ঢাকা ১২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
যমুনা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা টোল আদায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা আহ্বান লঞ্চের নির্ধারিত ভাড়া থেকেও ১০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী আমিরাতে অস্ট্রেলিয়ার ঘাঁটির কাছে হামলা আরও বিস্তৃত আকার নিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদ বিষয়ক কার্যাবলির দায়িত্বে দুই মন্ত্রী ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ঢল ঢাকাস্থ কিশোরগঞ্জ জাতীয়তাবাদী ছাত্র ফোরামের ইফতার মাহফিল, প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলমকে ফুলেল সংবর্ধনা বাবার পথে হাঁটছেন তারেক রহমান কাদের পরামর্শে সেই রিভিউ নেয় বাংলাদেশ, জানালেন মিরাজ এবারের ঈদে হানিফ সংকেতের নাটক ‘ভালোবেসে অবশেষে

টিকা উদ্ভাবন প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে : শিক্ষামন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫০:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮
  • ৩৫৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল গবেষক গবাদি প্রাণির ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধের জন্য বাংলাদেশে সঞ্চরণশীল ভাইরাস দ্বারা একটি কার্যকরী টিকা উদ্ভাবন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশনের উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্প (হেকেপ)-এর আওতায় এ গবেষণা পরিচালিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গবাদি প্রাণির ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ক্ষুরা রোগ বাংলাদেশে গবাদি প্রাণির একটি অন্যতম প্রধান সংক্রামক ব্যাধি। এ রোগের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর ১২৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়। এ রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত টিকা প্রধানত আমদানি করা হয়। এসব টিকা উৎপাদনে যে ভাইরাস ব্যবহৃত হয়, তা এদেশে বিদ্যমান ভাইরাস থেকে ভিন্ন কিংবা টিকাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ এন্টিজেন থাকে না। ফলে প্রায়শ এগুলো কাজ করে না।

তিনি বলেন, উদ্ভাবিত এই টিকা বাংলাদেশে বিদ্যমান খোরা রোগের তিন ধরনের ভাইরাসের সকল প্রকার সংক্রমণ থেকে গবাদি প্রাণিকে অত্যন্ত সফলভাবে সুরক্ষা প্রদানে সক্ষম হবে এবং এর মূল্য বাজারে প্রচলিত ভ্যাকসিনের চেয়ে অনেক কম হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সঞ্চরণশীল ভাইরাস দ্বারা টিকা উদ্ভাবন প্রাণিসম্পদ গবেষণার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ও সুরক্ষায় এ টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ট্রাইভ্যালেন্ট টিকা তৈরিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এব্ং খামারি পর্যায়ে প্রতিমাত্রা টিকা ৬০-৭০ টাকার মধ্যে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, এ গবেষণা পরিচালনার জন্য ল্যাব স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটাতে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগকে দু’টি উপ-প্রকল্পের আওতায় হেকেপ কর্তৃক মোট ১০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ১৭ জন গবেষক এই উদ্ভাবনের সাথে জড়িত ছিলেন। এ উদ্ভাবনের প্যাটেন্টের জন্য ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, হেকেপ পরিচালক ড. গৌরাঙ্গ চন্দ্র মোহান্ত, ইউজিসি’র সদস্য ড. ইউসুফ আলী মোল্লা ও ড. আক্তার হোসেন এবং ড. জাফর ইকবাল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

পরে গবেষক দলের প্রধান ড. মো. আনোয়ার হোসেন টিকা উদ্ভাবন সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের জবার দেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

যমুনা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা টোল আদায়

টিকা উদ্ভাবন প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে : শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১০:৫০:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল গবেষক গবাদি প্রাণির ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধের জন্য বাংলাদেশে সঞ্চরণশীল ভাইরাস দ্বারা একটি কার্যকরী টিকা উদ্ভাবন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশনের উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্প (হেকেপ)-এর আওতায় এ গবেষণা পরিচালিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গবাদি প্রাণির ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ক্ষুরা রোগ বাংলাদেশে গবাদি প্রাণির একটি অন্যতম প্রধান সংক্রামক ব্যাধি। এ রোগের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর ১২৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়। এ রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত টিকা প্রধানত আমদানি করা হয়। এসব টিকা উৎপাদনে যে ভাইরাস ব্যবহৃত হয়, তা এদেশে বিদ্যমান ভাইরাস থেকে ভিন্ন কিংবা টিকাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ এন্টিজেন থাকে না। ফলে প্রায়শ এগুলো কাজ করে না।

তিনি বলেন, উদ্ভাবিত এই টিকা বাংলাদেশে বিদ্যমান খোরা রোগের তিন ধরনের ভাইরাসের সকল প্রকার সংক্রমণ থেকে গবাদি প্রাণিকে অত্যন্ত সফলভাবে সুরক্ষা প্রদানে সক্ষম হবে এবং এর মূল্য বাজারে প্রচলিত ভ্যাকসিনের চেয়ে অনেক কম হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সঞ্চরণশীল ভাইরাস দ্বারা টিকা উদ্ভাবন প্রাণিসম্পদ গবেষণার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ও সুরক্ষায় এ টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ট্রাইভ্যালেন্ট টিকা তৈরিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এব্ং খামারি পর্যায়ে প্রতিমাত্রা টিকা ৬০-৭০ টাকার মধ্যে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, এ গবেষণা পরিচালনার জন্য ল্যাব স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটাতে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগকে দু’টি উপ-প্রকল্পের আওতায় হেকেপ কর্তৃক মোট ১০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ১৭ জন গবেষক এই উদ্ভাবনের সাথে জড়িত ছিলেন। এ উদ্ভাবনের প্যাটেন্টের জন্য ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, হেকেপ পরিচালক ড. গৌরাঙ্গ চন্দ্র মোহান্ত, ইউজিসি’র সদস্য ড. ইউসুফ আলী মোল্লা ও ড. আক্তার হোসেন এবং ড. জাফর ইকবাল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

পরে গবেষক দলের প্রধান ড. মো. আনোয়ার হোসেন টিকা উদ্ভাবন সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের জবার দেন।