ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

ফ্রান্স থেকে স্পেন : ইউরোপজুড়ে কেন আন্দোলনে নেমেছে জেন-জি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৩ বার

সম্প্রতি ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, বেলজিয়াম, আলবেনিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের তরুণ প্রজন্ম বা `জেন-জি’ ব্যাপক মাত্রায় আন্দোলেন শুরু করেছে। তাদের এ আন্দোলন রীতিমতো উদ্বিগ্ন করে তুলেছে এসব দেশের শাসক ও অভিজাত গোষ্ঠীকে।

ক্রমবর্ধমান বাড়িভাড়া, স্কুলের দুর্বল অবকাঠামো, কর্মসংস্থানের অভাব এবং জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের মতো ইস্যুতে ইউরোপের দেশগুলোতে জেন-জিরা বিক্ষোভ করছে। তাদের এই বিক্ষোভ ইতোমধ্যে ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, গ্রিস ও পর্তুগালের সরকারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তরুণ প্রজন্ম নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং সরকারের কাছ থেকে আরও বেশি সহায়তা দাবি করছে।

দেশে দেশে ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। স্পেনে, মারিকারমেন আবাস্কাল নামে ৮৭ বছর বয়সী এক নারীকে তার বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার ঘটনার প্রতিবাদে তরুণ-তরুণীরা রাস্তায় নেমেছেন। ফ্রান্সে, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। আলবেনিয়ায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।

অনেক তরুণ-তরুণী মনে করেন, তাদের বাবা-মায়ের প্রজন্মের তুলনায় বর্তমানে বাড়ি কেনা বা ভাড়া নেওয়া, ভালো শিক্ষা অর্জন করা এবং একটি স্থিতিশীল চাকরি পাওয়া অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফ্রান্সের প্রধান ছাত্র সংগঠন ‘ইউএনইএফ’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালিস ডি ব্রিটো মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, “আমি এখানে পার্থক্যের চেয়ে মিলই বেশি দেখছি। আমরা সবাই শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সামগ্রিকভাবে তরুণ প্রজন্মের জন্য বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলছি। একই সঙ্গে আমরা জীবনযাত্রার ব্যয় এবং আবাসন সমস্যা নিয়েও আলোচনা করছি।”

পরিবর্তনশীল শ্রমবাজার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো নিয়েও তরুণ প্রজন্ম উদ্বিগ্ন।

বেলজিয়ামভিত্তিক দৈনিক ‘ইউরোপিয়ান করেসপন্ডেন্ট’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক জুলিয়াস ফিনটেলম্যান বলেন, এসব প্রতিবাদ প্রমাণ করে যে তরুণরা তাদের সরকারের ওপর হতাশ। তিনি বলেন, “তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এমন একটি অনুভূতি তৈরি হয়েছে যে, ইউরোপের রাজনীতি পরবর্তী প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে।”

ফ্রান্সে উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবি জানানো, শিক্ষকদের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা কিংবা স্কুলের দুর্বল অবকাঠামোর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ নতুন কিছু নয়; তারা গত নয় বছর ধরেই এ নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীনেতা ব্রিটো সিএনএন-কে বলেন, “মানুষ উত্তরের অপেক্ষায় বসে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।”

ইতালির রোমে শিক্ষার্থীরা বলছেন, আবাসন খরচের কারণে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। রোমের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এলিসা পাস্তোরে সিএনএন-কে জানান, তিনি ও তার ভাই মিলে যে কক্ষে থাকেন, সেটির ভাড়া জোগাড় করতেই তাদের হিমশিম খেতে হয়। একই ইস্যুতে পর্তুগালেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে; সেখানে হাজার হাজার মানুষ লিসবনে জড়ো হয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসনের দাবি জানিয়েছেন।

ইতালি ও গ্রিসের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরাও উন্নত বিদ্যালয়, বিনামূল্যে সরকারি শিক্ষা এবং জনসেবামূলক খাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের অনেকে স্লোগান দিয়েছেন, “গ্রিস থেকে ফ্রান্স—আমরা চাই সবার জন্য উন্মুক্ত ও বিনামূল্যে শিক্ষা।”

আলবেনিয়ায় গত সপ্তাহে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিলে প্রধানমন্ত্রী এদি রামা পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন এবং এই অস্থিরতার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দায়ী করেন।

একজন বিক্ষোভকারী রয়টার্সকে বলেন, “আমরা পরিবর্তন চাই, আর সে কারণেই আমরা এখানে এসেছি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা বিপ্লব চাই, আমরা নতুন সরকার চাই। আমরা কোনো আলোচনার পথে যেতে চাই না; আমাদের যত দ্রুত সম্ভব একটি নতুন সরকার প্রয়োজন।”

জার্মানিতে ‘জেন জেড রেগেল্ট’, যার অর্থ ‘জেন-জি সব সামলে নেবে’ নামে একটি গোষ্ঠী ৩১ অক্টোবর দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। স্পেনের ট্রেড ইউনিয়নগুলো ১১ নভেম্বর সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এদিকে, ব্রিটেন ও ইতালির ছাত্র সংগঠনগুলো শিক্ষার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে ২০ নভেম্বর একটি কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করছে।

