,

1

স্মৃতির পাতায় হাটহাজারীর সূর্যমুখী

হাওর বার্তা ডেস্কঃ চট্টগ্রামের হাটহাজারীর এক একর জমি হলুদ রঙে ছেয়ে গেছে। আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ওই জমিতে চাষ করা হয়েছে সূর্যমুখী ফুলের বাগান। সম্প্রতি সূর্যমুখী ফুলের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হলে এই দৃশ্য দেখতে কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বাগানে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েই চলেছে।
প্রতিদিন বিভিন্ন উপজেলার মানুষ ঘুরতে আসেন এই হলুদ রঙের বাগানে। দর্শনার্থীদের কেউ কেউ সূর্যমুখী ফুলের বাগানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সেলফি, কেউবা স্বজনদের নিয়ে ছবি তুলেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও এলাকার লোকজন পরিবার-পরিজন নিয়ে অপরূপ বাগান দেখতে ভিড় করেন। কেউ যাতে ফুল ছিঁড়তে না পারে সেজন্য অতিরিক্ত লোক নিয়োগ করা হয়েছে।

গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন শত শত মানুষের ভিড়ে সূর্যমুখী ফুলের ক্ষতি হচ্ছে। হাটহাজারী উপজেলা ছাড়াও ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম শহর থেকেও লোকজন মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে আসেন সূর্যমুখীর বাগান দেখতে। কেউ কেউ পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব পরিবেষ্ঠিত হয়ে আসেন। লোকজনের ভিড় সামলাতে ঘাম ঝরাতে হয় গবেষণা কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মচারীদের।
সীতাকুন্ডা উপজেলা থেকে আসা মো. রুকন বলেন, ফেসবুকে ফুলের দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে ছবি তুলতে এসেছেন। কারণ উত্তর চট্টগ্রামে এমন পরিবেশ আর কোথাও নেই। শিবলী নামে অপর একজনের কথা, মাঠজুড়ে সূর্যমুখী ফুল আর কখনো দেখেননি। ছবি তুলে স্মৃতিতে ধরে রাখতে প্রিয়জনদের নিয়ে এসছেন।

আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের দায়িত্বরত একজন আনসার জানান, সূর্যমুখী গাছে ফুল ফোটার পর সেই ছবি তুলে ফেসবুকে দিলে দ্রæত ভাইরাল হয়ে যায়। আর ফেসবুকে দেখা সূর্যমুখীর বাগানকে বাস্তবে দেখার জন্য মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। এরপর থেকে কাউকে আটকানো যাচ্ছে না। জমির চারদিকে জাল দিয়ে ঘেরাও করা হলেও লোকজনের প্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছে না।
আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, দেশে তেলের ঘাটতি মেটাতে ব্যাপকভাবে সূর্যমুখী চাষের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর লক্ষ্যে বারি-৩ জাতের নতুন সূর্যমুখী ফুলের ব্যাপক আবাদে ভোজ্যতেলের ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ হবে।
দ্বিতীয়বারের মতো এবার হাটহাজারী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র বারি-৩ জাতের সূর্যমুখীর আবাদ করা হয়েছে। প্রতি একর জমিতে আবাদে এই জাতের বীজ ৫ কেজি লাগে। হাটহাজারীর মত ফরিদপুর, মেহেরপুর ও পাবনায় ডাল এবং তৈলবীজ উৎপাদন কেন্দ্রের তিনটি খামারেই এখন এই বারি-৩ জাতের সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে।

হাটহাজারী আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খলিলুর রহমান ভূঁইয়া ইনকিলাবকে বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো বীজের জন্য খামারে প্রতি বছরই কমবেশি সুর্যমূখীর চাষ করা হয়। এবার এক একর জমিতে চাষ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে ফুলে ভরে যাওয়াতে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এখন সব শ্রেণির লোকজন ছবি তোলার জন্য ভিড় করছেন। এমন দৃশ্য সবার কাছেই ভালো লাগছে। কিন্তু এক শ্রেণীর নারী-পুরুষ সূর্যমুখী গাছ দুমড়ে-মুচড়ে ভেতরে গিয়ে ছবি তুলছেন, যা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তারক্ষী দিয়েও বাগানের মাঝখানে যাওয়া ঠেকানো যাচ্ছে না।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর