শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ‘আদুভাই’, ‘দাদুভাই’ গিয়ে আমাদের সন্তানদের ওপর ছড়ি ঘুরাক, এমনটা দেখতে চাই না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে দা-কিরিচ-কুড়াল দেখতে চাই না। খাতা এবং কলম দেখতে চাই। এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। যদি বন্ধ না করেন, মনে রাখবেন, ‘জুলাই’ শুধু ‘২৪’ সালে ছিল না, ‘জুলাই’ প্রত্যেক বছরে আছে।’
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সমাবেশে দলের আমির শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি প্রতিটি বিষয়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে। তারা হাজার চেষ্টা করলেও, ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবে না, দুর্বল আওয়ামী লীগ হতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘দুইটা ভোট হয়েছে। একটা ভোট তাদের পক্ষে গেছে, সেটি তারা মেনে নিয়েছে। আরেকটা ভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেটি তারা মানেনি। এটা লজ্জার। ৭০ শতাংশ ভোটের রায় যেদিন বাস্তবায়িত হবে, সেদিন দেশ থেকে সত্যিকার অর্থে ফ্যাসিবাদ বিদায় নেবে।’
বিএনপিকে জুলাই বিপ্লবের ‘সুবিধাভোগী’ উল্লেখ করে জামায়াত ইসলামীর বলেন, ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান না হলে, মানুষ জীবন না দিলে বিএনপি আজ ক্ষমতার তাপ উপভোগ করতে পারত না। বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা বিদেশে ছিলেন, বিপ্লবের কারণে স্বদেশে আসার সুযোগ পেয়েছেন। এই বিপ্লব না হলে তারা দেশে ফিরে আসার চিন্তা করতে পারতেন না।’
অন্যদিকে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) নেত্রকোনায় জামায়াতের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার ওপরে হামলার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘এটা কোন বাংলাদেশ? এই বাংলাদেশ কি আপনারা চেয়েছিলেন?’
সমাবেশে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ, খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান) প্রমুখ।
জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষে বক্তব্য দেন মিকদাদ হোসেন খান আকিবের বাবা দেলোয়ার হোসেন, শহীদ সৈয়দ মুনতাসীর রহমান আলিফের বাবা গাজিউর রহমান, শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান, শহীদ ফয়সাল আহমদের বাবা জাকির হোসেন, শহীদ মেহেরুন্নেসার বাবা মোশাররফ হোসেন, শহীদ জোবায়ের ওমর খানের বাবা জাহাঙ্গীর আহমেদ খান, আহত জুলাই যোদ্ধা রেসালাত বিন নাঈম, জুলাই যোদ্ধা কামরুল হাসান।
Reporter Name 
























