অপরাধের সাজা ভোগ করতে গিয়ে খুঁজে পেয়েছেন জীবনের নতুন অর্থ। যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে বন্দি অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করছেন বহু বন্দি। কারাগারের কঠিন জীবনে আত্মিক শান্তি, শৃঙ্খলা ও মানবিকতা ফিরে পাওয়ার গল্প উঠে এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে।
সিবিএস নিউজের ‘দ্য স্টেট অব স্পিরিচুয়ালিটি’ সিরিজের প্রতিবেদনে কারাগারে বন্দিদের ইসলাম গ্রহণ এবং তাদের জীবনের পরিবর্তনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের তাইবা ফাউন্ডেশন কারাগারে থাকা বন্দিদের দূরশিক্ষণের মাধ্যমে ইসলামি শিক্ষা ও পরামর্শ দিয়ে থাকে। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রামি নসুরের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মাধ্যমে ১৩ হাজারের বেশি মানুষ সেবা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে তার ধারণা।
এমনই একজন মুহাম্মদ আমিন অ্যান্ডারসন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার ঘটনায় ৩০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তিনি। অ্যান্ডারসন জানান, কারাগারে যাওয়ার আগে তিনি মাদকাসক্তি ও অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিলেন। কারাগারে নিজের জীবন ও বিশ্বাস নিয়ে ভাবতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে জানতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। অ্যান্ডারসনের ভাষায়, কারাগারে আসার পর তিনি নিজের হারিয়ে যাওয়া মানবিকতা ফিরে পেয়েছেন।
কারাগারে থাকাকালে রামি নসুরের কাছ থেকে ইসলামি শিক্ষা নেন অ্যান্ডারসন। তাকে বই ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রীও পাঠানো হয়। পরে কারাগারে অন্য বন্দিদের ইসলাম শিক্ষা দেওয়ার সুযোগ পান তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়মিত নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন অনেক বন্দির আচরণে পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখছে। বন্দিদের এই পরিবর্তন দেখে অন্যরাও ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহী হচ্ছেন বলে জানান রামি নসুর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ণ মেয়াদে সাজা ভোগের পর গত জুলাইয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পান অ্যান্ডারসন। বর্তমানে তিনি তাইবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করছেন। নিজের জীবনে পাওয়া দ্বিতীয় সুযোগ মানুষের সেবায় কাজে লাগাতে চান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ইসলাম গ্রহণের এই গল্পগুলো দেখায়, কঠিন পরিস্থিতিতেও মানুষ নিজের জীবন ও আচরণ পরিবর্তনের পথ খুঁজে পেতে চায়। তবে দেশটির কারাগারে প্রতিবছর কতোজন ইসলাম গ্রহণ করছেন, তার নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
Reporter Name 

























