।
কিন্তু উহুদের যুদ্ধের দিনে আল্লাহ তাঁর অন্তরে ঈমানের আলো প্রবেশ করান। যার ফলে তিনি ইসলাম গ্রহণে ধন্য হলেন। অতপর তিনি যখন জানতে পারলেন যে, তার কওমের লোকেরা ইসলামের জন্য যুদ্ধে গিয়েছেন। তখন তিনিও যুদ্ধের সাজে সজ্জিত হয়ে উহুদ প্রান্তের দিকে ছুটে যান।
মাত্র আজই ইসলম গ্রহণ করেছেন সে বিবেচনায় অনেকিই তাকে বিরত করার চেষ্ঠা করলেও তিনি নিজ সিদ্ধান্তে অবিচল থেকে সাহাবিদের সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে যোগ দেন এবং শাহাদাত বরণ করেন।আশ্চর্যের বিষয়, তিনি কখনো নামাজ পড়ার সুযোগ পাননি; আল্লাহর দরবারে সেজদাহও করেননি। অথচ রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর ব্যাপারে ঘোষণা দিলেন—
إِنَّهُ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّ
“সে তো জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।” (ইবনে হিশাম, আস-সীরাহ; ইবনে আব্দুল বার, আল-ইস্তীআব)
এ ঘটনা প্রমাণ করে, ঈমান যখন অন্তরে দৃঢ় হয় এবং মানুষ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেয়, তখন আল্লাহ তাঁর রহমতের দরজা খুলে দেন, যদিও বাহ্যিক আমল সম্পূর্ণ করার সুযোগ নাও আসে।
এই ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, জান্নাত কেবল বাহ্যিক আমলের ওপর নির্ভর করে না, বরং ঈমানের আন্তরিকতা ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ সমর্পণের ফলেই আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়।
আল্লাহ আমাদের সকলকে পরিপূর্ণ মুমিন হওয়ার তাওফিক দান করুন।