ঢাকা ১০:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শূন্য থেকে শিখরে ওঠার গল্প, ‘স্মার্ট উদ্যোক্তা’ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার জন্য নয়, রাজনীতি হতে হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য : এলজিআরডি মন্ত্রী ৭ নভেম্বর গ্রাম পুলিশ সমাবেশ, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১১ কর্মকর্তার পদোন্নতি ধর্ম যার যার এই বাংলাদেশ সবার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এখন রিকশাচালক হিসেবে হাজির হয়েছে : চিফ হুইপ নিষেধাজ্ঞার মাঝেও চলছে ইলিশ শিকার নতুন বাজেটে প্রবাসী শ্রমিকদের সুখবর দিল মালয়েশিয়া

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংস্কার শেষ, চিকিৎসাসেবা চালুতে দরকার আসবাব ও যন্ত্রপাতি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৮:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ বার

হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর সংস্কার করে মিরপুর ১ এর রাড্ডা এমসিএইচ–এফপি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় আসবাব ও চিকিৎসার সরঞ্জাম জোগাড় করতে পারলেই পুরোদমে সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটির মূল ভবনের সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। নতুন করে তৈরি করা হয়েছে টিনের ছাউনি, সংস্কার করা হয়েছে কর্মীদের খাবার ঘর। ভবনের সামনের ও পেছনের ভাঙা দেয়াল নতুনভাবে ইটের গাঁথুনি দিয়ে নির্মাণ করে প্লাস্টার করা হয়েছে। পেছনের সীমানাপ্রাচীরেও অর্ধেক দেয়াল তুলে সাদা রং করা হয়েছে। নতুন করে দেওয়া হয়েছে পানির সংযোগ, বসানো হয়েছে পানির কল।

তবে ভবনটি ব্যবহার উপযোগী হলেও স্বাস্থ্যসেবার পূর্ণাঙ্গ আসবাব ও চিকিৎসার সরঞ্জাম জোগাড় শেষ হয়নি এখন। তবে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে রাড্ডার মিরপুর১০ কেন্দ্র থেকে কিছু পুরোনো আসবাব ওই কেন্দ্রে নিয়ে রাখা হচ্ছে।

কেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, সংস্কারকাজ শেষ হওয়ায় এখন সেবা কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আসবাবের ব্যবস্থা করতে হবে। কিছু জিনিস উদ্ধার করা গেলেও সেগুলোর ব্যবহার উপযোগী আছে কি তা যাচাই করা প্রয়োজন। চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি চালু করতে আরও কিছু সরঞ্জাম ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা দরকার।

নাসরিন আখতার আরও বলেন, হামলার পরও টিকা দিতে আসা শিশু, মা ও অন্য সেবাপ্রার্থীদের অনেকে কেন্দ্রে আসছেন। আবার ভাঙচুরের কারণে সেবা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে কারও কারও মধ্যে সংশয়ও রয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন হলে নিয়মিত সেবা কার্যক্রম চালু করা সহজ হবে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর ১ এর রাড্ডা এমসিএইচ–এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশি অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওষুধ, টিকা, চিকিৎসার সরঞ্জাম ও অন্যান্য সামগ্রী লুট করে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানারে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

হামলার পর ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রটিতে হাম-রুবেলাসহ ইপিআই টিকাদান শুরু হয়। প্রথম দুই দিন ফটকের বাইরে খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল টানিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়া হয়। পরে ভাঙচুর করা কক্ষগুলো পরিষ্কার করে সীমিত পরিসরে সেবা চালু করা হয়। পর্যায়ক্রমে মায়েদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়ার কাজও শুরু হয়।

দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে রাড্ডা এমসিএইচ–এফপি শিশুদেরকে টিকাদান, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে। সংস্কার শেষে ভবনটি ব্যবহারের উপযোগী হলেও এখন কেন্দ্রটির সামনে পরবর্তী কাজ হলো প্রয়োজনীয় আসবাব, চিকিৎসার সরঞ্জাম ও অন্যান্য উপকরণ জোগাড় করে স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শূন্য থেকে শিখরে ওঠার গল্প, ‘স্মার্ট উদ্যোক্তা’ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংস্কার শেষ, চিকিৎসাসেবা চালুতে দরকার আসবাব ও যন্ত্রপাতি

আপডেট টাইম : ০৮:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর সংস্কার করে মিরপুর ১ এর রাড্ডা এমসিএইচ–এফপি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় আসবাব ও চিকিৎসার সরঞ্জাম জোগাড় করতে পারলেই পুরোদমে সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটিতে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটির মূল ভবনের সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। নতুন করে তৈরি করা হয়েছে টিনের ছাউনি, সংস্কার করা হয়েছে কর্মীদের খাবার ঘর। ভবনের সামনের ও পেছনের ভাঙা দেয়াল নতুনভাবে ইটের গাঁথুনি দিয়ে নির্মাণ করে প্লাস্টার করা হয়েছে। পেছনের সীমানাপ্রাচীরেও অর্ধেক দেয়াল তুলে সাদা রং করা হয়েছে। নতুন করে দেওয়া হয়েছে পানির সংযোগ, বসানো হয়েছে পানির কল।

তবে ভবনটি ব্যবহার উপযোগী হলেও স্বাস্থ্যসেবার পূর্ণাঙ্গ আসবাব ও চিকিৎসার সরঞ্জাম জোগাড় শেষ হয়নি এখন। তবে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে রাড্ডার মিরপুর১০ কেন্দ্র থেকে কিছু পুরোনো আসবাব ওই কেন্দ্রে নিয়ে রাখা হচ্ছে।

কেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, সংস্কারকাজ শেষ হওয়ায় এখন সেবা কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আসবাবের ব্যবস্থা করতে হবে। কিছু জিনিস উদ্ধার করা গেলেও সেগুলোর ব্যবহার উপযোগী আছে কি তা যাচাই করা প্রয়োজন। চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি চালু করতে আরও কিছু সরঞ্জাম ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা দরকার।

নাসরিন আখতার আরও বলেন, হামলার পরও টিকা দিতে আসা শিশু, মা ও অন্য সেবাপ্রার্থীদের অনেকে কেন্দ্রে আসছেন। আবার ভাঙচুরের কারণে সেবা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে কারও কারও মধ্যে সংশয়ও রয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন হলে নিয়মিত সেবা কার্যক্রম চালু করা সহজ হবে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর ১ এর রাড্ডা এমসিএইচ–এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশি অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওষুধ, টিকা, চিকিৎসার সরঞ্জাম ও অন্যান্য সামগ্রী লুট করে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানারে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

হামলার পর ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রটিতে হাম-রুবেলাসহ ইপিআই টিকাদান শুরু হয়। প্রথম দুই দিন ফটকের বাইরে খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল টানিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়া হয়। পরে ভাঙচুর করা কক্ষগুলো পরিষ্কার করে সীমিত পরিসরে সেবা চালু করা হয়। পর্যায়ক্রমে মায়েদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়ার কাজও শুরু হয়।

দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে রাড্ডা এমসিএইচ–এফপি শিশুদেরকে টিকাদান, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে। সংস্কার শেষে ভবনটি ব্যবহারের উপযোগী হলেও এখন কেন্দ্রটির সামনে পরবর্তী কাজ হলো প্রয়োজনীয় আসবাব, চিকিৎসার সরঞ্জাম ও অন্যান্য উপকরণ জোগাড় করে স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা।