ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
এক কমলাগাছ থেকে ফারুকের কৃষি সাম্রাজ্য কুমিল্লায় যুবদল নেতা হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের ৭ দিনের রিমান্ড মসলিনের টেকসই উৎপাদন ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হবে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন মানবতার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত : জুবাইদা রহমান বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক যে সম্প্রীতি রয়েছে, তা বিশ্বের আর কোথাও নেই: রাষ্ট্রপতি ফোনের র‍্যাম বাড়াতে যা করবেন নতুন পে-স্কেলে কত টাকা বকেয়া পাবেন, হিসাব করবেন যেভাবে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ’ খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন সচিব পদে বড় রদবদল, পদোন্নতি, সংযুক্তি বাংলাদেশের ফুটবলকে পরের ধাপে নিতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে ফিফা

নতুন পে-স্কেলে কত টাকা বকেয়া পাবেন, হিসাব করবেন যেভাবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৪ বার

নবম পে-স্কেল ২০২৬ কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীরা কত টাকা বকেয়া পাবেন, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে অনেকের। নতুন মূল বেতন, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক হিসাব মিলিয়ে সম্ভাব্য বকেয়ার পরিমাণ জানতে ব্যবহার করা যেতে পারে বিশেষ এইচটিএমএল পে-স্কেল বকেয়া ক্যালকুলেটর।

এ ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে চাকরিজীবীরা নিজেদের বেতনসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে নতুন মূল বেতন, মাসিক বেতনের পার্থক্য, বাড়িভাড়ার সমন্বয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের সম্ভাব্য বকেয়ার হিসাব বের করতে পারবেন। মোবাইল বা কম্পিউটারে ফাইলটি খুলে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই এটি ব্যবহার করা যাবে।

ক্যালকুলেটর ব্যবহারের নিয়ম

১. ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন

প্রথমে ক্যালকুলেটরের নির্ধারিত ঘরে নিজের নাম, পদবি ও অফিসের নাম লিখুন। এ তথ্যগুলো ঐচ্ছিক। এগুলো ফাঁকা রাখলেও বকেয়ার হিসাবের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।

২. গ্রেড নির্বাচন করুন

২০১৫ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৩০ জুনে আপনার জন্য প্রযোজ্য গ্রেড নির্বাচন করুন।

৩. পুরোনো মূল বেতন লিখুন

পে-স্লিপ দেখে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতনের পরিমাণ দিন। তালিকায় বেতনের অঙ্ক না থাকলে ‘অন্য অঙ্ক লিখব’ অপশন নির্বাচন করে নিজেই লিখতে পারবেন।

৪. ১ জুলাইয়ের মূল বেতন দিন

১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ পুরোনো বেতন স্কেলে নির্ধারিত মূল বেতনের পরিমাণ লিখুন।

৫. কর্মস্থল নির্বাচন করুন

আপনার কর্মস্থল নির্বাচন করলে বাড়িভাড়ার হার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হবে। প্রয়োজনে পে-স্লিপের তথ্য অনুযায়ী তা সংশোধন করতে পারবেন।

৬. বকেয়ার মাস নির্ধারণ করুন

কত মাসের বকেয়া হিসাব করতে চান, তা নির্বাচন করুন। সাধারণত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের হিসাব প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময়সীমা পরিবর্তন করা যায়।

৭. ইনক্রিমেন্টের তথ্য যাচাই করুন

ক্যালকুলেটরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ ছয় মাস পূর্ণ না হলে ইনক্রিমেন্টের টিক চিহ্নটি তুলে দিন।

৮. ঐচ্ছিক তথ্য সংশোধন করুন

পে-স্লিপে উল্লেখিত বাড়িভাড়া বা বিশেষ সুবিধার অঙ্ক ক্যালকুলেটরের হিসাবের সঙ্গে ভিন্ন হলে প্রকৃত অঙ্কটি বসাতে পারবেন। আইবাস++ বা সরকারি গেজেট থেকে নতুন মূল বেতনের পরিমাণ জানা থাকলে সেটিও নির্ধারিত ঘরে দিয়ে হিসাব যাচাই করতে পারবেন।

ক্যালকুলেটরে যেসব হিসাব দেখা যাবে

প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর ক্যালকুলেটর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্ভাব্য বকেয়ার বিবরণী তৈরি করবে। এতে দেখা যাবে—

