শীতকালে এদেশে আসা পাখিদের মধ্যে রয়েছে সোনাজঙ্গ, খুরুলে, কুনচুষী, বাতারণ, শাবাজ, জলপিপি, ল্যাঞ্জা, হরিয়াল, দুর্গা, টুনটুনি, রাজশকুন, লালবন মোরগ, তিলে ময়না, রামঘুঘু, জঙ্গি বটের, ধূসর বটের, হলদে খঞ্চনা, কুলাউ ইত্যাদি।
এ ছাড়া গ্রীষ্মকালে সুমেরুতে বাস করে এবং বাচ্চা দেয় হাঁস জাতীয় এমন পাখি শীতকালে বাংলাদেশে আসে। লাল বুকের ক্লাইক্যাসার পাখি আসে ইউরোপ থেকে।
অতিথি পাখি কেন আসে
সাধারণত শীত প্রধান দেশ থেকেই এসব পাখির আগমন ঘটে। এই সময়ে সেসব দেশে প্রচণ্ড শীত থাকায় তারা তা সহ্য করতে পারে না। আর এ জন্যই অন্য দেশে চলে আসে। সেক্ষেত্রে তারা অপেক্ষাকৃত কম শীতপ্রধান দেশে চলে যায়। তা ছাড়া এ সময়টাতে শীতপ্রধান এলাকায় খাবারেও প্রচণ্ড অভাব দেখা দেয়। কারণ শীতপ্রধান এলাকায় এ সময় তাপমাত্রা থাকে অধিকাংশ সময় শূন্যেরও বেশ নিচে। সেই সঙ্গে রয়েছে তুষারপাত। তাই কোনো গাছপালা জন্মাতেও পারে না। এসব অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে, উত্তর মেরু, সাইবেরিয়া, ইউরোপ, এশিয়ার কিছু অঞ্চল, হিমালয়ের আশপাশের কিছু অঞ্চল। আর এসব অঞ্চলের পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে চলে আসে কম ঠাণ্ডা অঞ্চলের দিকে।
বসন্তের সময় (মার্চ-এপ্রিল) শীতপ্রধান অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করে, কিছু কিছু গাছপালা জন্মাতে শুরু করে। আর এই সময়েই অতিথি পাখিরা নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। তবে এসব অতিথি পাখিরা শুধু বাংলাদেশে নয়, সারাবিশ্বেই প্রতিবছর ভ্রমণ করে।
বাংলাদেশের যেসব এলাকায় আসে অতিথি পাখি
অতিথি পাখির কলরব আর গুঞ্জনে দেশের অন্যতম উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রতিবছর মুখরিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন লেকসহ সেখানকার বিভিন্ন লেকে প্রায় ২০-২৫ প্রজাতির পাখি আসে প্রতিবছর।
জাবি ক্যাম্পাস ছাড়া মিরপুর চিড়িয়াখানার লেক, বরিশালের দুর্গাসাগর, নীলফামারীর নীলসাগর, সিরাজগঞ্জের হুরা, আর সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর এসব অতিথি পাখিদের প্রিয় অবকাশকেন্দ্র। বাংলাদেশের জলাশয়গুলোই এদের পছন্দের স্থান ও নিরাপদ আশ্রয়। বেশ কয়েক বছর ধরে নিঝুমদ্বীপ দুবলার, চরকুতুবদিয়া এলাকাতেও শীতের পাখিরা বসতি গড়েছে।
তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট
Reporter Name 























