ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদাবর ও মোহাম্মদপুরে তাণ্ডব: সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার ১৩

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৭ বার
রাজধানীর আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে একটি বহুতল ভবনে সশস্ত্র হামলা এবং মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে প্রকাশ্যে টিনের বেড়া ভেঙে জমি দখলের পৃথক দুই ঘটনায় অভিযান চালিয়ে মোট ১৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে পাঠানো পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, আদাবরের বহুতল ভবনে হামলায় জড়িত ৫ জন এবং মোহাম্মদপুরে জমি দখলের চেষ্টার ঘটনায় ৮ জন সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হয়েছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জনের একদল মুখোশধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী রামদা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ের ৬ নম্বর সড়কের ৪১ ও ৪২ নম্বর প্লটে অবস্থিত ভবনে হামলা চালায়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভবনের নিরাপত্তাকর্মী ও অধিবাসীরা গেট খুলতে অস্বীকৃতি জানালে মুখোশধারীরা রামদা ও ইট দিয়ে মূল ফটক এবং জানালার গ্লাস কোপাতে ও ভাঙচুর করতে থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, গত প্রায় দেড় বছর ধরে অপরাধী চক্রটি এই পুরো ভবন বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছিল। চলতি বছরের মার্চ মাসে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দখলদারদের গ্রেপ্তার করে মূল মালিকের হাতে ভবনটি বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু কারামুক্ত ও বাইরে থাকা আসামিরা পুনরায় সেখানে তাণ্ডব চালায়। এই বর্বরোচিত ঘটনায় ভবনের মালিক বাদী হয়ে খুরশিদ আলম খানসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ এবং ২০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে আদাবর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
অন্যদিকে, মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে প্রকাশ্যে জমি দখলের তাণ্ডব চালিয়েছে আরেকটি বিশাল বাহিনী। গত শনিবার সকালে বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে চাঁদ উদ্যানের ‘রোজ ভিলা’ লাগোয়া জমিতে থাকা একটি রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ জন লোক অনধিকার প্রবেশ করে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে নগদ টাকা ও দামি যন্ত্রপাতি লুট করে এবং পরে স্থানটি টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে দখলের পাঁয়তারা করে।
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে তাণ্ডবের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর কার্যালয়ের কর্মী আনোয়ার হোসেন রিপন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ ও ২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জানান। তদন্তে নেমে পুলিশ লিমন (২৩) ও মনোয়ার হোসেন সাদ্দাম (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করে, তারা মূলত টাকার চুক্তিতে ছিনতাই, পেশাদারি মারামারি এবং জোরপূর্বক জমি দখলের কাজ করে আসছিল।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফা আখতার প্রীতি নিশ্চিত করেন, চাঁদ উদ্যানের ওই ঘটনায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তসহ মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জমিটি স্থানীয় এক ব্যক্তির দখলে ছিল, কিন্তু জনি ও রেজাউল নামের দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে ওই বিশাল বাহিনী পাঠিয়া জবরদখলের অপচেষ্টা চালানো হয় বলে পুলিশ জানায়। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি ও পাল্টাপাল্টি বিরোধ রয়েছে। কোনো পক্ষকেই আইনশৃঙ্খলা হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না; বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে মীমাংসা হতে হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

আদাবর ও মোহাম্মদপুরে তাণ্ডব: সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার ১৩

আপডেট টাইম : ১১:৫৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে একটি বহুতল ভবনে সশস্ত্র হামলা এবং মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে প্রকাশ্যে টিনের বেড়া ভেঙে জমি দখলের পৃথক দুই ঘটনায় অভিযান চালিয়ে মোট ১৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে পাঠানো পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, আদাবরের বহুতল ভবনে হামলায় জড়িত ৫ জন এবং মোহাম্মদপুরে জমি দখলের চেষ্টার ঘটনায় ৮ জন সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হয়েছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জনের একদল মুখোশধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী রামদা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ের ৬ নম্বর সড়কের ৪১ ও ৪২ নম্বর প্লটে অবস্থিত ভবনে হামলা চালায়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভবনের নিরাপত্তাকর্মী ও অধিবাসীরা গেট খুলতে অস্বীকৃতি জানালে মুখোশধারীরা রামদা ও ইট দিয়ে মূল ফটক এবং জানালার গ্লাস কোপাতে ও ভাঙচুর করতে থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, গত প্রায় দেড় বছর ধরে অপরাধী চক্রটি এই পুরো ভবন বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছিল। চলতি বছরের মার্চ মাসে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দখলদারদের গ্রেপ্তার করে মূল মালিকের হাতে ভবনটি বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু কারামুক্ত ও বাইরে থাকা আসামিরা পুনরায় সেখানে তাণ্ডব চালায়। এই বর্বরোচিত ঘটনায় ভবনের মালিক বাদী হয়ে খুরশিদ আলম খানসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ এবং ২০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে আদাবর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
অন্যদিকে, মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে প্রকাশ্যে জমি দখলের তাণ্ডব চালিয়েছে আরেকটি বিশাল বাহিনী। গত শনিবার সকালে বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে চাঁদ উদ্যানের ‘রোজ ভিলা’ লাগোয়া জমিতে থাকা একটি রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ জন লোক অনধিকার প্রবেশ করে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে নগদ টাকা ও দামি যন্ত্রপাতি লুট করে এবং পরে স্থানটি টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে দখলের পাঁয়তারা করে।
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে তাণ্ডবের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর কার্যালয়ের কর্মী আনোয়ার হোসেন রিপন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ ও ২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জানান। তদন্তে নেমে পুলিশ লিমন (২৩) ও মনোয়ার হোসেন সাদ্দাম (২৫) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করে, তারা মূলত টাকার চুক্তিতে ছিনতাই, পেশাদারি মারামারি এবং জোরপূর্বক জমি দখলের কাজ করে আসছিল।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফা আখতার প্রীতি নিশ্চিত করেন, চাঁদ উদ্যানের ওই ঘটনায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তসহ মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জমিটি স্থানীয় এক ব্যক্তির দখলে ছিল, কিন্তু জনি ও রেজাউল নামের দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে ওই বিশাল বাহিনী পাঠিয়া জবরদখলের অপচেষ্টা চালানো হয় বলে পুলিশ জানায়। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি ও পাল্টাপাল্টি বিরোধ রয়েছে। কোনো পক্ষকেই আইনশৃঙ্খলা হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না; বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে মীমাংসা হতে হবে।