১. নতুন মূল বেতনের হিসাব।

২. পুরোনো ও নতুন বেতনের মাসিক পার্থক্য।

৩. বাড়িভাড়ার সমন্বয়।

৪. বিশেষ সুবিধাসংক্রান্ত হিসাব।

৫. মাসভিত্তিক বকেয়া এবং সব মিলিয়ে মোট সম্ভাব্য বকেয়া।

ক্যালকুলেটরের নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রেড ১০ থেকে ২০-এর ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ এবং গ্রেড ১ থেকে ৯-এর ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির ভিত্তিতে নতুন মূল বেতনের প্রাথমিক হিসাব দেখানো হবে। এ ছাড়া বিলুপ্ত বিশেষ সুবিধা ১০ বা ১৫ শতাংশ বাদ দিয়ে হিসাব সমন্বয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।

তবে এসব হার ও হিসাবের পদ্ধতি চূড়ান্ত সরকারি বেতন নির্ধারণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা সংশ্লিষ্ট গেজেট ও সরকারি নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা জরুরি।

বকেয়ার হিসাব প্রিন্ট বা পিডিএফ করবেন যেভাবে

১. হিসাব সম্পন্ন হওয়ার পর ‘বিবরণী প্রিন্ট করুন’ বোতামে ক্লিক করুন।

২. প্রিন্ট অপশন থেকে এ৪ আকারের কাগজে বিবরণী প্রিন্ট করুন।

৩. পিডিএফ হিসেবে সংরক্ষণ করতে চাইলে প্রিন্ট অপশনে ‘Save as PDF’ নির্বাচন করুন।

হিসাবের আগে সতর্কতা

ক্যালকুলেটরের ‘স্কেল টেবিল’ অংশের তথ্য সরকারি গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬-এর তথ্যের সঙ্গে বেতন কাঠামোর সামঞ্জস্য যাচাই করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ক্যালকুলেটরে পাওয়া অঙ্ক সম্ভাব্য হিসাবমাত্র। প্রকৃত বকেয়া নির্ভর করবে কার্যকর সরকারি বেতন কাঠামো, অনুমোদিত বেতন নির্ধারণ, প্রযোজ্য ভাতা, ইনক্রিমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনার ওপর। তাই চূড়ান্ত হিসাবের জন্য সরকারি গেজেট ও নিজস্ব পে-স্লিপের তথ্য যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

এক কমলাগাছ থেকে ফারুকের কৃষি সাম্রাজ্য

নতুন পে-স্কেলে কত টাকা বকেয়া পাবেন, হিসাব করবেন যেভাবে

আপডেট টাইম : ১১:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

নবম পে-স্কেল ২০২৬ কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীরা কত টাকা বকেয়া পাবেন, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে অনেকের। নতুন মূল বেতন, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক হিসাব মিলিয়ে সম্ভাব্য বকেয়ার পরিমাণ জানতে ব্যবহার করা যেতে পারে বিশেষ এইচটিএমএল পে-স্কেল বকেয়া ক্যালকুলেটর।

এ ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে চাকরিজীবীরা নিজেদের বেতনসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে নতুন মূল বেতন, মাসিক বেতনের পার্থক্য, বাড়িভাড়ার সমন্বয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের সম্ভাব্য বকেয়ার হিসাব বের করতে পারবেন। মোবাইল বা কম্পিউটারে ফাইলটি খুলে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই এটি ব্যবহার করা যাবে।

ক্যালকুলেটর ব্যবহারের নিয়ম

১. ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন

প্রথমে ক্যালকুলেটরের নির্ধারিত ঘরে নিজের নাম, পদবি ও অফিসের নাম লিখুন। এ তথ্যগুলো ঐচ্ছিক। এগুলো ফাঁকা রাখলেও বকেয়ার হিসাবের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।

২. গ্রেড নির্বাচন করুন

২০১৫ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৩০ জুনে আপনার জন্য প্রযোজ্য গ্রেড নির্বাচন করুন।

৩. পুরোনো মূল বেতন লিখুন

পে-স্লিপ দেখে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতনের পরিমাণ দিন। তালিকায় বেতনের অঙ্ক না থাকলে ‘অন্য অঙ্ক লিখব’ অপশন নির্বাচন করে নিজেই লিখতে পারবেন।