সূত্র : সিএনএন, এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন

ফ্রান্স থেকে স্পেন : ইউরোপজুড়ে কেন আন্দোলনে নেমেছে জেন-জি

আপডেট টাইম : ১১:৫৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সম্প্রতি ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, বেলজিয়াম, আলবেনিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের তরুণ প্রজন্ম বা `জেন-জি’ ব্যাপক মাত্রায় আন্দোলেন শুরু করেছে। তাদের এ আন্দোলন রীতিমতো উদ্বিগ্ন করে তুলেছে এসব দেশের শাসক ও অভিজাত গোষ্ঠীকে।

ক্রমবর্ধমান বাড়িভাড়া, স্কুলের দুর্বল অবকাঠামো, কর্মসংস্থানের অভাব এবং জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের মতো ইস্যুতে ইউরোপের দেশগুলোতে জেন-জিরা বিক্ষোভ করছে। তাদের এই বিক্ষোভ ইতোমধ্যে ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, গ্রিস ও পর্তুগালের সরকারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তরুণ প্রজন্ম নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং সরকারের কাছ থেকে আরও বেশি সহায়তা দাবি করছে।

দেশে দেশে ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। স্পেনে, মারিকারমেন আবাস্কাল নামে ৮৭ বছর বয়সী এক নারীকে তার বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার ঘটনার প্রতিবাদে তরুণ-তরুণীরা রাস্তায় নেমেছেন। ফ্রান্সে, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। আলবেনিয়ায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।

অনেক তরুণ-তরুণী মনে করেন, তাদের বাবা-মায়ের প্রজন্মের তুলনায় বর্তমানে বাড়ি কেনা বা ভাড়া নেওয়া, ভালো শিক্ষা অর্জন করা এবং একটি স্থিতিশীল চাকরি পাওয়া অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফ্রান্সের প্রধান ছাত্র সংগঠন ‘ইউএনইএফ’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালিস ডি ব্রিটো মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, “আমি এখানে পার্থক্যের চেয়ে মিলই বেশি দেখছি। আমরা সবাই শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সামগ্রিকভাবে তরুণ প্রজন্মের জন্য বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলছি। একই সঙ্গে আমরা জীবনযাত্রার ব্যয় এবং আবাসন সমস্যা নিয়েও আলোচনা করছি।”

পরিবর্তনশীল শ্রমবাজার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো নিয়েও তরুণ প্রজন্ম উদ্বিগ্ন।

বেলজিয়ামভিত্তিক দৈনিক ‘ইউরোপিয়ান করেসপন্ডেন্ট’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক জুলিয়াস ফিনটেলম্যান বলেন, এসব প্রতিবাদ প্রমাণ করে যে তরুণরা তাদের সরকারের ওপর হতাশ। তিনি বলেন, “তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এমন একটি অনুভূতি তৈরি হয়েছে যে, ইউরোপের রাজনীতি পরবর্তী প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে।”

ফ্রান্সে উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবি জানানো, শিক্ষকদের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা কিংবা স্কুলের দুর্বল অবকাঠামোর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ নতুন কিছু নয়; তারা গত নয় বছর ধরেই এ নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীনেতা ব্রিটো সিএনএন-কে বলেন, “মানুষ উত্তরের অপেক্ষায় বসে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।”

ইতালির রোমে শিক্ষার্থীরা বলছেন, আবাসন খরচের কারণে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। রোমের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এলিসা পাস্তোরে সিএনএন-কে জানান, তিনি ও তার ভাই মিলে যে কক্ষে থাকেন, সেটির ভাড়া জোগাড় করতেই তাদের হিমশিম খেতে হয়। একই ইস্যুতে পর্তুগালেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে; সেখানে হাজার হাজার মানুষ লিসবনে জড়ো হয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসনের দাবি জানিয়েছেন।

ইতালি ও গ্রিসের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরাও উন্নত বিদ্যালয়, বিনামূল্যে সরকারি শিক্ষা এবং জনসেবামূলক খাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের অনেকে স্লোগান দিয়েছেন, “গ্রিস থেকে ফ্রান্স—আমরা চাই সবার জন্য উন্মুক্ত ও বিনামূল্যে শিক্ষা।”

আলবেনিয়ায় গত সপ্তাহে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিলে প্রধানমন্ত্রী এদি রামা পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন এবং এই অস্থিরতার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দায়ী করেন।

একজন বিক্ষোভকারী রয়টার্সকে বলেন, “আমরা পরিবর্তন চাই, আর সে কারণেই আমরা এখানে এসেছি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা বিপ্লব চাই, আমরা নতুন সরকার চাই। আমরা কোনো আলোচনার পথে যেতে চাই না; আমাদের যত দ্রুত সম্ভব একটি নতুন সরকার প্রয়োজন।”

জার্মানিতে ‘জেন জেড রেগেল্ট’, যার অর্থ ‘জেন-জি সব সামলে নেবে’ নামে একটি গোষ্ঠী ৩১ অক্টোবর দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। স্পেনের ট্রেড ইউনিয়নগুলো ১১ নভেম্বর সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এদিকে, ব্রিটেন ও ইতালির ছাত্র সংগঠনগুলো শিক্ষার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে ২০ নভেম্বর একটি কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করছে।

সূত্র : সিএনএন, এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড