ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মুক্তিযোদ্ধা রতন: স্বদেশপ্রেমে কেঁদেছিল যাঁর মন শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রেরও প্রতিযোগিতা আমি নিজের সঙ্গেই করি : অপু বিশ্বাস ফ্যাসিবাদী আ. লীগের এ দেশে আর রাজনীতির সুযোগ হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম দেশে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আমির হামজার ‘নারীসংক্রান্ত অডিও ও ভিডিও’ পাওয়ার দাবি রাশেদ খানের শান্তি ফিরেছে শিল্পাঞ্চলে, ছুটির দিনেও কর্মচাঞ্চল্য জলবায়ু ঝুঁকিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ আইজেনকোটকে ৬৭ এমপির সমর্থন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন নির্ধারণ রোববার মানবিক মূল্যবোধ, পেশাগত দক্ষতা ও সততাই আইনজীবীর প্রধান শক্তি: আইনমন্ত্রী

হাঁটুব্যথা যে কারণে হয় এবং এ রোগের সঠিক চিকিৎসাপদ্ধতি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭৬ বার

দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্থিসন্ধি হচ্ছে হাঁটু। এটি শরীরের পুরো ওজন বহন করার পাশাপাশি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে, সোজা হয়ে দাঁড়াতে, দৌড়াতে ও বসতে সাহায্য করে। বিভিন্ন বয়সে অনেকে হাঁটু বা কোমর ব্যথায় ভুগে থাকেন। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিরা নামাজ পড়া কিংবা চলাফেরার সময় তীব্র অস্বস্তিতে পড়েন। অনেকে বসে নামাজ পড়তে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করে জোর করে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েন, যার ফলে ব্যথার পরিমাণ বহুলাংশে বেড়ে যায়। এমনকি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা বারবার হাঁটু ভাঁজ করার কারণেও কষ্ট বৃদ্ধি পায়।

হাঁটুব্যথার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সাধারণত আঘাত, লিগামেন্ট ইনজুরি, অস্থিসন্ধির ক্ষয়, অতিরিক্ত ওজন কিংবা জীবাণু সংক্রমণের কারণে এ ব্যথা হয়। এছাড়া কোমরের সমস্যাজনিত ব্যথা হাঁটুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সঠিক দেহভঙ্গির অভাব এবং হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হলেও এই জটিলতা দেখা দেয়। হাঁটু ব্যথার পাশাপাশি ফুলে উঠলে বুঝতে হবে সেখানে প্রদাহ হয়েছে। এমন অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যায় না, বসা থেকে ওঠার সময় কষ্ট হয় এবং হাঁটু পুরোপুরি সোজা বা ভাঁজ করতে সমস্যা দেখা দেয়।

যারা বয়সের কারণে দীর্ঘ দিন ধরে হাঁটুর ব্যথায় ভুগছেন এবং অনেকে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিচ্ছেন, তারা চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্তত একবার বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। নিয়মিত সঠিক ফিজিওথেরাপি গ্রহণ করলে বৃদ্ধ বয়সেও অনেকটাই সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা সম্ভব। চিকিৎসকের নির্দেশে উপযুক্ত ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি এক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রয়োজনে সহায়ক অর্থোপেডিক ডিভাইস ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম করলে হাঁটুর কষ্ট বহুলাংশে কমে আসে।

হাঁটুর সুরক্ষায় চলাফেরার সময় সমান্তরাল রাস্তা ব্যবহার করা উচিত। দীর্ঘক্ষণ টানা দাঁড়িয়ে কাজ না করে মাঝে মাঝে বিশ্রাম নেওয়া এবং হালকা হাঁটাচলা করা দরকার। ভবনে ওঠানামার ক্ষেত্রে লিফট ব্যবহার করাই শ্রেয়, আর সিঁড়ি ব্যবহারে সঠিক নিয়ম মেনে চলা উচিত। নারীদের উঁচু হিল পরিহার করা, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রতিদিন নিয়ম করে কিছুটা সময় সূর্যের আলোতে থাকা প্রয়োজন। সঠিক জীবনযাত্রা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন এবং ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের নির্দেশিত এক্সারসাইজ নিয়মিত চর্চা করলে হাঁটুব্যথা কমিয়ে স্বাভাবিক ও সক্রিয় জীবনযাপন করা সম্ভব।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট, রিঅ্যাকটিভ ফিজিওথেরাপি সেন্টার, তেজগাঁও, ঢাকা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

মুক্তিযোদ্ধা রতন: স্বদেশপ্রেমে কেঁদেছিল যাঁর মন

হাঁটুব্যথা যে কারণে হয় এবং এ রোগের সঠিক চিকিৎসাপদ্ধতি

আপডেট টাইম : ১১:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্থিসন্ধি হচ্ছে হাঁটু। এটি শরীরের পুরো ওজন বহন করার পাশাপাশি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে, সোজা হয়ে দাঁড়াতে, দৌড়াতে ও বসতে সাহায্য করে। বিভিন্ন বয়সে অনেকে হাঁটু বা কোমর ব্যথায় ভুগে থাকেন। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিরা নামাজ পড়া কিংবা চলাফেরার সময় তীব্র অস্বস্তিতে পড়েন। অনেকে বসে নামাজ পড়তে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করে জোর করে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েন, যার ফলে ব্যথার পরিমাণ বহুলাংশে বেড়ে যায়। এমনকি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা বারবার হাঁটু ভাঁজ করার কারণেও কষ্ট বৃদ্ধি পায়।

হাঁটুব্যথার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সাধারণত আঘাত, লিগামেন্ট ইনজুরি, অস্থিসন্ধির ক্ষয়, অতিরিক্ত ওজন কিংবা জীবাণু সংক্রমণের কারণে এ ব্যথা হয়। এছাড়া কোমরের সমস্যাজনিত ব্যথা হাঁটুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সঠিক দেহভঙ্গির অভাব এবং হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হলেও এই জটিলতা দেখা দেয়। হাঁটু ব্যথার পাশাপাশি ফুলে উঠলে বুঝতে হবে সেখানে প্রদাহ হয়েছে। এমন অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যায় না, বসা থেকে ওঠার সময় কষ্ট হয় এবং হাঁটু পুরোপুরি সোজা বা ভাঁজ করতে সমস্যা দেখা দেয়।

যারা বয়সের কারণে দীর্ঘ দিন ধরে হাঁটুর ব্যথায় ভুগছেন এবং অনেকে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিচ্ছেন, তারা চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্তত একবার বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। নিয়মিত সঠিক ফিজিওথেরাপি গ্রহণ করলে বৃদ্ধ বয়সেও অনেকটাই সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা সম্ভব। চিকিৎসকের নির্দেশে উপযুক্ত ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি এক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রয়োজনে সহায়ক অর্থোপেডিক ডিভাইস ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম করলে হাঁটুর কষ্ট বহুলাংশে কমে আসে।

হাঁটুর সুরক্ষায় চলাফেরার সময় সমান্তরাল রাস্তা ব্যবহার করা উচিত। দীর্ঘক্ষণ টানা দাঁড়িয়ে কাজ না করে মাঝে মাঝে বিশ্রাম নেওয়া এবং হালকা হাঁটাচলা করা দরকার। ভবনে ওঠানামার ক্ষেত্রে লিফট ব্যবহার করাই শ্রেয়, আর সিঁড়ি ব্যবহারে সঠিক নিয়ম মেনে চলা উচিত। নারীদের উঁচু হিল পরিহার করা, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রতিদিন নিয়ম করে কিছুটা সময় সূর্যের আলোতে থাকা প্রয়োজন। সঠিক জীবনযাত্রা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন এবং ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের নির্দেশিত এক্সারসাইজ নিয়মিত চর্চা করলে হাঁটুব্যথা কমিয়ে স্বাভাবিক ও সক্রিয় জীবনযাপন করা সম্ভব।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট, রিঅ্যাকটিভ ফিজিওথেরাপি সেন্টার, তেজগাঁও, ঢাকা