ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
খাদ্য গুদাম পরিদর্শনে গিয়ে দায়িত্ব হারালেন খাদ্যমন্ত্রীর এপিএস শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল খালেক পেলেন সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা ‘ফ্যামিলি কার্ড ও বিনামূল্যে শিক্ষার মতো উদ্যোগ নারীদের সম্ভাবনা ও সুযোগ বাড়াচ্ছে’ সৌদি আরবে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বললো দূতাবাস অন্যের প্রশংসার ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা আচরণে যেন ফ্যাসিবাদের কোনো ছাপ না থাকে—নেতাকর্মীদের রিজভী পুলিশের দুই দিনের কঠোর দমনপীড়নের পরও রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের নেতৃত্বে উত্তাল দিল্লি ধর্মের ভিত্তিতে নয়, মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করব: প্রধানমন্ত্রী এইচএসসির ফল ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ন্যাশনালকে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক

জুলাই-আগস্টে ব্যাংক থেকে সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিল সরকার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৫৪:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭৫ বার
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে ব্যাংক খাত থেকে ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা।

ফলে আগের অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বেড়েছে ৪১০ শতাংশ।তবে এ সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বাড়লেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া ধার পরিশোধ করেছে সরকার।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, সরকার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে পারছে না। তাই পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া বেড়েছে।

আগে থেকেই দেশের বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের চাহিদা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। এ জন্য ঋণ নেওয়া বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা ঋণ নিলেও এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ৩ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। ফলে এই দুই মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে মোট ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সে হিসাবে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ ঋণ নিয়েছে সরকার।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে নেমে গেছে।

ফলে সরকার ঋণ নেওয়ায় আপাতত কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে সরকারের ঋণের সুদের হার কমে আসায় ব্যাংকগুলোর আয় কমে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে আমানতের সুদহারের নিচে নেমে এসেছে সরকারের ঋণের সুদহার।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ আগস্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সরকারের নেওয়া ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮ হাজার ২৫ কোটি টাকা, যা গত জুনের শেষে ছিল ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের স্থিতি কমে হয়েছে ৯০ হাজার ৩২২ কোটি টাকা, যা গত জুনে ছিল ৯৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা।

এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। আগে প্রতি মাসে ভ্যাট জমা দিতে হতো। প্রতি তিন মাস পর জমা দেওয়ার নতুন নিয়ম করায় ভ্যাট আদায় কমে গেছে। এখন আবার মাসভিত্তিক ভ্যাট জমার নিয়ম করতে যাচ্ছে সরকার।

সরকার পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে থাকে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

খাদ্য গুদাম পরিদর্শনে গিয়ে দায়িত্ব হারালেন খাদ্যমন্ত্রীর এপিএস

জুলাই-আগস্টে ব্যাংক থেকে সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিল সরকার

আপডেট টাইম : ১২:৫৪:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে ব্যাংক খাত থেকে ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা।

ফলে আগের অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বেড়েছে ৪১০ শতাংশ।তবে এ সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বাড়লেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া ধার পরিশোধ করেছে সরকার।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, সরকার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে পারছে না। তাই পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া বেড়েছে।

আগে থেকেই দেশের বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের চাহিদা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। এ জন্য ঋণ নেওয়া বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা ঋণ নিলেও এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ৩ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। ফলে এই দুই মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে মোট ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সে হিসাবে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ ঋণ নিয়েছে সরকার।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে নেমে গেছে।

ফলে সরকার ঋণ নেওয়ায় আপাতত কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে সরকারের ঋণের সুদের হার কমে আসায় ব্যাংকগুলোর আয় কমে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে আমানতের সুদহারের নিচে নেমে এসেছে সরকারের ঋণের সুদহার।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ আগস্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সরকারের নেওয়া ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮ হাজার ২৫ কোটি টাকা, যা গত জুনের শেষে ছিল ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের স্থিতি কমে হয়েছে ৯০ হাজার ৩২২ কোটি টাকা, যা গত জুনে ছিল ৯৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা।

এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। আগে প্রতি মাসে ভ্যাট জমা দিতে হতো। প্রতি তিন মাস পর জমা দেওয়ার নতুন নিয়ম করায় ভ্যাট আদায় কমে গেছে। এখন আবার মাসভিত্তিক ভ্যাট জমার নিয়ম করতে যাচ্ছে সরকার।

সরকার পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে থাকে।