সুপার এল নিনো এই গ্রীষ্মে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার ধরণকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে, যা তাপপ্রবাহ, হারিকেন এবং বৃষ্টিপাতকে তীব্র করবে। এনওএএ-এর ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টারের অনুমান অনুযায়ী, মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে এই ঘটনাটি ঘটার এবং অন্তত ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার ৬১ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে।
অ্যাকুওয়েদারের আবহাওয়াবিদ চ্যাড মেরিল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এল নিনো সাধারণত মধ্যপশ্চিমে এবং পশ্চিমের কিছু অংশে বৃষ্টিপাত বাড়াবে, অন্যদিকে উপসাগরীয় উপকূল থেকে পূর্ব উপকূল পর্যন্ত মাঝে মাঝে ভারী বৃষ্টিপাতসহ দীর্ঘ রুক্ষ আবহাওয়া দেখা যেতে পারে।দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের আবহাওয়াবিদ বেন নল অক্টোবর মাস পর্যন্ত প্রত্যাশিত সুপার এল নিনোর বৈশ্বিক প্রভাবগুলো তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, দুর্বল মৌসুমী বায়ুর কারণে মধ্য ও উত্তর ভারতে খরা দেখা দিতে পারে, যা কৃষিক্ষেত্রে হুমকি সৃষ্টি করবে। বছরের শেষ দিকে মধ্য আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মধ্য আমেরিকা এবং উত্তর ব্রাজিলে একই ধরনের শুষ্ক পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।
অ্যাকুওয়েদার মিডওয়েস্ট এবং মিসিসিপি উপত্যকায় আর্দ্র আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে, অন্যদিকে পশ্চিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উষ্ণতর ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে, যেখানে ভারী বর্ষণ মাঝে মাঝে সমভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এবং তীব্র বজ্রঝড় বাড়িয়ে তুলবে।
দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশ, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া জুড়ে তাপপ্রবাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুপার এল নিনো হারিকেনের পরিমাণ ও মাত্রাও বাড়িয়ে দেবে। এনওএএ-এর ম্যাথিউ রোজেনক্রান্স বলেন, এল নিনো পরিস্থিতির কারণে ক্রান্তীয় ঝড় এবং হারিকেনের সংখ্যা কমে যাবে, বিশেষ করে পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগরীয় অববাহিকায় এবং পূর্ব ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরে ঝড়ের কার্যকলাপ বৃদ্ধির পাবে।
এল নিনো এবং লা নিনা হলো এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন (ইএনএসও)-এর দুটি বিপরীত পর্যায়। এটি একটি পুনরাবৃত্তিমূলক চক্র যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর পরিবর্তিত হয়, সমুদ্রের তাপমাত্রা পরিবর্তন করে এবং বিশ্বব্যাপী বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে ব্যাঘাত ঘটায়।
লা নিনা বাণিজ্য বায়ুপ্রবাহকে শক্তিশালী করে, আটলান্টিকের উপরভাগের উষ্ণ স্রোতকে পশ্চিমে এশিয়ার দিকে ঠেলে দেয় এবং আমেরিকার পশ্চিম উপকূল বরাবর শীতল স্রোত উপরে উঠে আসে, যা প্রায়শই দক্ষিণ যুক্তরাষ্ট্রে খরা এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও কানাডায় ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা বাড়িয়ে দেয়। এটি আটলান্টিক হারিকেন মৌসুমকেও তীব্রতর করতে পারে।এল নিনো এর বিপরীত প্রভাব সৃষ্টি করে।
দুর্বল বাণিজ্য বায়ু আটলান্টিকের উষ্ণ স্রোতকে পূর্ব দিকে আমেরিকার দিকে সরে যেতে সাহায্য করে, যা জেট স্ট্রিমকে দক্ষিণে ঠেলে দেয়। এর ফলে প্রায়শই উত্তর আমেরিকা ও কানাডায় উষ্ণ ও শুষ্ক পরিস্থিতি দেখা দেয়, অন্যদিকে দক্ষিণ ও উপসাগরীয় উপকূলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত এবং বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
Reporter Name 






















