ঢাকা ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দস্তরখানা বিছিয়ে খাবার খাওয়া কি ঠিক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৪৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৭
  • ৩৯৬ বার

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

আপনার জিজ্ঞাসার ১৯৫৭তম পর্বে দস্তরখানা বিছিয়ে খাবার খাওয়া সুন্নত কি না, সে সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন তামীম আহমেদ। অনুলিখনে ছিলেন জহুরা সুলতানা।

প্রশ্ন : খাবার খাওয়ার সময় দস্তরখানা বিছিয়ে খাওয়া সুন্নত, বক্তব্যটি কতটা সহিহ? দয়া করে দলিলসহ জানালে উপকৃত হব। আমাদের এলাকায় কতিপয় পীরের মুরিদরা আনুমানিক এক বর্গফুটের একটি লাল রুমাল বিছিয়ে তার ওপর খাবারের প্লেট রেখে খায়, যেটাকে তারা দস্তরখানা বলে থাকে। এটা কতটা সহিহ? আসলে দস্তরখানা জিনিসটা কী?

উত্তর : এটি ফারসি শব্দ। এই শব্দের অর্থ যদি আমরা বুঝতাম তাহলেই এর মীমাংসা হয়ে যেত। শব্দের অর্থ না জানার কারণে, দস্তরখানা সম্পর্কে জ্ঞান না থাকার কারণে দস্তরখানাকে আমরা ভিন্নভাবে চিত্রায়িত করেছি। দস্তর ব্যবহার করা হয়ে থাকে মূলত খাবার জাতীয় যে জিনিসগুলো আছে সেগুলো আর খানা হলো পাত্র অর্থাৎ যে পাত্রের মধ্যে খাবার রেখে খাওয়া হয়ে থাকে সেটাকে বলা হয়ে থাকে দস্তরখানা। খাবার যদি আপনি কোনো পাত্রের মধ্যে না রেখে মাটির মধ্যে রাখেন তাহলে এই খাবারে ময়লা লেগে যায়। ময়লাসহ এই খাবার যদি আপনি খান তাহলে ফুড পয়জনিং হয়ে, ময়লাযুক্ত খাবার খেয়ে আপনি নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, কোনো সন্দেহ নেই এবং এই ধরনের খাবার ইসলাম কোনোভাবেই অনুমোদন দেয়নি। পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি এখানে পাওয়া যায়নি। আল্লাহর নবী (সা.) পাত্র ছাড়া, সাদা মাটিতে অথবা খোলা জায়গায় খেতে দিলে নবী (সা.) সেটা পছন্দ করতেন না, খেতেন না। কারণ সেখানে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু থাকতে পারে, ময়লা থাকতে পারে, আবার মাটিও মানুষের জন্য উপাদেয় নয়, হজমযোগ্য নয়। ফলে মাটিতে রাখলে সে খাবার নষ্ট খাবার, আপনি খেতে পারবেন না। আর যদি মনে করেন উপরের অংশটুকু খেলাম নিচের অংশটুকু খেলাম না তাহলে অনেক খাবার নষ্ট হয়ে যাবে। এজন্য নবী (সা.)-এর আদব ছিল, যেকোনো খাবার যদি কেউ নবীকে (সা.) পেশ করত তাহলে পাত্রের মধ্যে পেশ করত।

আলহামদুলিল্লাহ এটি এখন প্রচলিত হয়ে গেছে। বর্তমানে পৃথিবীর এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে মাটিতে এভাবে খাবার দেওয়া হয়। ময়লা আবর্জনাযুক্ত একফুট বা দেড়ফুটের লাল কাপড় বিছিয়ে তাকে দস্তরখানা নাম দিয়ে সুন্নত মনে করা, এটি সুন্নতের পরিপন্থী কাজ। রাসুল (সা.)-এর কোনো হাদিস দ্বারা এটি সাব্যস্ত হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

দস্তরখানা বিছিয়ে খাবার খাওয়া কি ঠিক

আপডেট টাইম : ০২:৪৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৭

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

আপনার জিজ্ঞাসার ১৯৫৭তম পর্বে দস্তরখানা বিছিয়ে খাবার খাওয়া সুন্নত কি না, সে সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন তামীম আহমেদ। অনুলিখনে ছিলেন জহুরা সুলতানা।

প্রশ্ন : খাবার খাওয়ার সময় দস্তরখানা বিছিয়ে খাওয়া সুন্নত, বক্তব্যটি কতটা সহিহ? দয়া করে দলিলসহ জানালে উপকৃত হব। আমাদের এলাকায় কতিপয় পীরের মুরিদরা আনুমানিক এক বর্গফুটের একটি লাল রুমাল বিছিয়ে তার ওপর খাবারের প্লেট রেখে খায়, যেটাকে তারা দস্তরখানা বলে থাকে। এটা কতটা সহিহ? আসলে দস্তরখানা জিনিসটা কী?

উত্তর : এটি ফারসি শব্দ। এই শব্দের অর্থ যদি আমরা বুঝতাম তাহলেই এর মীমাংসা হয়ে যেত। শব্দের অর্থ না জানার কারণে, দস্তরখানা সম্পর্কে জ্ঞান না থাকার কারণে দস্তরখানাকে আমরা ভিন্নভাবে চিত্রায়িত করেছি। দস্তর ব্যবহার করা হয়ে থাকে মূলত খাবার জাতীয় যে জিনিসগুলো আছে সেগুলো আর খানা হলো পাত্র অর্থাৎ যে পাত্রের মধ্যে খাবার রেখে খাওয়া হয়ে থাকে সেটাকে বলা হয়ে থাকে দস্তরখানা। খাবার যদি আপনি কোনো পাত্রের মধ্যে না রেখে মাটির মধ্যে রাখেন তাহলে এই খাবারে ময়লা লেগে যায়। ময়লাসহ এই খাবার যদি আপনি খান তাহলে ফুড পয়জনিং হয়ে, ময়লাযুক্ত খাবার খেয়ে আপনি নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, কোনো সন্দেহ নেই এবং এই ধরনের খাবার ইসলাম কোনোভাবেই অনুমোদন দেয়নি। পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি এখানে পাওয়া যায়নি। আল্লাহর নবী (সা.) পাত্র ছাড়া, সাদা মাটিতে অথবা খোলা জায়গায় খেতে দিলে নবী (সা.) সেটা পছন্দ করতেন না, খেতেন না। কারণ সেখানে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু থাকতে পারে, ময়লা থাকতে পারে, আবার মাটিও মানুষের জন্য উপাদেয় নয়, হজমযোগ্য নয়। ফলে মাটিতে রাখলে সে খাবার নষ্ট খাবার, আপনি খেতে পারবেন না। আর যদি মনে করেন উপরের অংশটুকু খেলাম নিচের অংশটুকু খেলাম না তাহলে অনেক খাবার নষ্ট হয়ে যাবে। এজন্য নবী (সা.)-এর আদব ছিল, যেকোনো খাবার যদি কেউ নবীকে (সা.) পেশ করত তাহলে পাত্রের মধ্যে পেশ করত।

আলহামদুলিল্লাহ এটি এখন প্রচলিত হয়ে গেছে। বর্তমানে পৃথিবীর এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে মাটিতে এভাবে খাবার দেওয়া হয়। ময়লা আবর্জনাযুক্ত একফুট বা দেড়ফুটের লাল কাপড় বিছিয়ে তাকে দস্তরখানা নাম দিয়ে সুন্নত মনে করা, এটি সুন্নতের পরিপন্থী কাজ। রাসুল (সা.)-এর কোনো হাদিস দ্বারা এটি সাব্যস্ত হয়নি।