৪. ১ জুলাইয়ের মূল বেতন দিন

১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ পুরোনো বেতন স্কেলে নির্ধারিত মূল বেতনের পরিমাণ লিখুন।

৫. কর্মস্থল নির্বাচন করুন

আপনার কর্মস্থল নির্বাচন করলে বাড়িভাড়ার হার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হবে। প্রয়োজনে পে-স্লিপের তথ্য অনুযায়ী তা সংশোধন করতে পারবেন।

৬. বকেয়ার মাস নির্ধারণ করুন

কত মাসের বকেয়া হিসাব করতে চান, তা নির্বাচন করুন। সাধারণত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের হিসাব প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময়সীমা পরিবর্তন করা যায়।

৭. ইনক্রিমেন্টের তথ্য যাচাই করুন

ক্যালকুলেটরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ ছয় মাস পূর্ণ না হলে ইনক্রিমেন্টের টিক চিহ্নটি তুলে দিন।

৮. ঐচ্ছিক তথ্য সংশোধন করুন

পে-স্লিপে উল্লেখিত বাড়িভাড়া বা বিশেষ সুবিধার অঙ্ক ক্যালকুলেটরের হিসাবের সঙ্গে ভিন্ন হলে প্রকৃত অঙ্কটি বসাতে পারবেন। আইবাস++ বা সরকারি গেজেট থেকে নতুন মূল বেতনের পরিমাণ জানা থাকলে সেটিও নির্ধারিত ঘরে দিয়ে হিসাব যাচাই করতে পারবেন।

ক্যালকুলেটরে যেসব হিসাব দেখা যাবে

প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর ক্যালকুলেটর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্ভাব্য বকেয়ার বিবরণী তৈরি করবে। এতে দেখা যাবে—

১. নতুন মূল বেতনের হিসাব।

২. পুরোনো ও নতুন বেতনের মাসিক পার্থক্য।

৩. বাড়িভাড়ার সমন্বয়।

৪. বিশেষ সুবিধাসংক্রান্ত হিসাব।

৫. মাসভিত্তিক বকেয়া এবং সব মিলিয়ে মোট সম্ভাব্য বকেয়া।

ক্যালকুলেটরের নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রেড ১০ থেকে ২০-এর ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ এবং গ্রেড ১ থেকে ৯-এর ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির ভিত্তিতে নতুন মূল বেতনের প্রাথমিক হিসাব দেখানো হবে। এ ছাড়া বিলুপ্ত বিশেষ সুবিধা ১০ বা ১৫ শতাংশ বাদ দিয়ে হিসাব সমন্বয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।

তবে এসব হার ও হিসাবের পদ্ধতি চূড়ান্ত সরকারি বেতন নির্ধারণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা সংশ্লিষ্ট গেজেট ও সরকারি নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা জরুরি।

বকেয়ার হিসাব প্রিন্ট বা পিডিএফ করবেন যেভাবে

১. হিসাব সম্পন্ন হওয়ার পর ‘বিবরণী প্রিন্ট করুন’ বোতামে ক্লিক করুন।

২. প্রিন্ট অপশন থেকে এ৪ আকারের কাগজে বিবরণী প্রিন্ট করুন।

৩. পিডিএফ হিসেবে সংরক্ষণ করতে চাইলে প্রিন্ট অপশনে ‘Save as PDF’ নির্বাচন করুন।

হিসাবের আগে সতর্কতা

ক্যালকুলেটরের ‘স্কেল টেবিল’ অংশের তথ্য সরকারি গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬-এর তথ্যের সঙ্গে বেতন কাঠামোর সামঞ্জস্য যাচাই করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ক্যালকুলেটরে পাওয়া অঙ্ক সম্ভাব্য হিসাবমাত্র। প্রকৃত বকেয়া নির্ভর করবে কার্যকর সরকারি বেতন কাঠামো, অনুমোদিত বেতন নির্ধারণ, প্রযোজ্য ভাতা, ইনক্রিমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনার ওপর। তাই চূড়ান্ত হিসাবের জন্য সরকারি গেজেট ও নিজস্ব পে-স্লিপের তথ্য যাচাই করে নেওয়া জরুরি।