টুপি পরা, দাড়ি রাখা কিংবা হিজাব পরার কারণে কটুক্তি ও বৈষম্যের শিকার হন অনেক মুসলমান। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে এমন বিদ্বেষের বিরুদ্ধে এবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। মুসলিমবিদ্বেষের নিন্দা জানাতে গিয়ে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতও তুলে ধরেছেন তিনি।
ফ্লোরিডার এক সমাবেশে বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর ফ্লোরিডার কাইনোনিয়া ওয়ারশিপ সেন্টারে বক্তব্য দেন ক্লিনটন। ‘মাল্টিপল ফেইথস, ওয়ান ফ্লোরিডা’ শীর্ষক আয়োজনটি ছিল ওই রাজ্যের গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী ডেভিড জোলের নির্বাচনী প্রচারের অংশ।
সেখানে ক্লিনটন বলেন, মুসলমানদের শুধু মুসলমান হওয়ার কারণে হেয় করা দেখে তিনি ক্লান্ত। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংঘাত নিয়েও বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গেই মেয়ে চেলসির কোরআন পড়ার স্মৃতি তুলে ধরেন ক্লিনটন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৫ বছর বয়সে পুরো কোরআন পড়েছিলেন চেলসি। পরে বাবাকেও পড়তে উৎসাহিত করেন তিনি। বিশেষ করে একটি আয়াতের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ক্লিনটনের বক্তব্যে আসে সুরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতের মর্মার্থ। ওই আয়াতে মানুষকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যাতে তারা একে অপরকে জানতে পারে। এই বার্তা উল্লেখ করে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পাশাপাশি বলেন, প্রতিটি ধর্মেই খারাপ মানুষ রয়েছে। কারণ মানুষ মাত্রই ত্রুটিপূর্ণ।
ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছে গবেষণাতেও। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক অধিকার সংস্থার ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া মুসলমানদের মধ্যে যারা প্রকাশ্যে ধর্মীয় পোশাক পরেন, তাদের বৈষম্য ও হয়রানির অভিজ্ঞতা তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট।
এ ধরনের বিদ্বেষের পরিবর্তে একে অপরকে জানা ও বোঝার আহ্বান জানিয়েছেন ক্লিনটন। আর সেই আহ্বান জানাতেই তিনি সামনে এনেছেন পবিত্র কোরআনের সম্প্রীতির বার্তা।
Reporter Name 

























