ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এআই শেয়ারবাজারে ধস, কেন এই আতঙ্ক ১০ রোগের উপশম হয় যে পাতা খেলে প্রাসঙ্গিকতায় ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ, টানা ছুটির সুযোগ কত দিন বিএনপি একাত্তর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শহীদ জিয়ার নেতৃত্বেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা হয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসিনাকে হ্যান্ডকাফ পরেই দেশে আসতে হবে: প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের দশম শ্রেণির ছাত্রী যুথি হত্যায় সাবেক প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩ প্রশিক্ষণ নিতে পাকিস্তানে যাচ্ছেন সরকারের ৩৫ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশের ভেতরে-বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এআই শেয়ারবাজারে ধস, কেন এই আতঙ্ক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ঘিরে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগের যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা কি শেষ হতে চলেছে? নাকি বাজারের অতিরিক্ত প্রত্যাশার বিপরীতে বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা? মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বিশ্ব পুঁজিবাজারে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বড় দরপতনে এমন প্রশ্নই সামনে এসেছে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির জন্য পরিচিত নাসডাকে।

অ্যালফাবেট, এনভিডিয়া, মেটা ও অ্যাপলের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কমে যায়। এর পেছনে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় এবং কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দলটির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচনী প্রচারে ডেমোক্র্যাটদের অনেক নেতা দ্রুতগতিতে ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের বিরোধিতা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব স্থাপনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারের কারণে সাধারণ মানুষের ব্যয় বাড়বে। পাশাপাশি শব্দদূষণ, জমির ব্যবহার ও স্থানীয় পরিবেশের ওপরও চাপ তৈরি হবে। ফলে এআই খাতে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

২০২২ সালের শেষ দিকে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি উন্মুক্ত হওয়ার পর এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। চিপ নির্মাতা, ডেটা সেন্টার, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিপুল অর্থ ঢালতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। গোল্ডম্যান স্যাকসের গবেষণা অনুযায়ী, শুধু ২০২৬ সালেই এআই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ১ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।

তবে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে। এআইয়ের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ডেটা সেন্টার নির্মাণে জনমতের বিরোধিতার বিষয়টিও নির্বাচনে গুরুত্ব পেয়েছে। মে মাসে প্রকাশিত গ্যালাপের এক জরিপে দেখা যায়, ৭১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক নিজেদের এলাকায় ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধী। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করেন ৫৩ শতাংশ।

নির্বাচনের পর কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রযুক্তি নীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে। টেক্সাসের নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট গভর্নর জিনা হিনোজোসা নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজারের এই পতন এআই খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত। তবে এটিই এআই খাতের বুদবুদ ফেটে যাওয়ার লক্ষণ, নাকি অতিমূল্যায়িত শেয়ারের স্বাভাবিক সংশোধন- তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

আপাতত বিনিয়োগকারীরা শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি ও মুনাফার সম্ভাবনা রয়েছে এমন কোম্পানিগুলোর দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। সূত্র: বিবিসি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এআই শেয়ারবাজারে ধস, কেন এই আতঙ্ক

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এআই শেয়ারবাজারে ধস, কেন এই আতঙ্ক

আপডেট টাইম : ১১:৩১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ঘিরে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগের যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা কি শেষ হতে চলেছে? নাকি বাজারের অতিরিক্ত প্রত্যাশার বিপরীতে বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা? মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বিশ্ব পুঁজিবাজারে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বড় দরপতনে এমন প্রশ্নই সামনে এসেছে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির জন্য পরিচিত নাসডাকে।

অ্যালফাবেট, এনভিডিয়া, মেটা ও অ্যাপলের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কমে যায়। এর পেছনে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় এবং কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দলটির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচনী প্রচারে ডেমোক্র্যাটদের অনেক নেতা দ্রুতগতিতে ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের বিরোধিতা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব স্থাপনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারের কারণে সাধারণ মানুষের ব্যয় বাড়বে। পাশাপাশি শব্দদূষণ, জমির ব্যবহার ও স্থানীয় পরিবেশের ওপরও চাপ তৈরি হবে। ফলে এআই খাতে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

২০২২ সালের শেষ দিকে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি উন্মুক্ত হওয়ার পর এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। চিপ নির্মাতা, ডেটা সেন্টার, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিপুল অর্থ ঢালতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। গোল্ডম্যান স্যাকসের গবেষণা অনুযায়ী, শুধু ২০২৬ সালেই এআই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ১ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।

তবে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে। এআইয়ের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ডেটা সেন্টার নির্মাণে জনমতের বিরোধিতার বিষয়টিও নির্বাচনে গুরুত্ব পেয়েছে। মে মাসে প্রকাশিত গ্যালাপের এক জরিপে দেখা যায়, ৭১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক নিজেদের এলাকায় ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধী। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করেন ৫৩ শতাংশ।

নির্বাচনের পর কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রযুক্তি নীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে। টেক্সাসের নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট গভর্নর জিনা হিনোজোসা নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজারের এই পতন এআই খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত। তবে এটিই এআই খাতের বুদবুদ ফেটে যাওয়ার লক্ষণ, নাকি অতিমূল্যায়িত শেয়ারের স্বাভাবিক সংশোধন- তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

আপাতত বিনিয়োগকারীরা শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি ও মুনাফার সম্ভাবনা রয়েছে এমন কোম্পানিগুলোর দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। সূত্র: বিবিসি