ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষক কার্ড পাবেন ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক, মিলবে ১০ ধরনের সেবা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ বার

দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে আগামী চার বছরে কৃষক কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের নিবন্ধন, আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং কৃষি উপকরণ ও সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলায় ১৪ হাজার ১৮০টি কৃষি ব্লককে কেন্দ্র করে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন কৃষি ব্লকে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যাংক হিসাব খোলার কাজ চলছে।

গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এর আগে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় আট বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হয়।

গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় এ প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়।

অক্টোবরে সম্প্রসারিত কার্যক্রমের আওতায় নির্বাচিত ৭৭টি কৃষি ব্লকে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক রয়েছেন। এসব এলাকায় কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্প।

প্রকল্পটির ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মো. রাকিবুজ্জামান খান বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ, চাহিদা নিরূপণ ও কৃষির আধুনিকায়নে সহায়তার জন্য প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ চলছে। কৃষকের চাহিদা ঋতুভেদে পরিবর্তিত হওয়ায় কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে উঠলে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ও কার্যকর করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এ জন্য তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা ও পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কাজ সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা ও কৃষি উপকরণ পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ১০ ধরনের সেবা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ, সেচ, সার, বীজ, প্রণোদনা, কৃষিবিমা, আবহাওয়ার তথ্য ও বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শসহ বিভিন্ন সুবিধা।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকার ও রাষ্ট্র যে তাদের পাশে রয়েছে, সেই বার্তাও তুলে ধরা হবে বলে জানান কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষক কার্ড পাবেন ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক, মিলবে ১০ ধরনের সেবা

আপডেট টাইম : ১২:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে আগামী চার বছরে কৃষক কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের নিবন্ধন, আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং কৃষি উপকরণ ও সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলায় ১৪ হাজার ১৮০টি কৃষি ব্লককে কেন্দ্র করে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন কৃষি ব্লকে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যাংক হিসাব খোলার কাজ চলছে।

গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এর আগে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় আট বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হয়।

গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় এ প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়।

অক্টোবরে সম্প্রসারিত কার্যক্রমের আওতায় নির্বাচিত ৭৭টি কৃষি ব্লকে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেলার ছয়টি উপজেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক রয়েছেন। এসব এলাকায় কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্প।

প্রকল্পটির ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মো. রাকিবুজ্জামান খান বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ, চাহিদা নিরূপণ ও কৃষির আধুনিকায়নে সহায়তার জন্য প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ চলছে। কৃষকের চাহিদা ঋতুভেদে পরিবর্তিত হওয়ায় কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে উঠলে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ও কার্যকর করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এ জন্য তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা ও পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কাজ সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা ও কৃষি উপকরণ পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ১০ ধরনের সেবা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ, সেচ, সার, বীজ, প্রণোদনা, কৃষিবিমা, আবহাওয়ার তথ্য ও বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শসহ বিভিন্ন সুবিধা।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকার ও রাষ্ট্র যে তাদের পাশে রয়েছে, সেই বার্তাও তুলে ধরা হবে বলে জানান কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব।